ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ওসমানীনগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে 'চড়ক পূজা' সম্পন্ন হয়েছে



ওসমানীনগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে 'চড়ক পূজা' সম্পন্ন হয়েছে
ছবি : প্রতিনিধি

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের পুরকায়স্থ পাড়া গ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী 'চড়ক পূজা'। টানা ৩২ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা এলাকাবাসীর কাছে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রন মালাকার (আদল সন্ন্যাসী)-এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় এবং গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিবছরের মতো এবারও পূজার আয়োজন সম্পন্ন হয়। দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের শুরু হয় নীল ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রথমে নীল ষষ্ঠী পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং মধ্যরাতে মহাকালের ভোগের মাধ্যমে চড়ক পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এরপর কালীকাচ ও মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হয়।

পরদিন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মহাদেবের প্রতীক হিসেবে চড়ক গাছ স্থাপন করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে হরগৌরী পূজা, চড়ক গাছের তলায় মহাদেবের আরাধনা, অগ্নিহোত্র যজ্ঞসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দিনভর চলে শিব-গৌরী নৃত্য, কালী নৃত্য এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার, যা ভক্তদের মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে চড়ক গাছে ভক্তদের অংশগ্রহণে বিশেষ আচার পালন করা হয়, যা এই পূজার ঐতিহ্যবাহী রীতির অংশ। এতে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন দেখা যায়।

অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মতিলাল বাদ্যকর ও তার দল। দীর্ঘদিন ধরে একই ধারাবাহিকতায় এই পূজা পরিচালনা করে আসছেন রন মালাকার (আদল সন্ন্যাসী), যার উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই এ ঐতিহ্য টিকে আছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন সিহট্ট পুরোহিত মণ্ডলী সংঘের সভাপতি রক্ষাবিজয় ভট্টাচার্য, রিপন ভৌমিক, সমর দেব, কৃষ্ণ গিরি, সাংবাদিক সুবল চন্দ্র দাস, অনিক দেবসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, ৩২ বছরের ধারাবাহিক এই পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি এলাকার ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সন্ন্যাসীদের মধ্যে ছিলেন কানু কর, সজল বাদ্যকর, সজল কর, নিলয় কর, আশিষ বাদ্যকর, সাধন কর, চয়ন কর, বিধিন করসহ আরও অনেকে। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিণত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


ওসমানীনগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে 'চড়ক পূজা' সম্পন্ন হয়েছে

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের পুরকায়স্থ পাড়া গ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী 'চড়ক পূজা'। টানা ৩২ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা এলাকাবাসীর কাছে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রন মালাকার (আদল সন্ন্যাসী)-এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় এবং গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিবছরের মতো এবারও পূজার আয়োজন সম্পন্ন হয়। দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের শুরু হয় নীল ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রথমে নীল ষষ্ঠী পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং মধ্যরাতে মহাকালের ভোগের মাধ্যমে চড়ক পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এরপর কালীকাচ ও মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হয়।

পরদিন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মহাদেবের প্রতীক হিসেবে চড়ক গাছ স্থাপন করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে হরগৌরী পূজা, চড়ক গাছের তলায় মহাদেবের আরাধনা, অগ্নিহোত্র যজ্ঞসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দিনভর চলে শিব-গৌরী নৃত্য, কালী নৃত্য এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার, যা ভক্তদের মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে চড়ক গাছে ভক্তদের অংশগ্রহণে বিশেষ আচার পালন করা হয়, যা এই পূজার ঐতিহ্যবাহী রীতির অংশ। এতে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন দেখা যায়।

অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মতিলাল বাদ্যকর ও তার দল। দীর্ঘদিন ধরে একই ধারাবাহিকতায় এই পূজা পরিচালনা করে আসছেন রন মালাকার (আদল সন্ন্যাসী), যার উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই এ ঐতিহ্য টিকে আছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন সিহট্ট পুরোহিত মণ্ডলী সংঘের সভাপতি রক্ষাবিজয় ভট্টাচার্য, রিপন ভৌমিক, সমর দেব, কৃষ্ণ গিরি, সাংবাদিক সুবল চন্দ্র দাস, অনিক দেবসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, ৩২ বছরের ধারাবাহিক এই পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি এলাকার ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সন্ন্যাসীদের মধ্যে ছিলেন কানু কর, সজল বাদ্যকর, সজল কর, নিলয় কর, আশিষ বাদ্যকর, সাধন কর, চয়ন কর, বিধিন করসহ আরও অনেকে। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিণত হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ