ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অনলাইনে আবেদন করেও বঞ্চিত গর্ভবতীরা, বাহুবলে ভাতা তালিকা নিয়ে রহস্য



অনলাইনে আবেদন করেও বঞ্চিত গর্ভবতীরা, বাহুবলে ভাতা তালিকা নিয়ে রহস্য
ছবি: প্রতিনিধি

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে গর্ভবতী নারীদের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১০ তারিখের আগেই মা ও শিশু সহায়তা (মাতৃত্বকালীন ভাতা) কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তালিকা সম্পন্ন করে ফেলায়  নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অনেক গর্ভবতী নারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। নিয়ম বহির্ভূতভাবে দ্রুত তালিকা শেষ করায় উপজেলার শত শত যোগ্য ও সুবিধাবঞ্চিত নারী এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসের ১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে গর্ভবতী নারীদের তালিকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ১০ তারিখের আগেই রহস্যজনকভাবে তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরবর্তীতে অনলাইনে আবেদন করেও অনেক প্রকৃত গর্ভবতী নারী কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। নির্ধারিত সময়সীমার আগেই তালিকা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক আবেদনকারী। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে গর্ভবতী নারীদের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ১০ তারিখের আগেই তালিকা সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে পরবর্তীতে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করেও অনেক নারী কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এমনই একজন ভুক্তভোগী বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়পুর গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার স্ত্রী সিফা আক্তার নামে গর্ভবতী নারী। তিনি গত ৪ জুন অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করেন এবং আবেদনকারীর সারসংক্ষেপও সংগ্রহ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় যে নির্ধারিত কোটা পূরণ হয়ে গেছে এবং নতুন করে আবেদন গ্রহণ সম্ভব নয়।

ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, যদি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০ তারিখ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের সুযোগ থাকে, তাহলে ১০ তারিখের আগেই কীভাবে তালিকা পূর্ণ হয়ে যায়?

স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে তালিকা ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। অথচ তখনও আবেদন গ্রহণের সরকারি সময়সীমা শেষ হয়নি। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক আবেদনকারী দাবি করেন, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ চলমান থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে অনেককে জানানো হচ্ছে নতুন করে আর কোনো নাম যুক্ত করার সুযোগ নেই। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ২০ তারিখ পর্যন্ত থাকে, তাহলে তার আগেই কীভাবে তালিকা পূর্ণ বা চূড়ান্ত হয়ে যায়?

 সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় গর্ভবতী নারীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এটিএম মোহিতুল বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, "মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচন নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হওয়ার কথা। কোনো আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার পরও যদি কাগজপত্র জমা দিতে না পারেন বা নির্ধারিত সময়সীমার আগেই তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার অভিযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত গর্ভবতী নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


অনলাইনে আবেদন করেও বঞ্চিত গর্ভবতীরা, বাহুবলে ভাতা তালিকা নিয়ে রহস্য

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে গর্ভবতী নারীদের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১০ তারিখের আগেই মা ও শিশু সহায়তা (মাতৃত্বকালীন ভাতা) কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তালিকা সম্পন্ন করে ফেলায়  নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অনেক গর্ভবতী নারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। নিয়ম বহির্ভূতভাবে দ্রুত তালিকা শেষ করায় উপজেলার শত শত যোগ্য ও সুবিধাবঞ্চিত নারী এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসের ১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে গর্ভবতী নারীদের তালিকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ১০ তারিখের আগেই রহস্যজনকভাবে তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরবর্তীতে অনলাইনে আবেদন করেও অনেক প্রকৃত গর্ভবতী নারী কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। নির্ধারিত সময়সীমার আগেই তালিকা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক আবেদনকারী। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে গর্ভবতী নারীদের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ১০ তারিখের আগেই তালিকা সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে পরবর্তীতে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করেও অনেক নারী কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এমনই একজন ভুক্তভোগী বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়পুর গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার স্ত্রী সিফা আক্তার নামে গর্ভবতী নারী। তিনি গত ৪ জুন অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করেন এবং আবেদনকারীর সারসংক্ষেপও সংগ্রহ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় যে নির্ধারিত কোটা পূরণ হয়ে গেছে এবং নতুন করে আবেদন গ্রহণ সম্ভব নয়।

ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, যদি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০ তারিখ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের সুযোগ থাকে, তাহলে ১০ তারিখের আগেই কীভাবে তালিকা পূর্ণ হয়ে যায়?

স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে তালিকা ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। অথচ তখনও আবেদন গ্রহণের সরকারি সময়সীমা শেষ হয়নি। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক আবেদনকারী দাবি করেন, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ চলমান থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে অনেককে জানানো হচ্ছে নতুন করে আর কোনো নাম যুক্ত করার সুযোগ নেই। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ২০ তারিখ পর্যন্ত থাকে, তাহলে তার আগেই কীভাবে তালিকা পূর্ণ বা চূড়ান্ত হয়ে যায়?

 সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় গর্ভবতী নারীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এটিএম মোহিতুল বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, "মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচন নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হওয়ার কথা। কোনো আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার পরও যদি কাগজপত্র জমা দিতে না পারেন বা নির্ধারিত সময়সীমার আগেই তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার অভিযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত গর্ভবতী নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ