ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ধান হারিয়ে হাওরে হাহাকার, নিঃস্ব কৃষকের নীরব কান্না


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ধান হারিয়ে হাওরে হাহাকার, নিঃস্ব কৃষকের নীরব কান্না
ছবি : সংগৃহীত

হাওরজুড়ে এখন শুধু পানি আর পানি। যেখানে কিছুদিন আগেও সোনালি ধানে ভরে ছিল মাঠ, সেখানে আজ ঢেউয়ের তাণ্ডব। আকস্মিক বন্যা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে একের পর এক হাওরে তলিয়ে গেছে পাকা ধান। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। কারও চোখে পানি, কারও চোখে শূন্যতা। কারও মুখে কোনো কথা নেই, শুধু বোবা কান্না।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, অনেকেই শেষ সম্বল বিক্রি করে, ধারদেনা করে ধান চাষ করেছিলেন। বীজ, সার, শ্রম সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ছিল এবারের বোরো মৌসুমে। কিন্তু কাটার মুখে এসে সব ভেসে গেল পানিতে। কয়েক ঘণ্টার ঢল কেড়ে নিল মাসের পর মাসের পরিশ্রম।

এক কৃষক বলেন, “ধান ঘরে তুলতে পারলে ঋণ শোধ করতাম, সংসার চলত। এখন কীভাবে চলব, জানি না।” এমন কথা এখন হাওরের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে। অনেক পরিবার চাল কিনে খাওয়ার সামর্থ্যও হারিয়েছে।

হাওরাঞ্চলে ফসলহানির প্রভাব শুধু কৃষকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ধান না উঠলে শ্রমিকরা কাজ পাবে না, স্থানীয় বাজারে মন্দা দেখা দেবে, খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়বে চাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষতি সামাল দিতে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন জরুরি।

কৃষকদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে নগদ সহায়তা, বিনা সুদে ঋণ এবং আগামী মৌসুমের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার দিতে হবে। একই সঙ্গে হাওর রক্ষা বাঁধ ও আগাম বন্যা মোকাবিলায় টেকসই ব্যবস্থা না নিলে প্রতিবছরই এমন সর্বনাশ নেমে আসবে।

আজ হাওরে দাঁড়িয়ে বোঝা যায়, এটি শুধু ধানের ক্ষতি নয়। এটি স্বপ্ন ভাঙার গল্প, বেঁচে থাকার লড়াই। পানির নিচে ডুবে গেছে শুধু ফসল নয়, ডুবে গেছে অসংখ্য কৃষক পরিবারের আশা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


ধান হারিয়ে হাওরে হাহাকার, নিঃস্ব কৃষকের নীরব কান্না

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হাওরজুড়ে এখন শুধু পানি আর পানি। যেখানে কিছুদিন আগেও সোনালি ধানে ভরে ছিল মাঠ, সেখানে আজ ঢেউয়ের তাণ্ডব। আকস্মিক বন্যা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে একের পর এক হাওরে তলিয়ে গেছে পাকা ধান। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। কারও চোখে পানি, কারও চোখে শূন্যতা। কারও মুখে কোনো কথা নেই, শুধু বোবা কান্না।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, অনেকেই শেষ সম্বল বিক্রি করে, ধারদেনা করে ধান চাষ করেছিলেন। বীজ, সার, শ্রম সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ছিল এবারের বোরো মৌসুমে। কিন্তু কাটার মুখে এসে সব ভেসে গেল পানিতে। কয়েক ঘণ্টার ঢল কেড়ে নিল মাসের পর মাসের পরিশ্রম।

এক কৃষক বলেন, “ধান ঘরে তুলতে পারলে ঋণ শোধ করতাম, সংসার চলত। এখন কীভাবে চলব, জানি না।” এমন কথা এখন হাওরের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে। অনেক পরিবার চাল কিনে খাওয়ার সামর্থ্যও হারিয়েছে।

হাওরাঞ্চলে ফসলহানির প্রভাব শুধু কৃষকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ধান না উঠলে শ্রমিকরা কাজ পাবে না, স্থানীয় বাজারে মন্দা দেখা দেবে, খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়বে চাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষতি সামাল দিতে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন জরুরি।

কৃষকদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে নগদ সহায়তা, বিনা সুদে ঋণ এবং আগামী মৌসুমের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার দিতে হবে। একই সঙ্গে হাওর রক্ষা বাঁধ ও আগাম বন্যা মোকাবিলায় টেকসই ব্যবস্থা না নিলে প্রতিবছরই এমন সর্বনাশ নেমে আসবে।

আজ হাওরে দাঁড়িয়ে বোঝা যায়, এটি শুধু ধানের ক্ষতি নয়। এটি স্বপ্ন ভাঙার গল্প, বেঁচে থাকার লড়াই। পানির নিচে ডুবে গেছে শুধু ফসল নয়, ডুবে গেছে অসংখ্য কৃষক পরিবারের আশা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ