২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। ফুটবল বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক—সবাই নিজেদের মতো করে হিসাব কষছেন। তবে সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলারদের ভবিষ্যদ্বাণী বরাবরই বাড়তি গুরুত্ব পায়। এবারও ফুটবল বিশ্বের কয়েকজন তারকা তাদের দৃষ্টিতে শিরোপার প্রধান দাবিদার এবং সম্ভাব্য চমক জাগানো দলগুলোর নাম জানিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক গ্যারি লিনেকারের মতে, ফ্রান্সের স্কোয়াড অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও তার বাজি স্পেনের ওপর। ২০১০ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সামর্থ্য বর্তমান স্পেন দলের রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে পর্তুগালের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন লিনেকার। যদিও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে কখনোই সমীকরণের বাইরে রাখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তার আশা, ইংল্যান্ডই শিরোপা জিতবে।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও নিজ দেশের দলকে নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন। তার মতে, বর্তমান ব্রাজিল দল এখনো পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও জার্মানিকে ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে রাখেন।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া মনে করেন, আর্জেন্টিনার বাইরে ফ্রান্স অন্যতম বড় ফেবারিট। একই সঙ্গে স্পেনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন তিনি। পর্তুগালের মিডফিল্ডের শক্তিমত্তার কথাও তুলে ধরে দলটিকে সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশীদের তালিকায় রাখেন।
জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের চোখে এবারের ডার্ক হর্স পর্তুগাল। তার মতে, যেভাবে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে খেলেছিল, তেমনভাবেই এবার পর্তুগাল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে একতাবদ্ধ হতে পারে। শক্তিশালী স্কোয়াড ও কোচ রবার্তো মার্তিনেজের উপস্থিতিও তাদের পক্ষে কাজ করবে বলে মনে করেন তিনি। ক্লিন্সমানের দ্বিতীয় ফেবারিট ব্রাজিল।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহাম আশা করছেন, দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষা শেষে ইংল্যান্ড আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। তবে ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকেও তিনি ফেবারিটদের তালিকায় রেখেছেন। চমক দেখাতে পারে এমন দল হিসেবে তিনি জাপানের নাম উল্লেখ করেন।
স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এবারের ফাইনাল হবে স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যে এবং চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন। তার মতে, লামিন ইয়ামাল টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হতে পারেন। ডার্ক হর্স হিসেবে মরক্কোর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২২ সালের মতো এবারও আফ্রিকার দলটি চমক দেখাতে পারে। এছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পে সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারেন বলেও মনে করেন তিনি।
ফ্রান্সের কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি নিজের দেশকেই শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ফ্রান্সের স্কোয়াডের গভীরতা অন্য অনেক দলের তুলনায় বেশি। তবে বড় দলগুলোর বাইরে নরওয়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সেনেগাল ও মরক্কোকেও সম্ভাবনাময় দল হিসেবে উল্লেখ করেন।
নেদারল্যান্ডসের সাবেক গোলরক্ষক এডউইন ফন ডার সারের মতে, হ্যারি কেইন গোল্ডেন বুট জিততে পারেন এবং ম্যানুয়েল নয়্যার পেতে পারেন গোল্ডেন গ্লাভস। চমক জাগানো দল হিসেবে তিনি নেদারল্যান্ডসের নাম উল্লেখ করেন। অন্যদিকে স্পেনকে নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও আর্জেন্টিনাকেই সম্ভাব্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছেন তিনি।
কিংবদন্তিদের এসব বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ধারণ করবে মাঠের লড়াই। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আস্থা রয়েছে সাবেক তারকাদের। একই সঙ্গে জাপান, মরক্কো, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের মতো দলগুলোকে সম্ভাব্য চমক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা বিশ্বকাপের মঞ্চে এই পূর্বাভাসগুলোর সত্যতা দেখার।
#আর ইউ এস
বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। ফুটবল বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক—সবাই নিজেদের মতো করে হিসাব কষছেন। তবে সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলারদের ভবিষ্যদ্বাণী বরাবরই বাড়তি গুরুত্ব পায়। এবারও ফুটবল বিশ্বের কয়েকজন তারকা তাদের দৃষ্টিতে শিরোপার প্রধান দাবিদার এবং সম্ভাব্য চমক জাগানো দলগুলোর নাম জানিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক গ্যারি লিনেকারের মতে, ফ্রান্সের স্কোয়াড অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও তার বাজি স্পেনের ওপর। ২০১০ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সামর্থ্য বর্তমান স্পেন দলের রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে পর্তুগালের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন লিনেকার। যদিও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে কখনোই সমীকরণের বাইরে রাখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তার আশা, ইংল্যান্ডই শিরোপা জিতবে।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও নিজ দেশের দলকে নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন। তার মতে, বর্তমান ব্রাজিল দল এখনো পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও জার্মানিকে ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে রাখেন।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া মনে করেন, আর্জেন্টিনার বাইরে ফ্রান্স অন্যতম বড় ফেবারিট। একই সঙ্গে স্পেনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন তিনি। পর্তুগালের মিডফিল্ডের শক্তিমত্তার কথাও তুলে ধরে দলটিকে সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশীদের তালিকায় রাখেন।
জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের চোখে এবারের ডার্ক হর্স পর্তুগাল। তার মতে, যেভাবে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে খেলেছিল, তেমনভাবেই এবার পর্তুগাল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে একতাবদ্ধ হতে পারে। শক্তিশালী স্কোয়াড ও কোচ রবার্তো মার্তিনেজের উপস্থিতিও তাদের পক্ষে কাজ করবে বলে মনে করেন তিনি। ক্লিন্সমানের দ্বিতীয় ফেবারিট ব্রাজিল।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহাম আশা করছেন, দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষা শেষে ইংল্যান্ড আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। তবে ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকেও তিনি ফেবারিটদের তালিকায় রেখেছেন। চমক দেখাতে পারে এমন দল হিসেবে তিনি জাপানের নাম উল্লেখ করেন।
স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এবারের ফাইনাল হবে স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যে এবং চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন। তার মতে, লামিন ইয়ামাল টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হতে পারেন। ডার্ক হর্স হিসেবে মরক্কোর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২২ সালের মতো এবারও আফ্রিকার দলটি চমক দেখাতে পারে। এছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পে সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারেন বলেও মনে করেন তিনি।
ফ্রান্সের কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি নিজের দেশকেই শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ফ্রান্সের স্কোয়াডের গভীরতা অন্য অনেক দলের তুলনায় বেশি। তবে বড় দলগুলোর বাইরে নরওয়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সেনেগাল ও মরক্কোকেও সম্ভাবনাময় দল হিসেবে উল্লেখ করেন।
নেদারল্যান্ডসের সাবেক গোলরক্ষক এডউইন ফন ডার সারের মতে, হ্যারি কেইন গোল্ডেন বুট জিততে পারেন এবং ম্যানুয়েল নয়্যার পেতে পারেন গোল্ডেন গ্লাভস। চমক জাগানো দল হিসেবে তিনি নেদারল্যান্ডসের নাম উল্লেখ করেন। অন্যদিকে স্পেনকে নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও আর্জেন্টিনাকেই সম্ভাব্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছেন তিনি।
কিংবদন্তিদের এসব বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ধারণ করবে মাঠের লড়াই। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আস্থা রয়েছে সাবেক তারকাদের। একই সঙ্গে জাপান, মরক্কো, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের মতো দলগুলোকে সম্ভাব্য চমক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা বিশ্বকাপের মঞ্চে এই পূর্বাভাসগুলোর সত্যতা দেখার।
#আর ইউ এস

আপনার মতামত লিখুন