গোলের উল্লাস, পরাজয়ের অশ্রু, শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা আর ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন সবকিছু মিলিয়ে আবারও সাজতে চলেছে বিশ্ব ফুটবলের মহামঞ্চ। চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে নতুন করে উত্তেজনার ঢেউ তুলে দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬।
পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন যেন ধীরে ধীরে এক ছন্দে বাঁধা পড়ছে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে বড় বড় স্টেডিয়াম, চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবখানেই এখন একটাই আলোচনা--কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ? কে হবে বিশ্ব ফুটবলের আগামী ৪ বছরের বিশ্বসেরা?
ফুটবলের মহারনের ২৩ তম আসরটি বসতে যাচ্ছে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আসরটি ১১ই জুন উদ্বোধন হয়ে ১৯শে জুলাই ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে। ১৯৩০ সালে মাত্র ১৩টি দল নিয়ে উরুগুয়ের মাঠে যে স্বপ্নের বীজ বোনা হয়েছিল, তা আজ মহীরুহ। সময়ের সাথে সাথে খেলার কৌশল, বলের গঠন, এবং ট্রফির জৌলুস বদলেছে , কিন্তু এতটুকু ম্লান হয়নি এই মহারণের আবেদন।
৪৮ দলের ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৬০ টিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ শহরে বাকি দুই দেশে সমান ২২ টি করে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে ৪৮ দলের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা হয়ে গেছে। মোট এক হাজার ২৪৮ ফুটবলার এ মহাযজ্ঞে অংশ নেবেন। ৩৯ দল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তাদের বেস ক্যাম্প খুলেছে, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপের উন্মাদনা বরাবরই একটু ভিন্ন। দেশের নিজস্ব দল না থাকলেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা ফ্রান্সের সমর্থনে বিভক্ত হয়ে যায় পুরো দেশ। ছাদে ছাদে উড়তে শুরু করে নানা দেশের পতাকা। চলতে থাকে প্রিয় দলের জার্সি কেনার হিড়িক। একদলের সমর্থক অন্য দলের সমর্থকদের হেয় করতে ছাড় দেয় না। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে যুবক ও বয়বৃদ্ধদেরও দেখা যায় প্রিয় দল বা খেলোয়াড়ের জার্সি পরে সমর্থন দিতে । যেন পুরো দেশটাই পরিণত হয় এক টুকরো বিশ্বমঞ্চে।শুধুমাত্র জার্সি পরিধানই নয় বরং সমর্থকদের মধ্যে চলছে তুমুল যুক্তিতর্ক ও কথা কাটাকাটি। সবাই তাদের নিজের সমর্থিত দলকে সেরা হিসাবে যুক্তি দাড় করাচ্ছে। অন্য দলকে নিয়ে ট্রল করতেছে। সবচেয়ে প্রচলিত ট্রলের মধ্যে ব্রাজিলের সাপোর্টাররা আর্জেন্টিনা সাপোর্টারদের ব্যঙ্গাত্মক বাক্য যেমন আফা, পেনাল্টিনা, হাত দিয়ে গোল করার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে চোরের সাপোর্টার বলে। অন্যদিকে ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির সাথে ৭-১ গোলে পরাজিত হলে ব্রাজিলকে নিয়ে সেভেন আপ বা বাপ-দাদাদের ৫ টি বিশ্বকাপ ট্রফি বলে ব্যঙ্গ করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এসব নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফানি কন্টেন্ট তৈরি করছে। বিভিন্ন জায়গায় সাপোর্টার দের মাঝে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে যার ফলে হাতাহাতি পর্যন্ত ঘটতে দেখা গেছে।
তবে শুধুমাত্র বিশৃঙ্খলা নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। তারা খেলাকে শুধুমাত্র বিনোদন হিসেবে নিচ্ছে। একসাথে খেলা দেখা একসাথে আড্ডা দেওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের পূর্ব প্রেডিকশন বিভিন্ন দলের শক্তিমত্তা দুর্বলতা নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণ করছে।
ব্রাজিল সমর্থকদের প্রত্যাশা তাদের তারকা খেলোয়ার নেইমারের হাত ধরে ব্রাজিল ৬ষ্ঠ বারের মতো বিশ্বকাপ জিতবে। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রত্যাশা গতআসরের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চতুর্থবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। এদিকে তারুণ্যনির্ভর ফ্রান্সের সমর্থকদের প্রত্যাশা ফ্রান্স কে ঘিরে আকাশচুম্বী। তাছাড়াও সবচেয়ে নজর কাড়ছে লামিন ইয়ামালের স্পেন।
যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোতে চলবে বিশ্ব সেরা হওয়ার লড়াই সে সময় বাংলাদেশী সমর্থক রা গভীর রাতে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে অপেক্ষা করবে প্রিয় দলের একটি গোলের জন্য, এ যেন মধুর অপেক্ষা। এখন শুধুই মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার অপেক্ষায় বিশ্বের সকল ক্রীড়া প্রেমী। কারো স্বপ্নপূরণ হবে, কারো ভাঙবে, কেউ উদযাপন করবে বা কেউ হতাশায় ডুববে। তবে পুরো ক্রীড়া প্রেমিক মানুষের হৃদয়কে এক সুতোয় গেথে দিবে।কারণ ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, এটি এক অনন্য আবেগের নাম।
লেখকঃ শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
#আর ইউ এস
বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
গোলের উল্লাস, পরাজয়ের অশ্রু, শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা আর ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন সবকিছু মিলিয়ে আবারও সাজতে চলেছে বিশ্ব ফুটবলের মহামঞ্চ। চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে নতুন করে উত্তেজনার ঢেউ তুলে দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬।
পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন যেন ধীরে ধীরে এক ছন্দে বাঁধা পড়ছে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে বড় বড় স্টেডিয়াম, চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবখানেই এখন একটাই আলোচনা--কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ? কে হবে বিশ্ব ফুটবলের আগামী ৪ বছরের বিশ্বসেরা?
ফুটবলের মহারনের ২৩ তম আসরটি বসতে যাচ্ছে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আসরটি ১১ই জুন উদ্বোধন হয়ে ১৯শে জুলাই ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে। ১৯৩০ সালে মাত্র ১৩টি দল নিয়ে উরুগুয়ের মাঠে যে স্বপ্নের বীজ বোনা হয়েছিল, তা আজ মহীরুহ। সময়ের সাথে সাথে খেলার কৌশল, বলের গঠন, এবং ট্রফির জৌলুস বদলেছে , কিন্তু এতটুকু ম্লান হয়নি এই মহারণের আবেদন।
৪৮ দলের ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৬০ টিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ শহরে বাকি দুই দেশে সমান ২২ টি করে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে ৪৮ দলের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা হয়ে গেছে। মোট এক হাজার ২৪৮ ফুটবলার এ মহাযজ্ঞে অংশ নেবেন। ৩৯ দল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তাদের বেস ক্যাম্প খুলেছে, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপের উন্মাদনা বরাবরই একটু ভিন্ন। দেশের নিজস্ব দল না থাকলেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা ফ্রান্সের সমর্থনে বিভক্ত হয়ে যায় পুরো দেশ। ছাদে ছাদে উড়তে শুরু করে নানা দেশের পতাকা। চলতে থাকে প্রিয় দলের জার্সি কেনার হিড়িক। একদলের সমর্থক অন্য দলের সমর্থকদের হেয় করতে ছাড় দেয় না। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে যুবক ও বয়বৃদ্ধদেরও দেখা যায় প্রিয় দল বা খেলোয়াড়ের জার্সি পরে সমর্থন দিতে । যেন পুরো দেশটাই পরিণত হয় এক টুকরো বিশ্বমঞ্চে।শুধুমাত্র জার্সি পরিধানই নয় বরং সমর্থকদের মধ্যে চলছে তুমুল যুক্তিতর্ক ও কথা কাটাকাটি। সবাই তাদের নিজের সমর্থিত দলকে সেরা হিসাবে যুক্তি দাড় করাচ্ছে। অন্য দলকে নিয়ে ট্রল করতেছে। সবচেয়ে প্রচলিত ট্রলের মধ্যে ব্রাজিলের সাপোর্টাররা আর্জেন্টিনা সাপোর্টারদের ব্যঙ্গাত্মক বাক্য যেমন আফা, পেনাল্টিনা, হাত দিয়ে গোল করার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে চোরের সাপোর্টার বলে। অন্যদিকে ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির সাথে ৭-১ গোলে পরাজিত হলে ব্রাজিলকে নিয়ে সেভেন আপ বা বাপ-দাদাদের ৫ টি বিশ্বকাপ ট্রফি বলে ব্যঙ্গ করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এসব নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফানি কন্টেন্ট তৈরি করছে। বিভিন্ন জায়গায় সাপোর্টার দের মাঝে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে যার ফলে হাতাহাতি পর্যন্ত ঘটতে দেখা গেছে।
তবে শুধুমাত্র বিশৃঙ্খলা নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। তারা খেলাকে শুধুমাত্র বিনোদন হিসেবে নিচ্ছে। একসাথে খেলা দেখা একসাথে আড্ডা দেওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের পূর্ব প্রেডিকশন বিভিন্ন দলের শক্তিমত্তা দুর্বলতা নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণ করছে।
ব্রাজিল সমর্থকদের প্রত্যাশা তাদের তারকা খেলোয়ার নেইমারের হাত ধরে ব্রাজিল ৬ষ্ঠ বারের মতো বিশ্বকাপ জিতবে। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রত্যাশা গতআসরের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চতুর্থবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। এদিকে তারুণ্যনির্ভর ফ্রান্সের সমর্থকদের প্রত্যাশা ফ্রান্স কে ঘিরে আকাশচুম্বী। তাছাড়াও সবচেয়ে নজর কাড়ছে লামিন ইয়ামালের স্পেন।
যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোতে চলবে বিশ্ব সেরা হওয়ার লড়াই সে সময় বাংলাদেশী সমর্থক রা গভীর রাতে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে অপেক্ষা করবে প্রিয় দলের একটি গোলের জন্য, এ যেন মধুর অপেক্ষা। এখন শুধুই মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার অপেক্ষায় বিশ্বের সকল ক্রীড়া প্রেমী। কারো স্বপ্নপূরণ হবে, কারো ভাঙবে, কেউ উদযাপন করবে বা কেউ হতাশায় ডুববে। তবে পুরো ক্রীড়া প্রেমিক মানুষের হৃদয়কে এক সুতোয় গেথে দিবে।কারণ ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, এটি এক অনন্য আবেগের নাম।
লেখকঃ শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
#আর ইউ এস

আপনার মতামত লিখুন