লিড নিউজ

নওগাঁর মান্দায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জাকারিয়া গ্রেপ্তার

⎙ প্রিন্ট
নওগাঁর মান্দায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জাকারিয়া গ্রেপ্তার
⌖ মান্দা

নওগাঁর মান্দায় এক বৃদ্ধকে পাত্রী দেখানোর কথা বলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মো. জাকারিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মান্দা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা মীর মো. আনোয়ার হোসেন (৬২) তাঁর ছেলের জন্য পাত্রী দেখানোর কথা বলে পূর্বপরিচিত এক নারীর মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, জাকারিয়ার পরিকল্পনায় অন্য আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে গত ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যান।

সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে অপর এক নারী আসামির সঙ্গে জোরপূর্বক অশ্লীল ও নগ্ন ছবি এবং ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, চাঁদা দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজন একই দিন দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মান্দা থানায় মামলা নম্বর ১১ দায়ের করা হয়। মামলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে মোহনপুর ও মান্দা থানায় আরও তিনটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল থেকে সতর্ক থাকুন। এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিন।

সম্পর্কিত সংবাদ