বুদাপেস্ট, ২১ এপ্রিল: হাঙ্গেরির আসন্ন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার ক্ষমতায় গেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে দেশটির প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত কেউ হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করলে তাকে আটক করা হবে। ফলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এটি সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বুদাপেস্টে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাজিয়ার এ অবস্থান জানান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী, পরোয়ানাভুক্ত কোনো ব্যক্তি সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
পিটার মাজিয়ার বলেন, হাঙ্গেরি যদি আইসিসির সদস্য থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না।
তার এ বক্তব্যকে সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যা এখনো বহাল রয়েছে।
হাঙ্গেরির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান দীর্ঘদিন ধরেই নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি গত বছর ঘোষণা দিয়েছিলেন, হাঙ্গেরি আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানা কার্যকর এড়াতেই অরবানের সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেয়।
আইসিসি থেকে হাঙ্গেরির প্রত্যাহার কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল চলতি বছরের ২ জুন। তা কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হাঙ্গেরিই হতো প্রথম দেশ, যারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যপদ ত্যাগ করছে।
তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়া পিটার মাজিয়ার সেই সিদ্ধান্ত বদলের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার দল বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা থেকে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করবে।
মাজিয়ারের ভাষায়, ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই হাঙ্গেরির আইসিসিতে থাকা উচিত। তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার বাইরে চলে গেলে দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাজিয়ারের এই অবস্থান শুধু আইসিসি প্রশ্নেই নয়, বরং অরবানের ১৬ বছরের শাসনামলের পররাষ্ট্রনীতির বিপরীত এক নতুন দিকনির্দেশনা। অরবান যেখানে জাতীয়তাবাদী ও ইউরো-সংশয়ী অবস্থানে ছিলেন, সেখানে মাজিয়ার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার বার্তা দিচ্ছেন।
এদিকে নেতানিয়াহুকে ঘিরে ইউরোপে কূটনৈতিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আইসিসির সদস্য দেশগুলোতে সফরের ক্ষেত্রে এখন তাকে সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি বিবেচনায় রাখতে হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো মাজিয়ারের ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বজায় রাখতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিশ্রুতি জরুরি।
অন্যদিকে ইসরায়েল আইসিসির অভিযোগ ও পরোয়ানাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। দেশটি আদালতের এখতিয়ারও স্বীকার করে না।
হাঙ্গেরিতে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাজিয়ারের ঘোষণাগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ইউরোপীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের।
#আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
বুদাপেস্ট, ২১ এপ্রিল: হাঙ্গেরির আসন্ন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার ক্ষমতায় গেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে দেশটির প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত কেউ হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করলে তাকে আটক করা হবে। ফলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এটি সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বুদাপেস্টে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাজিয়ার এ অবস্থান জানান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী, পরোয়ানাভুক্ত কোনো ব্যক্তি সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
পিটার মাজিয়ার বলেন, হাঙ্গেরি যদি আইসিসির সদস্য থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না।
তার এ বক্তব্যকে সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যা এখনো বহাল রয়েছে।
হাঙ্গেরির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান দীর্ঘদিন ধরেই নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি গত বছর ঘোষণা দিয়েছিলেন, হাঙ্গেরি আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানা কার্যকর এড়াতেই অরবানের সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেয়।
আইসিসি থেকে হাঙ্গেরির প্রত্যাহার কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল চলতি বছরের ২ জুন। তা কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হাঙ্গেরিই হতো প্রথম দেশ, যারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যপদ ত্যাগ করছে।
তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়া পিটার মাজিয়ার সেই সিদ্ধান্ত বদলের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার দল বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা থেকে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করবে।
মাজিয়ারের ভাষায়, ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই হাঙ্গেরির আইসিসিতে থাকা উচিত। তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার বাইরে চলে গেলে দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাজিয়ারের এই অবস্থান শুধু আইসিসি প্রশ্নেই নয়, বরং অরবানের ১৬ বছরের শাসনামলের পররাষ্ট্রনীতির বিপরীত এক নতুন দিকনির্দেশনা। অরবান যেখানে জাতীয়তাবাদী ও ইউরো-সংশয়ী অবস্থানে ছিলেন, সেখানে মাজিয়ার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার বার্তা দিচ্ছেন।
এদিকে নেতানিয়াহুকে ঘিরে ইউরোপে কূটনৈতিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আইসিসির সদস্য দেশগুলোতে সফরের ক্ষেত্রে এখন তাকে সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি বিবেচনায় রাখতে হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো মাজিয়ারের ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বজায় রাখতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিশ্রুতি জরুরি।
অন্যদিকে ইসরায়েল আইসিসির অভিযোগ ও পরোয়ানাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। দেশটি আদালতের এখতিয়ারও স্বীকার করে না।
হাঙ্গেরিতে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাজিয়ারের ঘোষণাগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ইউরোপীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের।
#আর

আপনার মতামত লিখুন