দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গাজীপুর জেলায় গত কয়েক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে অনেকেরই প্রথমে জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দেয়। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে, চোখ লাল হয়ে যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও দেখা যাচ্ছে। কয়েকজন শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে খুব সহজেই অন্য শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন হয়নি, তাদের ঝুঁকি বেশি। অপুষ্টি থাকলে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কাও থাকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বেড ও ওষুধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং অভিভাবকদের সচেতন করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেছেন, শিশুদের নিয়মিত হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই শিশুদের সুস্থতার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গাজীপুর জেলায় গত কয়েক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে অনেকেরই প্রথমে জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দেয়। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে, চোখ লাল হয়ে যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও দেখা যাচ্ছে। কয়েকজন শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে খুব সহজেই অন্য শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন হয়নি, তাদের ঝুঁকি বেশি। অপুষ্টি থাকলে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কাও থাকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বেড ও ওষুধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং অভিভাবকদের সচেতন করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেছেন, শিশুদের নিয়মিত হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই শিশুদের সুস্থতার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

আপনার মতামত লিখুন