ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও কূটনৈতিক আলোচনা এখনো চলমান, তবুও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, যুদ্ধ পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে দিন শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, সরকারি দায়িত্বের কারণে তিনি তার ছেলের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। একই সঙ্গে তিনি নিউ জার্সির গলফ রিসোর্টে সপ্তাহান্ত কাটানোর পরিকল্পনা বাতিল করে হোয়াইট হাউসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা ঘাঁটিগুলোতে মোতায়েন সেনাদের তালিকা হালনাগাদ এবং কিছু সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাত থেকে কিছুটা বিরত রয়েছে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে দুই পক্ষ পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস নিউজকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান ও মানচিত্র প্রকাশের পর ওই অঞ্চলে আটকে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিকের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকে খাদ্য ও পানির সংকটে ভুগছেন বলে জানা গেছে।
প্রায় তিন মাস ধরে আটকে থাকা এসব নাবিক ছোট কক্ষ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কঠিন পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। তারা ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তান ও কাতার বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কাতারের একটি প্রতিনিধিদলও তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে একাধিক দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে, তবে এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
সব মিলিয়ে সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও জটিল মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও কূটনৈতিক আলোচনা এখনো চলমান, তবুও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, যুদ্ধ পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে দিন শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, সরকারি দায়িত্বের কারণে তিনি তার ছেলের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। একই সঙ্গে তিনি নিউ জার্সির গলফ রিসোর্টে সপ্তাহান্ত কাটানোর পরিকল্পনা বাতিল করে হোয়াইট হাউসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা ঘাঁটিগুলোতে মোতায়েন সেনাদের তালিকা হালনাগাদ এবং কিছু সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাত থেকে কিছুটা বিরত রয়েছে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে দুই পক্ষ পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস নিউজকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান ও মানচিত্র প্রকাশের পর ওই অঞ্চলে আটকে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিকের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকে খাদ্য ও পানির সংকটে ভুগছেন বলে জানা গেছে।
প্রায় তিন মাস ধরে আটকে থাকা এসব নাবিক ছোট কক্ষ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কঠিন পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। তারা ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তান ও কাতার বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কাতারের একটি প্রতিনিধিদলও তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে একাধিক দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে, তবে এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
সব মিলিয়ে সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও জটিল মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আপনার মতামত লিখুন