বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে জনগণের সমর্থন পাওয়া যাবে না। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ কখনোই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায় না, কারণ দলটি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির আয়োজনে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ সংলগ্ন পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ধর্মের কথা বলে মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, কিন্তু একই সঙ্গে মিথ্যাচারও করছে। তিনি বলেন, “মিঠা মিঠা কথা বলে রাজনীতি হয় না। জনগণের ভালোবাসা পেতে হলে সত্য কথা বলতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকেই প্রচার করেছিল যে জামায়াত ক্ষমতায় চলে আসছে। কিন্তু জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। “এই দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না। কারণ তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছিল,” বলেন তিনি।
গণতন্ত্র ও সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি সবসময় গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ববিরোধী কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “আমরা নাকি সংস্কার চাই না, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং বিএনপিই দেশে বড় বড় সংস্কার করেছে।” এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু ও নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর ধরে বিএনপি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। ২০২১ ও ২০২২ সালে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচিও বিএনপির উদ্যোগেই তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “মিথ্যাচার বন্ধ করুন। জনগণ এসব ক্ষমা করবে না।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন। দেশের মানুষ এখন তার দিকেই তাকিয়ে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর এখন নেতৃত্বের ধরণেও পরিবর্তন এসেছে। আগের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে পুরো রাস্তা বন্ধ থাকত। এখন জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।”
ফখরুল দাবি করেন, তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু এবং খাল খনন কার্যক্রম শুরুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে জনগণের সমর্থন পাওয়া যাবে না। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ কখনোই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায় না, কারণ দলটি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির আয়োজনে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ সংলগ্ন পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ধর্মের কথা বলে মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, কিন্তু একই সঙ্গে মিথ্যাচারও করছে। তিনি বলেন, “মিঠা মিঠা কথা বলে রাজনীতি হয় না। জনগণের ভালোবাসা পেতে হলে সত্য কথা বলতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকেই প্রচার করেছিল যে জামায়াত ক্ষমতায় চলে আসছে। কিন্তু জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। “এই দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না। কারণ তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছিল,” বলেন তিনি।
গণতন্ত্র ও সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি সবসময় গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ববিরোধী কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “আমরা নাকি সংস্কার চাই না, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং বিএনপিই দেশে বড় বড় সংস্কার করেছে।” এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু ও নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর ধরে বিএনপি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। ২০২১ ও ২০২২ সালে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচিও বিএনপির উদ্যোগেই তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “মিথ্যাচার বন্ধ করুন। জনগণ এসব ক্ষমা করবে না।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন। দেশের মানুষ এখন তার দিকেই তাকিয়ে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর এখন নেতৃত্বের ধরণেও পরিবর্তন এসেছে। আগের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে পুরো রাস্তা বন্ধ থাকত। এখন জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।”
ফখরুল দাবি করেন, তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু এবং খাল খনন কার্যক্রম শুরুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন