নওগাঁর ধামইরহাটে পূর্বশত্রুতার বিরোধ ও করলা খেতে ছাগল প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল কাশেম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারনামীয় সাত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধামইরহাট থানাধীন বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) এলাকায় করলা খেতে ছাগল প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম ও রনিদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বিরোধের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আবুল কাশেম পক্ষের মোট পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত আবুল কাশেম মারা যান। তাঁর স্ত্রীও গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর আহতরা জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় নিহত আবুল কাশেমের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পরপরই নওগাঁর পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস অভিযানিক দল অভিযানে নামে। পরে নওগাঁর ধামইরহাট ও জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় সাত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—মো. রাকিবুল ইসলাম রনি (২৮), পিতা মো. আবদুল হাকিম; মো. আবদুল হাকিম (৬০), পিতা মৃত আবদুল গফুর; মো. কফিল উদ্দিন (৬৫), পিতা মৃত আবদুল গফুর; মোসা. আকলিমা বেগম (৩৫), স্বামী মো. ফেরদৌস হোসেন; মোসা. হামিদা বেগম (৩৮), পিতা মৃত ইসমাইল হোসেন; মোসা. ফরিদা বেগম (৫০), স্বামী মো. আবদুল হাকিম এবং মোসা. জিয়াসমিন বেগম (২১), স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম রনি। গ্রেফতার সবাই ধামইরহাট উপজেলার ৬ নম্বর জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।








