সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ এবং ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশ থেকে যাতায়াতকারী ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ৮৯টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ফ্লাইটে যাতায়াতের কথা ছিল ১৪ হাজার ৬৫৫ জন যাত্রীর। এর আগে প্রকাশিত হিসাবে ৮৬টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য ছিল। অর্থাৎ নতুন হিসাবে আরও তিনটি ফ্লাইট এবং এক হাজার ১৬৫ জন যাত্রী যুক্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ৮৯টি ফ্লাইটের মধ্যে ৩৯টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি এবং সৌদিয়ার পাঁচটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি করে, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটের ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যেতে ইচ্ছুক যাত্রীদের জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বিকল্প রুটে আসন পাওয়া কিংবা যাত্রার নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত নয়। ফ্লাইট স্থগিতের কারণে প্রবাসী কর্মীদের চাকরিতে যোগদান, ভিসার মেয়াদ এবং ওমরাহযাত্রীদের ভ্রমণসূচি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো নতুন সময়সূচি ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত যাত্রীদের জানাবে বলে জানিয়েছে।






