নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইরে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে মো. সিজান নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে মামলাটি রেকর্ড করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
ওসি জানান, “মরদেহ দাফনের পর নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।”
মুফতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০): পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি।
আব্দুল গনি (৫০): জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক।
জিলানী ফকির (৫৫): জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা আজহার রাজমিস্ত্রী (৫৫), সাইদুল (৪২), আলম (৩৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী শিল্পী বেগম উল্লেখ করেন, নিহত সিজান তাঁর ছোট ছেলে। সে একসময় অসৎ সঙ্গে বিপথে গেলেও পরিবারের চেষ্টায় ভালো পথে ফিরে এসেছিল। এজন্য তাকে তাবলীগেও পাঠানো হয়েছিল এবং সে তাঁর বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল।
গত শনিবার বিকেলে অনিক (২৮) নামে এক যুবককে মোবাইল চোর সন্দেহে আটকে পশ্চিম মাসদাইরের 'আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন'-এর কার্যালয়ের সামনে মারধর করছিল অভিযুক্তরা। অনিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল চারটার দিকে সিজানকে তাঁর বাসার সামনে থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহতের মা বলেন,
“এক পর্যায়ে তারা দুʼজনকে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। ব্যথায় চিৎকার করলে অভিযুক্তরা সিজানের মুখে কালো কাপড় বেঁধে পেটায়। খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে তাদেরকে অনেক অনুনয় বিনয় করি, কিন্তু তারা আমার সামনে আমার ছেলেকে পেটাতেই থাকে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে অচেতন অবস্থায় আমার ছেলেকে আমার জিম্মায় দেয়।”
পরে সিজানকে গুরুতর অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সবাই আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সদস্য। তারা সংগঠনের নামে এলাকায় প্রায় সময় তথাকথিত 'মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী' অভিযান চালাতেন। এর আগেও এই সংগঠনের নামে একাধিক ব্যক্তিকে ধরে এনে মারধর করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
সিজান ও অনিককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেটানোর একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার রাতে মুফতি কাউছার কাসেমীর একটি ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, “যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবো না। ইনশাআল্লাহ কোনো মামলা হামলা কিচ্ছু হবে না। ঘটনার পরদিন অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মুফতি কাউছার কাসেমী দাবি করেন, সিজান মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারী ছিল এবং উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করেছে, তারা জড়িত নন। একই দাবি করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও ওলামা দল নেতা জিলানী ফকিরও। তবে আজ সোমবার দুপুর থেকে তাদের দুইজনেরই মুঠোফোন বন্ধ থাকায় মামলার বিষয়ে নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইরে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে মো. সিজান নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে মামলাটি রেকর্ড করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
ওসি জানান, “মরদেহ দাফনের পর নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।”
মুফতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০): পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি।
আব্দুল গনি (৫০): জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক।
জিলানী ফকির (৫৫): জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা আজহার রাজমিস্ত্রী (৫৫), সাইদুল (৪২), আলম (৩৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী শিল্পী বেগম উল্লেখ করেন, নিহত সিজান তাঁর ছোট ছেলে। সে একসময় অসৎ সঙ্গে বিপথে গেলেও পরিবারের চেষ্টায় ভালো পথে ফিরে এসেছিল। এজন্য তাকে তাবলীগেও পাঠানো হয়েছিল এবং সে তাঁর বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল।
গত শনিবার বিকেলে অনিক (২৮) নামে এক যুবককে মোবাইল চোর সন্দেহে আটকে পশ্চিম মাসদাইরের 'আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন'-এর কার্যালয়ের সামনে মারধর করছিল অভিযুক্তরা। অনিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল চারটার দিকে সিজানকে তাঁর বাসার সামনে থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহতের মা বলেন,
“এক পর্যায়ে তারা দুʼজনকে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। ব্যথায় চিৎকার করলে অভিযুক্তরা সিজানের মুখে কালো কাপড় বেঁধে পেটায়। খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে তাদেরকে অনেক অনুনয় বিনয় করি, কিন্তু তারা আমার সামনে আমার ছেলেকে পেটাতেই থাকে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে অচেতন অবস্থায় আমার ছেলেকে আমার জিম্মায় দেয়।”
পরে সিজানকে গুরুতর অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সবাই আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সদস্য। তারা সংগঠনের নামে এলাকায় প্রায় সময় তথাকথিত 'মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী' অভিযান চালাতেন। এর আগেও এই সংগঠনের নামে একাধিক ব্যক্তিকে ধরে এনে মারধর করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
সিজান ও অনিককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেটানোর একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার রাতে মুফতি কাউছার কাসেমীর একটি ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, “যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবো না। ইনশাআল্লাহ কোনো মামলা হামলা কিচ্ছু হবে না। ঘটনার পরদিন অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মুফতি কাউছার কাসেমী দাবি করেন, সিজান মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারী ছিল এবং উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করেছে, তারা জড়িত নন। একই দাবি করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও ওলামা দল নেতা জিলানী ফকিরও। তবে আজ সোমবার দুপুর থেকে তাদের দুইজনেরই মুঠোফোন বন্ধ থাকায় মামলার বিষয়ে নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন