বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই নতুন ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা তার গোল ভেঙে দিয়েছে ১২ বছর ধরে টিকে থাকা উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের রেকর্ড।
২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে স্বাগতিকদের হয়ে মার্সেলোর আত্মঘাতী গোলটি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোল হিসেবে আলোচিত ছিল। তবে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে সেই রেকর্ড নতুন করে লিখলেন কিনিয়োনেস।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। প্রতিপক্ষকে গুছিয়ে ওঠার সুযোগ না দিয়ে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে তারা। সেই চাপের ফল আসে ম্যাচের অষ্টম মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণ নিখুঁতভাবে শেষ করে বল জালে জড়ান হুলিয়ান কিনিয়োনেস। মুহূর্তেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেক্সিকো এবং উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে দ্রুততম গোলদাতার কাতারে নাম লেখান এই ফরোয়ার্ড।
তবে বিশ্বকাপের সামগ্রিক ইতিহাসে এটি দ্রুততম গোল নয়। সেই রেকর্ড এখনো ধরে রেখেছেন তুরস্কের সাবেক তারকা হাকান শুকুর। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে তিনি এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন, যা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অক্ষত রয়েছে।
কিনিয়োনেসের এই অর্জন আলোচনায় এসেছে আরও একটি কারণে। উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোল নিয়ে এতদিন যে পরিসংখ্যান আলোচিত হতো, তা এবার নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের জন্য আলাদা একটি অধ্যায় তৈরি করেছেন এই মেক্সিকান ফুটবলার।
সৌদি প্রো লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ২৯ বছর বয়সী কিনিয়োনেস আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। গতি, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং গোল করার দক্ষতায় তিনি মেক্সিকোর আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। চলতি মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে ৩৩ গোল করা এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের হয়েও আত্মবিশ্বাসী সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মেক্সিকোর জন্য এই গোল কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শুরুর দিকেই এগিয়ে গিয়ে খেলায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে স্বাগতিকরা, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন সূচনা যেকোনো দলের জন্যই আদর্শ, আর মেক্সিকোর জন্য তা আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে কিনিয়োনেসের রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্সে।
এখন দেখার বিষয়, এই ছন্দ ধরে রেখে কিনিয়োনেস ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের মঞ্চে কতদূর এগোতে পারে। তবে আপাতত উদ্বোধনী ম্যাচেই ইতিহাস গড়ে ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মেক্সিকোর এই ফরোয়ার্ড।
#আর ইউ এস
বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ কিনিয়োনেস

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই নতুন ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা তার গোল ভেঙে দিয়েছে ১২ বছর ধরে টিকে থাকা উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের রেকর্ড।
২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে স্বাগতিকদের হয়ে মার্সেলোর আত্মঘাতী গোলটি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোল হিসেবে আলোচিত ছিল। তবে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে সেই রেকর্ড নতুন করে লিখলেন কিনিয়োনেস।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। প্রতিপক্ষকে গুছিয়ে ওঠার সুযোগ না দিয়ে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে তারা। সেই চাপের ফল আসে ম্যাচের অষ্টম মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণ নিখুঁতভাবে শেষ করে বল জালে জড়ান হুলিয়ান কিনিয়োনেস। মুহূর্তেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেক্সিকো এবং উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে দ্রুততম গোলদাতার কাতারে নাম লেখান এই ফরোয়ার্ড।
তবে বিশ্বকাপের সামগ্রিক ইতিহাসে এটি দ্রুততম গোল নয়। সেই রেকর্ড এখনো ধরে রেখেছেন তুরস্কের সাবেক তারকা হাকান শুকুর। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে তিনি এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন, যা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অক্ষত রয়েছে।
কিনিয়োনেসের এই অর্জন আলোচনায় এসেছে আরও একটি কারণে। উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোল নিয়ে এতদিন যে পরিসংখ্যান আলোচিত হতো, তা এবার নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের জন্য আলাদা একটি অধ্যায় তৈরি করেছেন এই মেক্সিকান ফুটবলার।
সৌদি প্রো লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ২৯ বছর বয়সী কিনিয়োনেস আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। গতি, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং গোল করার দক্ষতায় তিনি মেক্সিকোর আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। চলতি মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে ৩৩ গোল করা এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের হয়েও আত্মবিশ্বাসী সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মেক্সিকোর জন্য এই গোল কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শুরুর দিকেই এগিয়ে গিয়ে খেলায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে স্বাগতিকরা, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন সূচনা যেকোনো দলের জন্যই আদর্শ, আর মেক্সিকোর জন্য তা আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে কিনিয়োনেসের রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্সে।
এখন দেখার বিষয়, এই ছন্দ ধরে রেখে কিনিয়োনেস ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের মঞ্চে কতদূর এগোতে পারে। তবে আপাতত উদ্বোধনী ম্যাচেই ইতিহাস গড়ে ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মেক্সিকোর এই ফরোয়ার্ড।
#আর ইউ এস

আপনার মতামত লিখুন