ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঘোড়াঘাটে দপ্তরি নিয়োগে তোলপাড়: বয়স জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের অভিযোগ



ঘোড়াঘাটে দপ্তরি নিয়োগে তোলপাড়: বয়স জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের অভিযোগ
ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী পদে বয়স জালিয়াতি ও ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহল ও তৎকালীন এক অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগ ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে রিয়াজুল নামের এক ব্যক্তিকে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ওই পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই শর্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগ সংক্রান্ত নথিতে জমা দেওয়া জন্মসনদে রিয়াজুলের জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮২। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন তথ্যভান্ডার পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার প্রকৃত জন্মতারিখ ২ জুলাই ১৯৭৫। সে হিসাবে নিয়োগের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৩৭ বছর ৭ মাস, যা নির্ধারিত বয়সসীমার অনেক বেশি।

শুধু বয়স নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের জন্য তিনি কৃষ্ণরামপুর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসাটির সংরক্ষিত নথিতে ওই ধরনের কোনো প্রত্যয়নপত্র ইস্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে তার শিক্ষাগত সনদের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এতসব অভিযোগের পরও কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, “নিয়োগের সময় আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। তবে শুনেছি, তৎকালীন এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে ওই নিয়োগ হয়েছিল।”

অন্যদিকে, নিয়োগ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরি নিয়মিত নবায়ন করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, “যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেকেই চাকরি পাইনি। অথচ রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বছরের পর বছর চাকরি করে যাচ্ছেন। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অতীতে সরকারি চাকরিতে সংঘটিত অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত যোগ্য ও বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত সুযোগ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


ঘোড়াঘাটে দপ্তরি নিয়োগে তোলপাড়: বয়স জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী পদে বয়স জালিয়াতি ও ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহল ও তৎকালীন এক অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগ ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে রিয়াজুল নামের এক ব্যক্তিকে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ওই পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই শর্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগ সংক্রান্ত নথিতে জমা দেওয়া জন্মসনদে রিয়াজুলের জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮২। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন তথ্যভান্ডার পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার প্রকৃত জন্মতারিখ ২ জুলাই ১৯৭৫। সে হিসাবে নিয়োগের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৩৭ বছর ৭ মাস, যা নির্ধারিত বয়সসীমার অনেক বেশি।

শুধু বয়স নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের জন্য তিনি কৃষ্ণরামপুর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসাটির সংরক্ষিত নথিতে ওই ধরনের কোনো প্রত্যয়নপত্র ইস্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে তার শিক্ষাগত সনদের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এতসব অভিযোগের পরও কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, “নিয়োগের সময় আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। তবে শুনেছি, তৎকালীন এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে ওই নিয়োগ হয়েছিল।”

অন্যদিকে, নিয়োগ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরি নিয়মিত নবায়ন করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, “যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেকেই চাকরি পাইনি। অথচ রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বছরের পর বছর চাকরি করে যাচ্ছেন। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অতীতে সরকারি চাকরিতে সংঘটিত অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত যোগ্য ও বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত সুযোগ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ