নওগাঁ সদর উপজেলার মুনসুরের বিল স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি বৃহৎ জলাশয়। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি, প্রায় ৯০০ বিঘা সরকারি খাস সম্পত্তির এ জলাশয়টি বর্তমানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বৈধভাবে লিজ বা ইজারা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমোদিত মৎস্যজীবীরা এ উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
তবে সম্প্রতি মুনসুরের বিলসংলগ্ন গয়েরপাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু বাধা দেওয়াই নয়, এক মৎস্যজীবীকে মারধর ও বিল থেকে মাছ ধরতে নিষেধ করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি অনুমোদিত মৎস্যজীবী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে মুনসুরের বিল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সম্প্রতি তারা বিলে মাছ ধরতে গেলে গয়েরপাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে এক মৎস্যজীবীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, মুনসুরের বিল কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধ ইজারাধীন না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাছ ধরে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে তাদের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, গয়েরপাড়া এলাকার সবুজ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক মৎস্যজীবীকে মারধর এবং মুনসুরের বিল থেকে মাছ ধরতে নিষেধ করার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বিলের খাস জায়গার একটি অংশে তিনি নিজ উদ্যোগে কাঠা/কাটা দিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থা করেছেন এবং সেখান থেকে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সবুজের সঙ্গে কথা হলে তিনি মৎস্যজীবীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি ওই মৎস্যজীবীর কলার ধরে ধাক্কা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে মুনসুরের বিলের কিছু জায়গায় কাঠা/কাটা দেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন। তবে সরকারি খাস জলাশয়ে কোন বৈধতার ভিত্তিতে ওই অংশে কাঠা/কাটা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তার বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এদিকে বিষয়টি নওগাঁ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকেও অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবীরা। এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, সরকারি উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে কোনো মৎস্যজীবী অন্যায়ভাবে বাধা বা মারধরের শিকার হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত মৎস্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, মৎস্যজীবীরা বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষায় তাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে একজন মৎস্যজীবীকে মারধরের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
মৎস্যজীবীদের দাবি, মুনসুরের বিল সরকারি খাস সম্পত্তি ও উন্মুক্ত জলাশয় হয়ে থাকলে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বৈধভাবে ইজারা দেওয়া না হয়ে থাকলে সেখানে মাছ ধরতে তাদের অধিকার রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যেন ব্যক্তিগতভাবে তাদের মাছ ধরায় বাধা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা। পাশাপাশি মৎস্যজীবীকে মারধরের অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য মুনসুরের বিলের প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা, বর্তমানে কোনো বৈধ ইজারা বা বন্দোবস্ত রয়েছে কি না, মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার অনুমোদন এবং নওগাঁ সদর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ—সবকিছু যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবীরা।
মুনসুরের বিলে মাছ ধরায় বাধা, মৎস্যজীবীকে মারধরের অভিযোগ থানায়
নওগাঁ সদর উপজেলার মুনসুরের বিল স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি বৃহৎ জলাশয়। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি, প্রায় ৯০০ বিঘা সরকারি খাস সম্পত্তির এ জলাশয়টি বর্তমানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বৈধভাবে লিজ








