ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শৈশবে গিলে ফেলা থার্মোমিটার ২০ বছর পর বের করে চমকে উঠলেন যুবক


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

শৈশবে গিলে ফেলা থার্মোমিটার ২০ বছর পর বের করে চমকে উঠলেন যুবক

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরের ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দীর্ঘ দুই দশক পর নিজের শরীরের ভেতরে থাকা একটি পুরোনো রহস্যের মুখোমুখি হয়েছেন। শৈশবে গিলে ফেলা পারদভর্তি থার্মোমিটার এত বছর শরীরের ভেতরেই থেকে যাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি ধরা পড়ে হাসপাতালে করা এক পরীক্ষায়। চিকিৎসকরা জটিল এন্ডোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে থার্মোমিটারটি অপসারণ করেন।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলে ওই ব্যক্তি, যার উপাধি ওয়াং, প্রাথমিকভাবে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সন্দেহে চিকিৎসা নিতে যান। কিন্তু আল্ট্রাসাউন্ড ও সিটি স্ক্যানসহ বিস্তারিত পরীক্ষায় তার ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ ডুওডেনামে একটি ধাতব বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি একটি পুরোনো পারদভর্তি থার্মোমিটার।

চিকিৎসকদের কাছে দেওয়া বিবৃতিতে ওয়াং জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি দুর্ঘটনাবশত থার্মোমিটারটি গিলে ফেলেছিলেন। সেই সময় ভয় এবং পরিবারের কাছে বিষয়টি লুকানোর কারণে কোনো চিকিৎসা নেননি তিনি। দীর্ঘ সময় কোনো শারীরিক সমস্যা না হওয়ায় ঘটনাটি তিনি প্রায় ভুলে যান।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ পেটব্যথা শুরু হলে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, থার্মোমিটারটি দীর্ঘদিন ধরে অন্ত্রের দেয়ালে চাপ তৈরি করে আসছিল, যা যেকোনো সময় অন্ত্র ছিদ্র বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারত।

চিকিৎসকরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত এই জটিল প্রক্রিয়ায় থার্মোমিটারটি সফলভাবে বের করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় শরীরের ভেতরে থাকার পরও থার্মোমিটারটি ভাঙেনি, যদিও এর অভ্যন্তরীণ দাগ অনেকটাই মুছে গিয়েছিল।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, পারদভর্তি থার্মোমিটার শরীরের ভেতরে ভেঙে গেলে মারাত্মক বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। পারদ সরাসরি রক্তে মিশে গেলে স্নায়ুতন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তবে এই ঘটনায় থার্মোমিটার অক্ষত থাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে বিদেশি বস্তু দীর্ঘদিন থেকে গেলে তা অনেক সময় উপসর্গ ছাড়াই ভয়াবহ জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। চীনে প্রতি বছর অসংখ্য শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ভুলবশত ছোট বস্তু গিলে ফেলার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

ঘটনার পর চিকিৎসকরা সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা লুকিয়ে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ছোট একটি অবহেলা দীর্ঘমেয়াদে প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, মানবদেহ দীর্ঘ সময় অনেক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সহ্য করতে সক্ষম হলেও ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষুদ্র একটি বস্তুও ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

বিষয় : শৈশব

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শৈশবে গিলে ফেলা থার্মোমিটার ২০ বছর পর বের করে চমকে উঠলেন যুবক

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরের ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দীর্ঘ দুই দশক পর নিজের শরীরের ভেতরে থাকা একটি পুরোনো রহস্যের মুখোমুখি হয়েছেন। শৈশবে গিলে ফেলা পারদভর্তি থার্মোমিটার এত বছর শরীরের ভেতরেই থেকে যাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি ধরা পড়ে হাসপাতালে করা এক পরীক্ষায়। চিকিৎসকরা জটিল এন্ডোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে থার্মোমিটারটি অপসারণ করেন।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলে ওই ব্যক্তি, যার উপাধি ওয়াং, প্রাথমিকভাবে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সন্দেহে চিকিৎসা নিতে যান। কিন্তু আল্ট্রাসাউন্ড ও সিটি স্ক্যানসহ বিস্তারিত পরীক্ষায় তার ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ ডুওডেনামে একটি ধাতব বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি একটি পুরোনো পারদভর্তি থার্মোমিটার।

চিকিৎসকদের কাছে দেওয়া বিবৃতিতে ওয়াং জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি দুর্ঘটনাবশত থার্মোমিটারটি গিলে ফেলেছিলেন। সেই সময় ভয় এবং পরিবারের কাছে বিষয়টি লুকানোর কারণে কোনো চিকিৎসা নেননি তিনি। দীর্ঘ সময় কোনো শারীরিক সমস্যা না হওয়ায় ঘটনাটি তিনি প্রায় ভুলে যান।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ পেটব্যথা শুরু হলে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, থার্মোমিটারটি দীর্ঘদিন ধরে অন্ত্রের দেয়ালে চাপ তৈরি করে আসছিল, যা যেকোনো সময় অন্ত্র ছিদ্র বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারত।

চিকিৎসকরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত এই জটিল প্রক্রিয়ায় থার্মোমিটারটি সফলভাবে বের করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় শরীরের ভেতরে থাকার পরও থার্মোমিটারটি ভাঙেনি, যদিও এর অভ্যন্তরীণ দাগ অনেকটাই মুছে গিয়েছিল।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, পারদভর্তি থার্মোমিটার শরীরের ভেতরে ভেঙে গেলে মারাত্মক বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। পারদ সরাসরি রক্তে মিশে গেলে স্নায়ুতন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তবে এই ঘটনায় থার্মোমিটার অক্ষত থাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে বিদেশি বস্তু দীর্ঘদিন থেকে গেলে তা অনেক সময় উপসর্গ ছাড়াই ভয়াবহ জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। চীনে প্রতি বছর অসংখ্য শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ভুলবশত ছোট বস্তু গিলে ফেলার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

ঘটনার পর চিকিৎসকরা সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা লুকিয়ে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ছোট একটি অবহেলা দীর্ঘমেয়াদে প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, মানবদেহ দীর্ঘ সময় অনেক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সহ্য করতে সক্ষম হলেও ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষুদ্র একটি বস্তুও ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ