ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঘোড়াঘাটে হামলা-শ্লীলতাহানির অভিযোগ, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা



ঘোড়াঘাটে হামলা-শ্লীলতাহানির অভিযোগ, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত । প্রতীকী

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক সংখ্যালঘু আদিবাসী নারী, তার তিন বছরের শিশু সন্তান ও স্বজনদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্রীমতি দ্বিনুকা টুডু রিনা (২৬) দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত, ঘোড়াঘাট)-এ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।

আদালতে দাখিল করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলার আবিরের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সেদিন বাদীর খালাতো ভাই শ্রী রতন মার্ডি ও একজন অটোভ্যানচালক তার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাড়িতে অবস্থানকালে স্থানীয় প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্ব শত্রুতার জেরে অকারণে গালিগালাজ শুরু করে। এর প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মামলায় বলা হয়েছে, রাত প্রায় ৯টার দিকে রতন মার্ডি ও ভ্যানচালক বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে এবং ভ্যান থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে।

স্বজনদের চিৎকার শুনে দ্বিনুকা টুডু তার তিন বছরের ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন অভিযুক্ত তাকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখে। এরপর আরেক অভিযুক্ত তার বুকে লাথি মারেন এবং অন্য একজন বাঁশের লাঠি দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন।

এ সময় অভিযুক্তদের একজন বাদীর কোল থেকে তিন বছরের শিশুকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শিশুটির ডান পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। একই সঙ্গে বাদীর গলা থেকে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মামলা করলে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসা শেষে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে বাদী উল্লেখ করেছেন। এ কারণেই মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩৭৯, ৩৫৪, ৫০৬ (দ্বিতীয় অংশ), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন: মো. জয়নুদ্দিন (৩২), মো. মিস্টার আলী (৩২), মো. হান্নান শেখ (২২), মো. আমাজ্জল হোসেন (৪৮), মো. আশাদুল ইসলাম (২৮), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৪৫) এবং শ্রী গোবিন্দ (২২)। তারা সবাই ঘোড়াঘাট উপজেলার আবিরের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঘোড়াঘাটে হামলা-শ্লীলতাহানির অভিযোগ, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক সংখ্যালঘু আদিবাসী নারী, তার তিন বছরের শিশু সন্তান ও স্বজনদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্রীমতি দ্বিনুকা টুডু রিনা (২৬) দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত, ঘোড়াঘাট)-এ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।

আদালতে দাখিল করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলার আবিরের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সেদিন বাদীর খালাতো ভাই শ্রী রতন মার্ডি ও একজন অটোভ্যানচালক তার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাড়িতে অবস্থানকালে স্থানীয় প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্ব শত্রুতার জেরে অকারণে গালিগালাজ শুরু করে। এর প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মামলায় বলা হয়েছে, রাত প্রায় ৯টার দিকে রতন মার্ডি ও ভ্যানচালক বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে এবং ভ্যান থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে।

স্বজনদের চিৎকার শুনে দ্বিনুকা টুডু তার তিন বছরের ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন অভিযুক্ত তাকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখে। এরপর আরেক অভিযুক্ত তার বুকে লাথি মারেন এবং অন্য একজন বাঁশের লাঠি দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন।

এ সময় অভিযুক্তদের একজন বাদীর কোল থেকে তিন বছরের শিশুকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শিশুটির ডান পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। একই সঙ্গে বাদীর গলা থেকে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মামলা করলে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসা শেষে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে বাদী উল্লেখ করেছেন। এ কারণেই মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩৭৯, ৩৫৪, ৫০৬ (দ্বিতীয় অংশ), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন: মো. জয়নুদ্দিন (৩২), মো. মিস্টার আলী (৩২), মো. হান্নান শেখ (২২), মো. আমাজ্জল হোসেন (৪৮), মো. আশাদুল ইসলাম (২৮), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৪৫) এবং শ্রী গোবিন্দ (২২)। তারা সবাই ঘোড়াঘাট উপজেলার আবিরের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ