২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে স্বাগতিক মেক্সিকোর দাপুটে জয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে তারা। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন একজন ফুটবলার—হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ম্যাচের নবম মিনিটে গোল করে তিনি হয়ে উঠেছেন ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল স্বাগতিকরা। তৃতীয় মিনিটেই রাউল হিমেনেস গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন, যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস তা রুখে দেন। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মেক্সিকোকে। নবম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান হুলিয়ান কিনিয়োনেস। বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতার মর্যাদার পাশাপাশি গত দুই দশকের মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচে অন্যতম দ্রুততম গোলের কৃতিত্বও নিজের করে নেন তিনি।
তবে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গল্প কেবল একটি গোলের গল্প নয়। ১৯৯৭ সালে কলম্বিয়ার মাগুই পাইয়ানে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারের শৈশব কেটেছে জন্মভূমিতেই। স্থানীয় অপেশাদার ক্লাব 'ফুতবল পাজ'-এ ফুটবলের হাতেখড়ি হলেও পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে অল্প বয়সেই পাড়ি জমান মেক্সিকোতে। সেখানেই শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়।
মেক্সিকান ক্লাব তিগ্রেসের মাধ্যমে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন কিনিয়োনেস। এরপর ভেনাদোস, বুয়াপ, আতলাস ও ক্লাব আমেরিকার মতো শীর্ষ ক্লাবগুলোতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে মেক্সিকান লিগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল-কাদসিয়াহতে যোগ দেন তিনি এবং সৌদি প্রো লিগে নিজের সাফল্যের ধারা বজায় রাখেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তার পথচলা ছিল ব্যতিক্রমী। কলম্বিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে খেললেও জাতীয় দলে সুযোগ মিলছিল না। দীর্ঘদিন মেক্সিকোতে বসবাসের পর ২০২৩ সালে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি। একই সময় কলম্বিয়া জাতীয় দল তাকে দলে ভেড়ানোর উদ্যোগ নিলেও ততদিনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন কিনিয়োনেস। জন্মভূমির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বেছে নেন মেক্সিকোর জার্সি।
২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর মেক্সিকোর হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তার। এরপর দ্রুতই কোচ ও সমর্থকদের আস্থা অর্জন করেন এই ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হন তিনি।
এখন পর্যন্ত মেক্সিকোর জার্সিতে ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী গোলটি ছিল তার চতুর্থ আন্তর্জাতিক গোল। তবে সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এই গোলের তাৎপর্য। যে কলম্বিয়া একসময় তাকে উপেক্ষা করেছিল, সেই দেশেরই এক সন্তান আজ মেক্সিকোর হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম লিখে ফেলেছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম গোলদাতা হওয়ার গৌরব সবার ভাগ্যে জোটে না। হুলিয়ান কিনিয়োনেস সেই বিরল কীর্তির অংশ হয়ে গেলেন। সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান আর আত্মবিশ্বাসের গল্প পেরিয়ে তিনি এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত নাম।
#আর ইউ এস
বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ মেক্সিকো কিনিয়োনেস

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে স্বাগতিক মেক্সিকোর দাপুটে জয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে তারা। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন একজন ফুটবলার—হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ম্যাচের নবম মিনিটে গোল করে তিনি হয়ে উঠেছেন ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল স্বাগতিকরা। তৃতীয় মিনিটেই রাউল হিমেনেস গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন, যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস তা রুখে দেন। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মেক্সিকোকে। নবম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান হুলিয়ান কিনিয়োনেস। বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতার মর্যাদার পাশাপাশি গত দুই দশকের মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচে অন্যতম দ্রুততম গোলের কৃতিত্বও নিজের করে নেন তিনি।
তবে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গল্প কেবল একটি গোলের গল্প নয়। ১৯৯৭ সালে কলম্বিয়ার মাগুই পাইয়ানে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারের শৈশব কেটেছে জন্মভূমিতেই। স্থানীয় অপেশাদার ক্লাব 'ফুতবল পাজ'-এ ফুটবলের হাতেখড়ি হলেও পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে অল্প বয়সেই পাড়ি জমান মেক্সিকোতে। সেখানেই শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়।
মেক্সিকান ক্লাব তিগ্রেসের মাধ্যমে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন কিনিয়োনেস। এরপর ভেনাদোস, বুয়াপ, আতলাস ও ক্লাব আমেরিকার মতো শীর্ষ ক্লাবগুলোতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে মেক্সিকান লিগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল-কাদসিয়াহতে যোগ দেন তিনি এবং সৌদি প্রো লিগে নিজের সাফল্যের ধারা বজায় রাখেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তার পথচলা ছিল ব্যতিক্রমী। কলম্বিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে খেললেও জাতীয় দলে সুযোগ মিলছিল না। দীর্ঘদিন মেক্সিকোতে বসবাসের পর ২০২৩ সালে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি। একই সময় কলম্বিয়া জাতীয় দল তাকে দলে ভেড়ানোর উদ্যোগ নিলেও ততদিনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন কিনিয়োনেস। জন্মভূমির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বেছে নেন মেক্সিকোর জার্সি।
২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর মেক্সিকোর হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তার। এরপর দ্রুতই কোচ ও সমর্থকদের আস্থা অর্জন করেন এই ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হন তিনি।
এখন পর্যন্ত মেক্সিকোর জার্সিতে ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী গোলটি ছিল তার চতুর্থ আন্তর্জাতিক গোল। তবে সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এই গোলের তাৎপর্য। যে কলম্বিয়া একসময় তাকে উপেক্ষা করেছিল, সেই দেশেরই এক সন্তান আজ মেক্সিকোর হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম লিখে ফেলেছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম গোলদাতা হওয়ার গৌরব সবার ভাগ্যে জোটে না। হুলিয়ান কিনিয়োনেস সেই বিরল কীর্তির অংশ হয়ে গেলেন। সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান আর আত্মবিশ্বাসের গল্প পেরিয়ে তিনি এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত নাম।
#আর ইউ এস

আপনার মতামত লিখুন