শোক

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিরাজুলের রহস্যমৃত্যু, পাকুন্দিয়ায় মরদেহ উদ্ধার

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর নিজ গ্রামে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া ও তীব্র গুঞ্জন।

⎙ প্রিন্ট
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিরাজুলের রহস্যমৃত্যু, পাকুন্দিয়ায় মরদেহ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিরাজুলের রহস্যমৃত্যু, পাকুন্দিয়ায় মরদেহ উদ্ধার
⌖ পাকুন্দিয়া
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যু, পাকুন্দিয়ায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার।
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাস করছিলেন স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। সুদূর প্রবাসে পরিবার-পরিজন নিয়ে থিতু হলেও নাড়ির টানে বারবার ফিরে আসতেন জন্মভূমির মাটির কাছে। কিন্তু মাতৃভূমির সেই মায়ায় ঢাকা কোলেই যে এভাবে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাবে জীবনের স্পন্দন—তা ভাবেনি কেউ। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নিজ ঘর থেকে সিরাজুল ইসলাম (৬০) নামে এক আমেরিকাপ্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর নিজ গ্রামে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া ও তীব্র গুঞ্জন।
​শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোষাকান্দা গ্রাম থেকে এই প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সিরাজুল ইসলাম ওই এলাকার সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রয়াত বজলুর রহমান ওরফে বজলু চেয়ারম্যানের বড় ভাই।
​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছর ধরে সিরাজুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানও সেদেশের নাগরিক। সুদূর প্রবাসের সব কর্মব্যস্ততা ও জাঁকজমক ঠেলে মাঝে মাঝেই তিনি শিকড়ের টানে ছুটে আসতেন নিজ গ্রামে। কিছুদিন আগেই তিনি আমেরিকা থেকে নিজ বাড়ি কোষাকান্দায় আসেন। অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান। কিন্তু শুক্রবার ভোরে ভোরের আলো ফোটার পরপরই স্বজনেরা তাঁকে নিজ ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে চারপাশের মানুষের ঢল নামে প্রবাসীর বাড়িতে। স্বজনদের আকুল কান্না আর আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
​খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ঘটনাটি আত্মহত্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের সফল প্রবাস জীবন, পরিবার-পরিজনের কোনো দৃশ্যমান টানাপোড়েন না থাকা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনা ঘটল—তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানামুখী ধোঁয়াশা। এলাকাবাসী ও পরিচিতজনদের মতে, এমন একজন স্বাবলম্বী ও শান্ত স্বভাবের মানুষের এমন পরিণতি কেবল সাধারণ কোনো আত্মহত্যার ঘটনা না-ও হতে পারে। এটি আসলেই মানসিক কোনো অবসাদ থেকে নেওয়া চরম সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অন্ধকার রহস্য বা ষড়যন্ত, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে।
​আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। বাহ্যিক আলামতে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও আসল ঘটনা কী, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই কেবল মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। তবে আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাটির গভীর তদন্ত শুরু করেছি এবং সকল সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
​দীর্ঘ ৩৫ বছরের প্রবাসী জীবনের ইতি টেনে নিজ জন্মভূমির মাটিতে এভাবে জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় সিরাজুল ইসলামের জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার ঘটনাটি পুরো পাকুন্দিয়া জুড়ে জন্ম দিয়েছে শোক আর গভীর রহস্যের। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টই এখন প্রকাশ করতে পারে—এটি শুধুই এক প্রবাসীর নির্মম বিদায়, নাকি আড়ালে রয়েছে অন্য কোনো সত্য।
tapashmainul70@gmail.com

সম্পর্কিত সংবাদ