রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটকে ঘিরে। সেখানে দাবি করা হয়, ডাকসু সদস্য আবদুল্লাহ আল মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। পরে ওই স্ক্রিনশট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অরণ্য আবির নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই স্ক্রিনশটটি শেয়ার করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নও তোলা হয়। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পরে স্বাধীন ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত স্ক্রিনশটটি ভুয়া। তাদের যাচাই অনুযায়ী, বিতর্কিত পোস্টটি আবদুল্লাহ আল মাহমুদের অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া হয়নি। বরং অন্য একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টটি করা হয়েছিল এবং সেটিকে সম্পাদনা করে নতুনভাবে ছড়ানো হয়।
এই তথ্য সামনে আসার আগেই শাহবাগ থানার সামনে উত্তেজিত একদল নেতাকর্মী জড়ো হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে উপস্থিত দুই ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির অভিযোগ, তথ্য যাচাই ছাড়াই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানার সামনে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্লোগান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং উত্তেজনার মধ্যে দুই নেতাকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে থানার ভেতরে নিয়ে যান। কিছু সময় তাদের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে রাখা হয়।
থানার সামনে এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উত্তেজনা চলতে থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকল্প পথে শাহবাগ থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে দুই নেতাকে বের করে নেওয়া হয়। এরপর তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহত দুই নেতার মধ্যে এ বি জুবায়ের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবং মুসাদ্দিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থনে তারা নির্বাচিত হন।
ঘটনাটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সামনে এনেছে। একটি যাচাইবিহীন স্ক্রিনশট কীভাবে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার জন্ম দিতে পারে, শাহবাগের ঘটনাকে তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মতপার্থক্য বা রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো রোধে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।
শাহবাগের এ ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ছাত্ররাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
#আর
বিষয় : শাহবাগ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটকে ঘিরে। সেখানে দাবি করা হয়, ডাকসু সদস্য আবদুল্লাহ আল মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। পরে ওই স্ক্রিনশট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অরণ্য আবির নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই স্ক্রিনশটটি শেয়ার করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নও তোলা হয়। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পরে স্বাধীন ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত স্ক্রিনশটটি ভুয়া। তাদের যাচাই অনুযায়ী, বিতর্কিত পোস্টটি আবদুল্লাহ আল মাহমুদের অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া হয়নি। বরং অন্য একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টটি করা হয়েছিল এবং সেটিকে সম্পাদনা করে নতুনভাবে ছড়ানো হয়।
এই তথ্য সামনে আসার আগেই শাহবাগ থানার সামনে উত্তেজিত একদল নেতাকর্মী জড়ো হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে উপস্থিত দুই ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির অভিযোগ, তথ্য যাচাই ছাড়াই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানার সামনে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্লোগান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং উত্তেজনার মধ্যে দুই নেতাকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে থানার ভেতরে নিয়ে যান। কিছু সময় তাদের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে রাখা হয়।
থানার সামনে এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উত্তেজনা চলতে থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকল্প পথে শাহবাগ থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে দুই নেতাকে বের করে নেওয়া হয়। এরপর তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহত দুই নেতার মধ্যে এ বি জুবায়ের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবং মুসাদ্দিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থনে তারা নির্বাচিত হন।
ঘটনাটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সামনে এনেছে। একটি যাচাইবিহীন স্ক্রিনশট কীভাবে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার জন্ম দিতে পারে, শাহবাগের ঘটনাকে তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মতপার্থক্য বা রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো রোধে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।
শাহবাগের এ ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ছাত্ররাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
#আর

আপনার মতামত লিখুন