বরগুনার তালতলী উপজেলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের দাবিতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “যুদ্ধ থামাও, পৃথিবী বাঁচাও” স্লোগানকে সামনে রেখে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্প বন্ধের দাবি জানান।
তালতলী পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, যেখানে পরিবেশ রক্ষা, নদী বাঁচানো এবং কয়লাভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, কয়লা, তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, এসব প্রকল্পের কারণে বায়ুদূষণ বাড়ছে, নদ-নদী দূষিত হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা নদীতে ফেলার কারণে পানি দূষণ বাড়ছে, যা ইলিশ মাছের উৎপাদন হ্রাস করছে এবং স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা সংকটে ফেলছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও দূষণের কারণে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ আশপাশের জীববৈচিত্র্য, কৃষিজমি এবং মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো সংকটের মধ্যেও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন কার্যক্রম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ, গ্যাস ও এলএনজি প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ন্যায়সঙ্গত ও পরিকল্পিত রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তালতলী পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সভাপতি সুলতান আহমেদ, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের তালতলী–আমতলী সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক হাইরাজ মাঝি, পরিবেশকর্মী রফিকুল ইসলাম অন্তর, জেলে আলমগীর হাওলাদার, মাসুম শিকদার, হান্নান গাজী, মো. শাহীনসহ স্থানীয় আরও অনেকে।
আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তালতলী থেকে পরিবেশ সুরক্ষা, নদী রক্ষা এবং টেকসই ও সবুজ ভবিষ্যতের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বরগুনার তালতলী উপজেলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের দাবিতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “যুদ্ধ থামাও, পৃথিবী বাঁচাও” স্লোগানকে সামনে রেখে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্প বন্ধের দাবি জানান।
তালতলী পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, যেখানে পরিবেশ রক্ষা, নদী বাঁচানো এবং কয়লাভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, কয়লা, তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, এসব প্রকল্পের কারণে বায়ুদূষণ বাড়ছে, নদ-নদী দূষিত হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা নদীতে ফেলার কারণে পানি দূষণ বাড়ছে, যা ইলিশ মাছের উৎপাদন হ্রাস করছে এবং স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা সংকটে ফেলছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও দূষণের কারণে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ আশপাশের জীববৈচিত্র্য, কৃষিজমি এবং মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো সংকটের মধ্যেও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন কার্যক্রম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ, গ্যাস ও এলএনজি প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ন্যায়সঙ্গত ও পরিকল্পিত রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তালতলী পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সভাপতি সুলতান আহমেদ, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের তালতলী–আমতলী সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক হাইরাজ মাঝি, পরিবেশকর্মী রফিকুল ইসলাম অন্তর, জেলে আলমগীর হাওলাদার, মাসুম শিকদার, হান্নান গাজী, মো. শাহীনসহ স্থানীয় আরও অনেকে।
আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তালতলী থেকে পরিবেশ সুরক্ষা, নদী রক্ষা এবং টেকসই ও সবুজ ভবিষ্যতের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন