ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পিআইও বাবুলের ১৫ শতাংশ কমিশনের হিসাব ১৯৬ প্রকল্পে অঙ্ক ছাড়ায় ৫৭ লাখ টাকা



পিআইও বাবুলের ১৫ শতাংশ কমিশনের হিসাব ১৯৬ প্রকল্পে অঙ্ক ছাড়ায় ৫৭ লাখ টাকা
ছবি : প্রতিনিধি

টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আলোচিত পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেবীগঞ্জ উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় মোট ১৯৬টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে টিআর কর্মসূচির ৯৭টি, কাবিটার ৬১টি, কাবিখা (চাল) ১৬টি, কাবিখা (গম) ১৪টি, জেলা প্রশাসকের বিশেষ বরাদ্দের ৪টি এবং দেবীগঞ্জ পৌরসভার বিশেষ বরাদ্দের ৪টি প্রকল্প রয়েছে।


এসব প্রকল্পে নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য মিলিয়ে বরাদ্দের পরিমাণ ৩ কোটি ৮২ লাখ ৩৮ হাজার ৭০ টাকা। এর মধ্যে টিআর কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৪ টাকা। কাবিটা কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৫৮ লাখ ৬৬ হাজার ১৫৪ টাকা। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত ৮ লাখ টাকা এবং দেবীগঞ্জ পৌরসভার জন্য ৮ লাখ ৭২ হাজার ২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।


একই অর্থবছরে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ৯৪ দশমিক ৫৬৬৫ মেট্রিক টন গম ও সমপরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য যথাক্রমে ৩৪ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।


প্রতিবেদকের হাতে আসা প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের হিসাব ক্যালকুলেটরে নির্ধারণ করতে দেখা যায়। ভিডিওর একাধিক অংশে প্রকল্প সভাপতি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশনের অঙ্ক নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।


ভিডিওতে দেখা যায়, ৮ টন গমের একটি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৮ হাজার টাকা, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের বিপরীতে ২৪ হাজার টাকা এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা কমিশনের হিসাব করছেন তিনি। এছাড়া একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে একজনের কাছে ৫৬ হাজার টাকা দাবি করার কথাও ভিডিওতে শোনা যায়।


ভিডিওর শেষদিকে কয়েকজনকে নগদ টাকা গুনতে এবং পিআইও কার্যালয়ের টেবিলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে কমিশন হিসেবে নেওয়া হচ্ছিল।


বরাদ্দের মোট অঙ্ক ৩ কোটি ৮২ লাখ ৩৮ হাজার ৭০ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ কমিশন হিসাব করলে পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ৭১১ টাকা।


গত সোমবার বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ সংবলিত সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাবুল চন্দ্র রায়কে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করে। তবে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বাবুল চন্দ্র রায়কে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ১৯৬টি প্রকল্পের সবগুলোতে ১৫ শতাংশ কমিশন আদায় করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ভিডিওতে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের হিসাব এবং নগদ অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যায়।


 অভিযোগ অস্বীকার করে বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, 'ওরা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সে কারণেই এ ধরনের কথা হয়েছে।'





 ঘুষ গ্রহণের ভিডিও, প্রকল্প বরাদ্দের কাগজ প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


পিআইও বাবুলের ১৫ শতাংশ কমিশনের হিসাব ১৯৬ প্রকল্পে অঙ্ক ছাড়ায় ৫৭ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image



টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আলোচিত পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেবীগঞ্জ উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় মোট ১৯৬টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে টিআর কর্মসূচির ৯৭টি, কাবিটার ৬১টি, কাবিখা (চাল) ১৬টি, কাবিখা (গম) ১৪টি, জেলা প্রশাসকের বিশেষ বরাদ্দের ৪টি এবং দেবীগঞ্জ পৌরসভার বিশেষ বরাদ্দের ৪টি প্রকল্প রয়েছে।


এসব প্রকল্পে নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য মিলিয়ে বরাদ্দের পরিমাণ ৩ কোটি ৮২ লাখ ৩৮ হাজার ৭০ টাকা। এর মধ্যে টিআর কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৪ টাকা। কাবিটা কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৫৮ লাখ ৬৬ হাজার ১৫৪ টাকা। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত ৮ লাখ টাকা এবং দেবীগঞ্জ পৌরসভার জন্য ৮ লাখ ৭২ হাজার ২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।


একই অর্থবছরে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ৯৪ দশমিক ৫৬৬৫ মেট্রিক টন গম ও সমপরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য যথাক্রমে ৩৪ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।


প্রতিবেদকের হাতে আসা প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের হিসাব ক্যালকুলেটরে নির্ধারণ করতে দেখা যায়। ভিডিওর একাধিক অংশে প্রকল্প সভাপতি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশনের অঙ্ক নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।


ভিডিওতে দেখা যায়, ৮ টন গমের একটি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৮ হাজার টাকা, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের বিপরীতে ২৪ হাজার টাকা এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা কমিশনের হিসাব করছেন তিনি। এছাড়া একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে একজনের কাছে ৫৬ হাজার টাকা দাবি করার কথাও ভিডিওতে শোনা যায়।


ভিডিওর শেষদিকে কয়েকজনকে নগদ টাকা গুনতে এবং পিআইও কার্যালয়ের টেবিলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে কমিশন হিসেবে নেওয়া হচ্ছিল।


বরাদ্দের মোট অঙ্ক ৩ কোটি ৮২ লাখ ৩৮ হাজার ৭০ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ কমিশন হিসাব করলে পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ৭১১ টাকা।


গত সোমবার বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ সংবলিত সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাবুল চন্দ্র রায়কে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করে। তবে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বাবুল চন্দ্র রায়কে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ১৯৬টি প্রকল্পের সবগুলোতে ১৫ শতাংশ কমিশন আদায় করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ভিডিওতে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের হিসাব এবং নগদ অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যায়।


 অভিযোগ অস্বীকার করে বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, 'ওরা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সে কারণেই এ ধরনের কথা হয়েছে।'





 ঘুষ গ্রহণের ভিডিও, প্রকল্প বরাদ্দের কাগজ প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ