ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভারতে নবম-দশমে বাধ্যতামূলক তিন ভাষা, নেপথ্যে কী?


রুশাইদ আহমেদ
রুশাইদ আহমেদ সাব-এডিটর
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬

ভারতে নবম-দশমে বাধ্যতামূলক তিন ভাষা, নেপথ্যে কী?

ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড (Central Board of Secondary Education) নবম ও দশম শ্রেণির ভাষা শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি ভাষা অধ্যয়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যা বলছে বোর্ড

গত ১৫ মে জারি করা এক সার্কুলারে সিবিএসই জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে নবম ও দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে।

এর মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হতে হবে। নতুন নীতির আওতায় কোনো শিক্ষার্থী বিদেশি ভাষা নিতে চাইলে বাকি দুটি ভাষা ভারতীয় ভাষা হওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে।

বোর্ড জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য National Council of Educational Research and Training (এনসিইআরটি) প্রকাশিত নতুন পাঠ্যক্রম ও সিলেবাস পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভাষা শিক্ষাকে আরও কার্যকর এবং শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

ধাপে ধাপে এগোবে প্রক্রিয়া

যদিও চলতি শিক্ষাবর্ষ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই শুরু হয়েছে, তবুও নতুন নীতি বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার কথা জানিয়েছে সিবিএসই। এতে স্কুলগুলোকে নতুন পাঠ্যক্রম, শিক্ষণ পদ্ধতি এবং শেখার ফলাফল সম্পর্কে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি ভাষা বাধ্যতামূলক ভাষার তালিকায় না থাকলেও শিক্ষার্থীরা চাইলে অতিরিক্ত চতুর্থ ভাষা হিসেবে তা নিতে পারবে। ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে মাতৃভাষা ও দেশীয় ভাষার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগও বজায় থাকবে।

গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ডামাডোল

ভারতের বহুভাষিক সমাজব্যবস্থার বাস্তবতায় এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন রাজ্যে ভাষাভিত্তিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক ভাষার প্রশ্নে নতুন এই নীতি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র:

এনডিটিভি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভারতে নবম-দশমে বাধ্যতামূলক তিন ভাষা, নেপথ্যে কী?

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড (Central Board of Secondary Education) নবম ও দশম শ্রেণির ভাষা শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি ভাষা অধ্যয়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যা বলছে বোর্ড

গত ১৫ মে জারি করা এক সার্কুলারে সিবিএসই জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে নবম ও দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে।

এর মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হতে হবে। নতুন নীতির আওতায় কোনো শিক্ষার্থী বিদেশি ভাষা নিতে চাইলে বাকি দুটি ভাষা ভারতীয় ভাষা হওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে।

বোর্ড জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য National Council of Educational Research and Training (এনসিইআরটি) প্রকাশিত নতুন পাঠ্যক্রম ও সিলেবাস পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভাষা শিক্ষাকে আরও কার্যকর এবং শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

ধাপে ধাপে এগোবে প্রক্রিয়া

যদিও চলতি শিক্ষাবর্ষ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই শুরু হয়েছে, তবুও নতুন নীতি বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার কথা জানিয়েছে সিবিএসই। এতে স্কুলগুলোকে নতুন পাঠ্যক্রম, শিক্ষণ পদ্ধতি এবং শেখার ফলাফল সম্পর্কে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি ভাষা বাধ্যতামূলক ভাষার তালিকায় না থাকলেও শিক্ষার্থীরা চাইলে অতিরিক্ত চতুর্থ ভাষা হিসেবে তা নিতে পারবে। ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে মাতৃভাষা ও দেশীয় ভাষার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগও বজায় থাকবে।

গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ডামাডোল

ভারতের বহুভাষিক সমাজব্যবস্থার বাস্তবতায় এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন রাজ্যে ভাষাভিত্তিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক ভাষার প্রশ্নে নতুন এই নীতি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র:

এনডিটিভি


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ