ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নারী শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগে সহকারী শিক্ষকের অপসারণ দাবি


এম এ মতিন
এম এ মতিন Manda Upazila Correspondent
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬

নারী শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগে সহকারী শিক্ষকের অপসারণ দাবি
ছবি: প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে উত্ত্যক্ত ও হয়রানির অভিযোগে সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউর রহমান জিয়ার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২১ জুন) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল গোপালপুর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব দেওয়া, উত্ত্যক্ত করা এবং যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সামনেই ওই শিক্ষকের হাত ধরে টানাহেঁচড়া করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আখতার জাহান সাথী এবং মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্নভাবে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা প্রতিবাদ জানাতে বিদ্যালয়ে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক সেখান থেকে সরে যান বলে দাবি করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, অভিযুক্ত শিক্ষককে অপসারণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আখতার জাহান সাথী বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তার লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিধি-বিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”। ##


এম এ মতিন

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

০১৭১৮৫৮৬৪১৩

২১/০৬/২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


নারী শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগে সহকারী শিক্ষকের অপসারণ দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে উত্ত্যক্ত ও হয়রানির অভিযোগে সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউর রহমান জিয়ার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২১ জুন) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল গোপালপুর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব দেওয়া, উত্ত্যক্ত করা এবং যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সামনেই ওই শিক্ষকের হাত ধরে টানাহেঁচড়া করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আখতার জাহান সাথী এবং মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্নভাবে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা প্রতিবাদ জানাতে বিদ্যালয়ে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক সেখান থেকে সরে যান বলে দাবি করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, অভিযুক্ত শিক্ষককে অপসারণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আখতার জাহান সাথী বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তার লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিধি-বিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”। ##


এম এ মতিন

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

০১৭১৮৫৮৬৪১৩

২১/০৬/২০২৬


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ