খুলনার ফুলবাড়ীগেট এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এজ্যাক্স জুট মিলকে ঘিরে আবারও অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করেই মিলটির সাবেক মালিক কাওছার জামান (বাবলা) পুনরায় মিলটি বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এজ্যাক্স জুট মিল একসময় খুলনা অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। স্থানীয় অর্থনীতি এবং হাজারো শ্রমিক-কর্মচারীর জীবিকার অন্যতম ভিত্তি ছিল এই প্রতিষ্ঠান। তবে শ্রমিকদের দাবি, ২০১৩ সালে তৎকালীন মালিক কাওছার জামান (বাবলা) শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করেই মিলটি বন্ধ (লে-অফ) ঘোষণা করেন। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, এ সংকটময় সময়ে সিবিএ, নন-সিবিএ এবং বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা বর্তমান মালিক এম. এ. মান্নান তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা শ্রমিকদের দুর্দশা এবং মিলটি পুনরায় চালু হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন। মানবিক বিবেচনায় তিনি মিলটি ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে বৈধ চুক্তির মাধ্যমে মিলটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে শ্রমিকদের দাবি।
শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর এম. এ. মান্নান তালুকদার ধাপে ধাপে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনার একটি বড় অংশ, ব্যাংক ঋণের আংশিক বকেয়া, পাট সরবরাহকারীদের পাওনা, বিদ্যুৎ বিল, সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া কর এবং মালিকপক্ষের প্রায় ৯০ শতাংশ আর্থিক দায় পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রায় ৮০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধ করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সময় প্রভাবশালী একটি মহল মান্নান তালুকদারের কাছে চাঁদা দাবি করে। পরে তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা হয় এবং তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। শ্রমিকদের দাবি, তাঁর কারাবাসের সময় কিছু ব্যক্তি মিলের খালি জায়গা ভাড়া দিয়ে এবং মেশিনপত্র বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।
শ্রমিকদের ভাষ্য, প্রায় ছয় থেকে সাত বছর কারাভোগের পর গত বছর এম. এ. মান্নান তালুকদার মুক্তি লাভ করেন। মুক্তির পর গত ঈদুল আজহার আগে খানজাহান আলী থানা বিএনপির কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতে বর্তমান শ্রমিকদের একটি অংশের বকেয়া পরিশোধ করেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
শ্রমিকদের দাবি, মান্নান তালুকদার প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদের একটি বড় অংশ এখনও বিভিন্ন মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে রয়েছে। এসব আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি হলে তিনি খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুলের উপস্থিতিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের অবশিষ্ট সব বকেয়া ও দেনা-পাওনা পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান সময়ে সাবেক মালিক কাওছার জামান (বাবলা) আবারও মিলটি বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মালিকানা নিয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং শ্রমিকদের অবশিষ্ট পাওনা আদায় আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
শ্রমিকরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জেলা প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত এবং মালিকানা-সংক্রান্ত আইনি বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এজ্যাক্স জুট মিলের মালিকানা হস্তান্তর বা বিক্রির কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে সাবেক মালিক কাওছার জামান (বাবলা) বা তাঁর প্রতিনিধিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
খুলনার ফুলবাড়ীগেট এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এজ্যাক্স জুট মিলকে ঘিরে আবারও অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করেই মিলটির সাবেক মালিক কাওছার জামান (বাবলা) পুনরায় মিলটি বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এজ্যাক্স জুট মিল একসময় খুলনা অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। স্থানীয় অর্থনীতি এবং হাজারো শ্রমিক-কর্মচারীর জীবিকার অন্যতম ভিত্তি ছিল এই প্রতিষ্ঠান। তবে শ্রমিকদের দাবি, ২০১৩ সালে তৎকালীন মালিক কাওছার জামান (বাবলা) শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করেই মিলটি বন্ধ (লে-অফ) ঘোষণা করেন। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, এ সংকটময় সময়ে সিবিএ, নন-সিবিএ এবং বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা বর্তমান মালিক এম. এ. মান্নান তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা শ্রমিকদের দুর্দশা এবং মিলটি পুনরায় চালু হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন। মানবিক বিবেচনায় তিনি মিলটি ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে বৈধ চুক্তির মাধ্যমে মিলটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে শ্রমিকদের দাবি।
শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর এম. এ. মান্নান তালুকদার ধাপে ধাপে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনার একটি বড় অংশ, ব্যাংক ঋণের আংশিক বকেয়া, পাট সরবরাহকারীদের পাওনা, বিদ্যুৎ বিল, সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া কর এবং মালিকপক্ষের প্রায় ৯০ শতাংশ আর্থিক দায় পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রায় ৮০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধ করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সময় প্রভাবশালী একটি মহল মান্নান তালুকদারের কাছে চাঁদা দাবি করে। পরে তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা হয় এবং তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। শ্রমিকদের দাবি, তাঁর কারাবাসের সময় কিছু ব্যক্তি মিলের খালি জায়গা ভাড়া দিয়ে এবং মেশিনপত্র বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।
শ্রমিকদের ভাষ্য, প্রায় ছয় থেকে সাত বছর কারাভোগের পর গত বছর এম. এ. মান্নান তালুকদার মুক্তি লাভ করেন। মুক্তির পর গত ঈদুল আজহার আগে খানজাহান আলী থানা বিএনপির কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতে বর্তমান শ্রমিকদের একটি অংশের বকেয়া পরিশোধ করেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
শ্রমিকদের দাবি, মান্নান তালুকদার প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদের একটি বড় অংশ এখনও বিভিন্ন মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে রয়েছে। এসব আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি হলে তিনি খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুলের উপস্থিতিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের অবশিষ্ট সব বকেয়া ও দেনা-পাওনা পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান সময়ে সাবেক মালিক কাওছার জামান (বাবলা) আবারও মিলটি বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মালিকানা নিয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং শ্রমিকদের অবশিষ্ট পাওনা আদায় আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
শ্রমিকরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জেলা প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত এবং মালিকানা-সংক্রান্ত আইনি বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এজ্যাক্স জুট মিলের মালিকানা হস্তান্তর বা বিক্রির কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে সাবেক মালিক কাওছার জামান (বাবলা) বা তাঁর প্রতিনিধিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন