রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নিয়ে নিরাপদভাবে সংরক্ষণের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে আংশিকভাবে সম্মতি জানিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সেই প্রস্তাব কার্যত নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না এবং এটি ইরানের ভেতরেই সংরক্ষণ করতে হবে।
মঙ্গলবার একাধিক ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সূত্র জানায়, শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে যে, ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তর করা হলে তা দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরানি নেতৃত্বের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক চাপ বা হামলার ক্ষেত্রে এই মজুদ বিদেশে থাকলে তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর এ কারণেই সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশই এখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তার মতে, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানায়, আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামোতে ইউরেনিয়াম অন্য দেশে স্থানান্তরের বিষয়টি থাকতে পারে বলে ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সরানো, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অবস্থান পরিবর্তন করবেন না।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ইরান শিল্প পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে এবং বরাবরই দাবি করে আসছে, এর উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। পরবর্তীতে ২০১০ সালে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ শুরু করে জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদ ছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর সেই মজুদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ৯০ শতাংশ পর্যায়ের খুব কাছাকাছি, ফলে এটি আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চমাত্রার উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নিয়ে নিরাপদভাবে সংরক্ষণের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে আংশিকভাবে সম্মতি জানিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সেই প্রস্তাব কার্যত নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না এবং এটি ইরানের ভেতরেই সংরক্ষণ করতে হবে।
মঙ্গলবার একাধিক ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সূত্র জানায়, শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে যে, ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তর করা হলে তা দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরানি নেতৃত্বের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক চাপ বা হামলার ক্ষেত্রে এই মজুদ বিদেশে থাকলে তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর এ কারণেই সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশই এখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তার মতে, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানায়, আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামোতে ইউরেনিয়াম অন্য দেশে স্থানান্তরের বিষয়টি থাকতে পারে বলে ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সরানো, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অবস্থান পরিবর্তন করবেন না।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ইরান শিল্প পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে এবং বরাবরই দাবি করে আসছে, এর উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। পরবর্তীতে ২০১০ সালে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ শুরু করে জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদ ছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর সেই মজুদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ৯০ শতাংশ পর্যায়ের খুব কাছাকাছি, ফলে এটি আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চমাত্রার উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন