দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত হয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে ১৪তম লিগ শিরোপা ঘরে তুলল উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
মঙ্গলবার রাতে ডিন কোর্টে বোর্নমাউথের মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প ছিল না ম্যানচেস্টার সিটির সামনে। তবে নাটকীয় ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারায় পেপ গার্দিওলার দল। ৩৭ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের সংগ্রহ ৮২ পয়েন্ট, আর সমান ম্যাচে সিটির পয়েন্ট ৭৮। ফলে শেষ রাউন্ডের আগেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় গানারদের।
সবশেষ ২০০৩-০৪ মৌসুমে অপরাজিত থেকে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল আর্সেনাল। সেই ঐতিহাসিক ‘ইনভিন্সিবলস’ মৌসুমের পর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। মাঝের সময়ে একাধিকবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হতে হয়েছে ক্লাবটিকে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে পড়ার হতাশা ছিল স্পষ্ট।
২০২২-২৩ মৌসুমে ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে এবং ২০২৩-২৪ মৌসুমে মাত্র ২ পয়েন্টের ব্যবধানে সিটির কাছে শিরোপা হারায় আর্সেনাল। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লিভারপুল। তবে এবার আর ভুল করেনি আর্তেতার শিষ্যরা। পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, দৃঢ় রক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মিকেল আর্তেতার প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। এর আগে তিনি আর্সেনালকে এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জিতিয়েছিলেন। তবে লিগ শিরোপা জয়কে তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ম্যানচেস্টার সিটি। ৫ মিনিটে জেরেমি ডকুর শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ডজর্ডি পেত্রোভিচ। ১৩ মিনিটে আন্টোয়ান সেমেনিও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।
প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দেয় সিটি। ৩৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জুলিয়ান ট্রাফার্টের পাসে দুর্দান্ত শটে বোর্নমাউথকে এগিয়ে দেন জুনিয়র ক্রুপি। পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ান গার্দিওলা। ফিল ফোডেন, স্যাভিনিও ও রায়ান চেরকিকে মাঠে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছিল না সিটি।
যোগ করা সময়ে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ৯০+১ মিনিটে রদ্রির শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে গোল করে সমতা ফেরান আর্লিং হলান্ড। তবে সেই গোল জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বোর্নমাউথ সমর্থকদের উল্লাসের পাশাপাশি উৎসবে মেতে ওঠে পুরো উত্তর লন্ডনও।
এমিরেটস স্টেডিয়াম ও ক্লাবের ট্রেনিং গ্রাউন্ডের আশপাশে হাজারো সমর্থক লাল-সাদা পতাকা নিয়ে উদযাপনে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় দলের শিরোপা জয় যেন নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে আর্সেনাল সমর্থকদের মধ্যে।
শিরোপা হারালেও প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি পেপ গার্দিওলা। অন্যদিকে এই ড্রয়ের মাধ্যমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল করেছে বোর্নমাউথ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত হয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে ১৪তম লিগ শিরোপা ঘরে তুলল উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
মঙ্গলবার রাতে ডিন কোর্টে বোর্নমাউথের মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প ছিল না ম্যানচেস্টার সিটির সামনে। তবে নাটকীয় ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারায় পেপ গার্দিওলার দল। ৩৭ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের সংগ্রহ ৮২ পয়েন্ট, আর সমান ম্যাচে সিটির পয়েন্ট ৭৮। ফলে শেষ রাউন্ডের আগেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় গানারদের।
সবশেষ ২০০৩-০৪ মৌসুমে অপরাজিত থেকে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল আর্সেনাল। সেই ঐতিহাসিক ‘ইনভিন্সিবলস’ মৌসুমের পর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। মাঝের সময়ে একাধিকবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হতে হয়েছে ক্লাবটিকে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে পড়ার হতাশা ছিল স্পষ্ট।
২০২২-২৩ মৌসুমে ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে এবং ২০২৩-২৪ মৌসুমে মাত্র ২ পয়েন্টের ব্যবধানে সিটির কাছে শিরোপা হারায় আর্সেনাল। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লিভারপুল। তবে এবার আর ভুল করেনি আর্তেতার শিষ্যরা। পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, দৃঢ় রক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মিকেল আর্তেতার প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। এর আগে তিনি আর্সেনালকে এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জিতিয়েছিলেন। তবে লিগ শিরোপা জয়কে তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ম্যানচেস্টার সিটি। ৫ মিনিটে জেরেমি ডকুর শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ডজর্ডি পেত্রোভিচ। ১৩ মিনিটে আন্টোয়ান সেমেনিও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।
প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দেয় সিটি। ৩৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জুলিয়ান ট্রাফার্টের পাসে দুর্দান্ত শটে বোর্নমাউথকে এগিয়ে দেন জুনিয়র ক্রুপি। পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ান গার্দিওলা। ফিল ফোডেন, স্যাভিনিও ও রায়ান চেরকিকে মাঠে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছিল না সিটি।
যোগ করা সময়ে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ৯০+১ মিনিটে রদ্রির শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে গোল করে সমতা ফেরান আর্লিং হলান্ড। তবে সেই গোল জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বোর্নমাউথ সমর্থকদের উল্লাসের পাশাপাশি উৎসবে মেতে ওঠে পুরো উত্তর লন্ডনও।
এমিরেটস স্টেডিয়াম ও ক্লাবের ট্রেনিং গ্রাউন্ডের আশপাশে হাজারো সমর্থক লাল-সাদা পতাকা নিয়ে উদযাপনে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় দলের শিরোপা জয় যেন নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে আর্সেনাল সমর্থকদের মধ্যে।
শিরোপা হারালেও প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি পেপ গার্দিওলা। অন্যদিকে এই ড্রয়ের মাধ্যমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল করেছে বোর্নমাউথ।

আপনার মতামত লিখুন