ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রযুক্তি নির্ভর হাওর রক্ষা উদ্যোগ জরুরি


মোঃ সাইদুর রহমান আপন
মোঃ সাইদুর রহমান আপন Sherpur District Correspondent
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রযুক্তি নির্ভর হাওর রক্ষা উদ্যোগ জরুরি
ছবি : প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল প্রতি বছরই বন্যা ও অকাল প্লাবনের ঝুঁকিতে থাকে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা পুরোপুরি হাওরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগও এখানে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বোরো ধান কাটার মৌসুমে হাওরের বাঁধ ভেঙে গেলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়।

এই বাস্তবতায় স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি- শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, হাওর রক্ষায় প্রয়োজন প্রযুক্তিনির্ভর, টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা। তারা মনে করেন, বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগ মোকাবিলা অনেক সহজ হবে। এক্সকাভেটর, ভেকু (ব্যাকহো)সহ প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি যদি সরকারি তত্ত্বাবধানে প্রতিটি উপজেলায় সংরক্ষিত থাকে, তাহলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেখা যায়, বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রায়ই বিলম্ব হয় এবং অনেক সময় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ঠিকাদারনির্ভর ব্যবস্থার কারণে সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা তদারকির ঘাটতির মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের অধীনে নিজস্ব যন্ত্রপাতি থাকলে এসব সীমাবদ্ধতা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এতে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি কাজের গুণগত মানও নিশ্চিত করা যাবে।

হাওরপাড়ের কৃষকেরা আরও মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। স্যাটেলাইট মনিটরিং, ড্রোন সার্ভে এবং ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঁধের দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো আগেভাগেই শনাক্ত করা গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুললে কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওর অঞ্চলের নদী ও খাল নিয়মিত খনন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে অনেক নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত খননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে আকস্মিক প্লাবনের ঝুঁকি কমবে এবং কৃষিজমি সুরক্ষিত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকার যদি দ্রুত সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করে- যেমন উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং নদী-খাল খনন কার্যক্রম জোরদার- তাহলে হাওরাঞ্চলের মানুষ অনেকাংশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।

টেকসই উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওর রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


প্রযুক্তি নির্ভর হাওর রক্ষা উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল প্রতি বছরই বন্যা ও অকাল প্লাবনের ঝুঁকিতে থাকে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা পুরোপুরি হাওরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগও এখানে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বোরো ধান কাটার মৌসুমে হাওরের বাঁধ ভেঙে গেলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়।

এই বাস্তবতায় স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি- শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, হাওর রক্ষায় প্রয়োজন প্রযুক্তিনির্ভর, টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা। তারা মনে করেন, বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগ মোকাবিলা অনেক সহজ হবে। এক্সকাভেটর, ভেকু (ব্যাকহো)সহ প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি যদি সরকারি তত্ত্বাবধানে প্রতিটি উপজেলায় সংরক্ষিত থাকে, তাহলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেখা যায়, বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রায়ই বিলম্ব হয় এবং অনেক সময় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ঠিকাদারনির্ভর ব্যবস্থার কারণে সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা তদারকির ঘাটতির মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের অধীনে নিজস্ব যন্ত্রপাতি থাকলে এসব সীমাবদ্ধতা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এতে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি কাজের গুণগত মানও নিশ্চিত করা যাবে।

হাওরপাড়ের কৃষকেরা আরও মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। স্যাটেলাইট মনিটরিং, ড্রোন সার্ভে এবং ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঁধের দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো আগেভাগেই শনাক্ত করা গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুললে কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওর অঞ্চলের নদী ও খাল নিয়মিত খনন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে অনেক নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত খননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে আকস্মিক প্লাবনের ঝুঁকি কমবে এবং কৃষিজমি সুরক্ষিত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকার যদি দ্রুত সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করে- যেমন উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং নদী-খাল খনন কার্যক্রম জোরদার- তাহলে হাওরাঞ্চলের মানুষ অনেকাংশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।

টেকসই উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওর রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ