ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে তিনি প্রস্তুত। ক্রেমলিনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী ইউরি উশাকভের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস।
উশাকভ জানান, সাম্প্রতিক ফোনালাপে পুতিন ট্রাম্পকে বলেন, ৯ মে পালিত বিজয় দিবসের সময় তিনি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে আগ্রহী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি উদযাপন করে রাশিয়া। ঐতিহাসিক এই দিনকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে প্রতীকী গুরুত্ব দিচ্ছে মস্কো।
ক্রেমলিন সূত্রের মতে, প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী ওই ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। তবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতেও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। উশাকভ বলেন, ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং বিজয় দিবসকে “নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে যৌথ বিজয়ের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তার “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে, যদিও ইরান প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ট্রাম্পের দাবি, পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে রুশ প্রেসিডেন্টকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মূলত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। এতে একদিকে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া সম্ভব, অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারে রুশ বাহিনী। একই সঙ্গে এটি সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথও উন্মুক্ত করতে পারে, যদিও বাস্তবায়ন নির্ভর করবে কিয়েভের প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির ওপর।
এদিকে ইউক্রেন এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অতীতে রাশিয়ার প্রস্তাবিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিগুলো নিয়ে কিয়েভ সংশয় প্রকাশ করেছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, এমন প্রস্তাবকে মস্কো সামরিক পুনর্গঠনের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প–পুতিন যোগাযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতির প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান এই আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমাধানের চাপও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব ইউক্রেন সংকটের গতিপথে সাময়িক হলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এটি কেবল প্রতীকী উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বাস্তব কোনো শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটায়।
বিষয় : ইউক্রেন

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে তিনি প্রস্তুত। ক্রেমলিনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী ইউরি উশাকভের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস।
উশাকভ জানান, সাম্প্রতিক ফোনালাপে পুতিন ট্রাম্পকে বলেন, ৯ মে পালিত বিজয় দিবসের সময় তিনি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে আগ্রহী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি উদযাপন করে রাশিয়া। ঐতিহাসিক এই দিনকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে প্রতীকী গুরুত্ব দিচ্ছে মস্কো।
ক্রেমলিন সূত্রের মতে, প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী ওই ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। তবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতেও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। উশাকভ বলেন, ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং বিজয় দিবসকে “নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে যৌথ বিজয়ের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তার “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে, যদিও ইরান প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ট্রাম্পের দাবি, পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে রুশ প্রেসিডেন্টকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মূলত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। এতে একদিকে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া সম্ভব, অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারে রুশ বাহিনী। একই সঙ্গে এটি সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথও উন্মুক্ত করতে পারে, যদিও বাস্তবায়ন নির্ভর করবে কিয়েভের প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির ওপর।
এদিকে ইউক্রেন এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অতীতে রাশিয়ার প্রস্তাবিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিগুলো নিয়ে কিয়েভ সংশয় প্রকাশ করেছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, এমন প্রস্তাবকে মস্কো সামরিক পুনর্গঠনের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প–পুতিন যোগাযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতির প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান এই আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমাধানের চাপও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব ইউক্রেন সংকটের গতিপথে সাময়িক হলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এটি কেবল প্রতীকী উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বাস্তব কোনো শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটায়।

আপনার মতামত লিখুন