অনলাইন ট্রেডিং অ্যাপে বিনিয়োগ করে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার ফাঁদ পেতেছিল একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এই চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. হাবিব মিয়া (৩০) ও নাজমুল হোসেন (৪১)। চক্রের মূলহোতা হাবিব মিয়া বলে জানিয়েছে পিবিআই। তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রয়েছে।
পিবিআই জানায়, পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ জুলাই রাতে ঢাকার বাড্ডা এলাকার আফতাবনগর থেকে প্রথমে নাজমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া এলাকার ‘সুগন্ধি প্লাস রেস্টুরেন্ট’-এর সামনে থেকে চক্রের মূলহোতা হাবিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে নিজেকে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচয় দেয় এক প্রতারক। পরে একটি ভুয়া অনলাইন ট্রেডিং ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে বিনিয়োগ করলে উচ্চ মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রলোভন দেখানো হয়।
বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথমে ওই ব্যবসায়ীকে দিয়ে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করানো হয় এবং তার অ্যাকাউন্টে লাভ বা প্রফিট দেখানো হয়। এতে প্রলুব্ধ হয়ে ওই ব্যবসায়ী গত ১০ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত বিভিন্ন বিকাশ নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মোট ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা ওই চক্রের হাতে তুলে দেন। এরপরই প্রতারকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ইমো ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করতেন। এরপর অনলাইন ট্রেডিং ও বিনিয়োগের নামে অর্থ আদায় করে তা দ্রুত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে (ডিজিটাল মুদ্রা) রূপান্তর করে ফেলতেন। এই ক্রিপ্টোকারেন্সি পরবর্তীতে বিদেশে থাকা তাদের সহযোগীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতারক চক্রের সদস্যরা কম্বোডিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক চালিয়ে আসছিল।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ৮ জুলাই তাদের পুনরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
অনলাইন ট্রেডিং অ্যাপে বিনিয়োগ করে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার ফাঁদ পেতেছিল একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এই চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. হাবিব মিয়া (৩০) ও নাজমুল হোসেন (৪১)। চক্রের মূলহোতা হাবিব মিয়া বলে জানিয়েছে পিবিআই। তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রয়েছে।
পিবিআই জানায়, পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ জুলাই রাতে ঢাকার বাড্ডা এলাকার আফতাবনগর থেকে প্রথমে নাজমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া এলাকার ‘সুগন্ধি প্লাস রেস্টুরেন্ট’-এর সামনে থেকে চক্রের মূলহোতা হাবিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে নিজেকে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচয় দেয় এক প্রতারক। পরে একটি ভুয়া অনলাইন ট্রেডিং ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে বিনিয়োগ করলে উচ্চ মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রলোভন দেখানো হয়।
বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথমে ওই ব্যবসায়ীকে দিয়ে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করানো হয় এবং তার অ্যাকাউন্টে লাভ বা প্রফিট দেখানো হয়। এতে প্রলুব্ধ হয়ে ওই ব্যবসায়ী গত ১০ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত বিভিন্ন বিকাশ নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মোট ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা ওই চক্রের হাতে তুলে দেন। এরপরই প্রতারকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ইমো ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করতেন। এরপর অনলাইন ট্রেডিং ও বিনিয়োগের নামে অর্থ আদায় করে তা দ্রুত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে (ডিজিটাল মুদ্রা) রূপান্তর করে ফেলতেন। এই ক্রিপ্টোকারেন্সি পরবর্তীতে বিদেশে থাকা তাদের সহযোগীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতারক চক্রের সদস্যরা কম্বোডিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক চালিয়ে আসছিল।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ৮ জুলাই তাদের পুনরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন