ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কলম্বিয়ায় মহাসড়কে ভয়াবহ বোমা হামলা, নিহত ১৪


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

কলম্বিয়ায় মহাসড়কে ভয়াবহ বোমা হামলা, নিহত ১৪

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৮ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। একাধিক এলাকায় ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার কাউকা অঞ্চলের কাজিবিও এলাকার এল টুনেল অংশে এই বিস্ফোরণ ঘটে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহন লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কয়েকটি গাড়ি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং সড়কের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কাউকা অঞ্চলের গভর্নর অক্টাভিও গুজমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত এবং ৩৮ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

তিনি এ ঘটনাকে বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই বর্বরতার মুখোমুখি হয়ে কাউকা একা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনি দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

গভর্নরের প্রকাশ করা ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। সড়কে ধ্বংসস্তূপ, আগুনে পোড়া গাড়ি এবং চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তোলে। ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী ও চিকিৎসাকর্মীরা পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।

একই দিনে কাউকার আরও কয়েকটি এলাকা—এল তাম্বো, কালোতো, পোপায়ান, গুয়াচেনে, মেরকাদেরেস ও মিরান্ডায় সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে বৃহত্তর অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।

কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি স্পষ্টতই একটি সন্ত্রাসী হামলা। তিনি হামলার জন্য ‘ইভান মোরদিস্কো’ নামে পরিচিত এক নেতার নেটওয়ার্ক এবং ‘জাইমে মার্টিনেজ’ গোষ্ঠীকে দায়ী করেন। নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং মাদক পাচারকারী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রকে দুর্বল করা যাবে না। সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে পার্শ্ববর্তী ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের গভর্নর ফ্রান্সিসকা তোরো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাৎক্ষণিক সহায়তা চেয়েছেন। তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

কর্তৃপক্ষ বলছে, কাউকা ও ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় এলাকা। তারা সমুদ্র ও নদীপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িত। বিশেষ করে বুয়েনাভেন্তুরা বন্দরের দিকে যাওয়া রুটগুলো মাদক পাচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্য আমেরিকা ও ইউরোপমুখী মাদক চালানের বড় অংশ এসব পথ ব্যবহার করে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব রুটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই সহিংসতা বাড়ছে। দুর্বল স্থানীয় প্রশাসন, দারিদ্র্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

সাম্প্রতিক এই হামলা কলম্বিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

#আর

বিষয় : কলম্বিয়া

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কলম্বিয়ায় মহাসড়কে ভয়াবহ বোমা হামলা, নিহত ১৪

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৮ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। একাধিক এলাকায় ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার কাউকা অঞ্চলের কাজিবিও এলাকার এল টুনেল অংশে এই বিস্ফোরণ ঘটে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহন লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কয়েকটি গাড়ি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং সড়কের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কাউকা অঞ্চলের গভর্নর অক্টাভিও গুজমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত এবং ৩৮ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

তিনি এ ঘটনাকে বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই বর্বরতার মুখোমুখি হয়ে কাউকা একা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনি দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

গভর্নরের প্রকাশ করা ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। সড়কে ধ্বংসস্তূপ, আগুনে পোড়া গাড়ি এবং চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তোলে। ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী ও চিকিৎসাকর্মীরা পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।

একই দিনে কাউকার আরও কয়েকটি এলাকা—এল তাম্বো, কালোতো, পোপায়ান, গুয়াচেনে, মেরকাদেরেস ও মিরান্ডায় সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে বৃহত্তর অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।

কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি স্পষ্টতই একটি সন্ত্রাসী হামলা। তিনি হামলার জন্য ‘ইভান মোরদিস্কো’ নামে পরিচিত এক নেতার নেটওয়ার্ক এবং ‘জাইমে মার্টিনেজ’ গোষ্ঠীকে দায়ী করেন। নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং মাদক পাচারকারী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রকে দুর্বল করা যাবে না। সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে পার্শ্ববর্তী ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের গভর্নর ফ্রান্সিসকা তোরো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাৎক্ষণিক সহায়তা চেয়েছেন। তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

কর্তৃপক্ষ বলছে, কাউকা ও ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় এলাকা। তারা সমুদ্র ও নদীপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িত। বিশেষ করে বুয়েনাভেন্তুরা বন্দরের দিকে যাওয়া রুটগুলো মাদক পাচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্য আমেরিকা ও ইউরোপমুখী মাদক চালানের বড় অংশ এসব পথ ব্যবহার করে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব রুটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই সহিংসতা বাড়ছে। দুর্বল স্থানীয় প্রশাসন, দারিদ্র্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

সাম্প্রতিক এই হামলা কলম্বিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ