ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কণ্ঠ ও পরিচয় রক্ষায় ট্রেডমার্কের পথে টেইলর সুইফট


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কণ্ঠ ও পরিচয় রক্ষায় ট্রেডমার্কের পথে টেইলর সুইফট

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও তারকাদের কণ্ঠ-চেহারা অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নিজের পরিচয় সুরক্ষায় নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট। কণ্ঠস্বর ও ভিজ্যুয়াল পরিচয়কে ট্রেডমার্ক করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতে তিনি উদ্যোগী হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির বরাতে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল টেইলর সুইফটের প্রতিষ্ঠান ‘টিএএস রাইটস ম্যানেজমেন্ট’-এর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে তিনটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আবেদন তার কণ্ঠস্বর সম্পর্কিত ট্রেডমার্ক এবং একটি ভিজ্যুয়াল পরিচয় সংক্রান্ত।

কণ্ঠস্বর সম্পর্কিত আবেদন দুটির মধ্যে রয়েছে “হেই, ইট’স টেইলর সুইফট” এবং “হেই, ইট’স টেইলর” বাক্যাংশ। তৃতীয় আবেদনটি একটি নির্দিষ্ট ভিজ্যুয়াল চিত্রকে কেন্দ্র করে, যেখানে গোলাপি গিটার হাতে টেইলর সুইফটকে ঝলমলে বডিস্যুট ও রুপালি বুট পরিহিত অবস্থায় গোলাপি মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আইনজীবী জোশ গারবেন প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কারণে তারকাদের কণ্ঠ ও চেহারা অনুমতি ছাড়াই ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, যা বিনোদন জগতে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণভাবে ট্রেডমার্ক আইন কোনো ব্যক্তির সম্পূর্ণ চেহারা বা কণ্ঠকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি হয়নি। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ট্রেডমার্কের মাধ্যমে ‘রাইট অব পাবলিসিটি’ আইনের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে, বিশেষ করে এআই-নির্ভর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।

টেইলর সুইফটের ক্ষেত্রে এআই অপব্যবহারের উদাহরণও রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুমতি ছাড়াই তার কৃত্রিম ছবি ও ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই চ্যাটবটেও তার নাম ও চেহারা ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত কিছু এআই-নির্মিত ছবিতে ভুলভাবে দেখানো হয়েছিল যে টেইলর সুইফট তাকে সমর্থন করছেন। এ ঘটনাও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে।

এছাড়া ইন্টারনেটে তার নামে ভুয়া ও আপত্তিকর এআই-নির্মিত কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রেডমার্ক সুরক্ষা একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যেই ‘রাইট অব পাবলিসিটি’ আইন থাকলেও তা সীমিত পরিসরে কার্যকর। অন্যদিকে ফেডারেল পর্যায়ে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা করা সম্ভব হওয়ায় এটি আরও শক্তিশালী আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে একই ধরনের কৌশলে অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহিও ট্রেডমার্ক সুরক্ষা পেয়েছিলেন, যা তার কণ্ঠ ও পরিচয় সংরক্ষণে সহায়ক হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনোদন জগতের তারকারা এখন কেবল জনপ্রিয়তার ঝুঁকিতেই নয়, বরং ডিজিটাল পরিচয় চুরির নতুন ঝুঁকির মুখেও রয়েছেন। এআই প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

টেইলর সুইফটের এই উদ্যোগ তাই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতে বিনোদন জগতে ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষার একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিষয় : টেইলর সুইফট

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কণ্ঠ ও পরিচয় রক্ষায় ট্রেডমার্কের পথে টেইলর সুইফট

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও তারকাদের কণ্ঠ-চেহারা অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নিজের পরিচয় সুরক্ষায় নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট। কণ্ঠস্বর ও ভিজ্যুয়াল পরিচয়কে ট্রেডমার্ক করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতে তিনি উদ্যোগী হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির বরাতে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল টেইলর সুইফটের প্রতিষ্ঠান ‘টিএএস রাইটস ম্যানেজমেন্ট’-এর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে তিনটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আবেদন তার কণ্ঠস্বর সম্পর্কিত ট্রেডমার্ক এবং একটি ভিজ্যুয়াল পরিচয় সংক্রান্ত।

কণ্ঠস্বর সম্পর্কিত আবেদন দুটির মধ্যে রয়েছে “হেই, ইট’স টেইলর সুইফট” এবং “হেই, ইট’স টেইলর” বাক্যাংশ। তৃতীয় আবেদনটি একটি নির্দিষ্ট ভিজ্যুয়াল চিত্রকে কেন্দ্র করে, যেখানে গোলাপি গিটার হাতে টেইলর সুইফটকে ঝলমলে বডিস্যুট ও রুপালি বুট পরিহিত অবস্থায় গোলাপি মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আইনজীবী জোশ গারবেন প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কারণে তারকাদের কণ্ঠ ও চেহারা অনুমতি ছাড়াই ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, যা বিনোদন জগতে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণভাবে ট্রেডমার্ক আইন কোনো ব্যক্তির সম্পূর্ণ চেহারা বা কণ্ঠকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি হয়নি। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ট্রেডমার্কের মাধ্যমে ‘রাইট অব পাবলিসিটি’ আইনের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে, বিশেষ করে এআই-নির্ভর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।

টেইলর সুইফটের ক্ষেত্রে এআই অপব্যবহারের উদাহরণও রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুমতি ছাড়াই তার কৃত্রিম ছবি ও ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই চ্যাটবটেও তার নাম ও চেহারা ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত কিছু এআই-নির্মিত ছবিতে ভুলভাবে দেখানো হয়েছিল যে টেইলর সুইফট তাকে সমর্থন করছেন। এ ঘটনাও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে।

এছাড়া ইন্টারনেটে তার নামে ভুয়া ও আপত্তিকর এআই-নির্মিত কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রেডমার্ক সুরক্ষা একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যেই ‘রাইট অব পাবলিসিটি’ আইন থাকলেও তা সীমিত পরিসরে কার্যকর। অন্যদিকে ফেডারেল পর্যায়ে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা করা সম্ভব হওয়ায় এটি আরও শক্তিশালী আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে একই ধরনের কৌশলে অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহিও ট্রেডমার্ক সুরক্ষা পেয়েছিলেন, যা তার কণ্ঠ ও পরিচয় সংরক্ষণে সহায়ক হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনোদন জগতের তারকারা এখন কেবল জনপ্রিয়তার ঝুঁকিতেই নয়, বরং ডিজিটাল পরিচয় চুরির নতুন ঝুঁকির মুখেও রয়েছেন। এআই প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

টেইলর সুইফটের এই উদ্যোগ তাই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতে বিনোদন জগতে ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষার একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ