টালিউড ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ অভিনেত্রী শ্রুতি দাস সম্প্রতি বাংলা ভাষা নিয়ে করা তার একটি মন্তব্যের কারণে নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজে নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকমহলে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী বর্তমানে আলোচনায় রয়েছেন তার অভিনীত নতুন সিরিজ ‘ব্যোমকেশ বক্সী’কে ঘিরে। অরিত্র সেন পরিচালিত এই সিরিজে ব্যোমকেশ চরিত্রে গৌরব চট্টোপাধ্যায় এবং অজিত চরিত্রে অর্ণ অভিনয় করেছেন। সত্যবতীর চরিত্রে দেখা গেছে শ্রুতি দাসকে।
সিরিজটি মুক্তির পর শ্রুতির অভিনীত চরিত্র নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার শিক্ষা জীবন ইংরেজি মাধ্যমে হওয়ায় তিনি দৈনন্দিন কথাবার্তাও আগে ইংরেজিতে ভাবেন, এরপর সেটিকে বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন। এই অভ্যাসকে তিনি নিজের একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
শ্রুতির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা তার মাতৃভাষা হলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলা ভাষায় তার পড়াশোনা হয়নি। ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলায় কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি কিছুটা অসুবিধা অনুভব করেন। তিনি আরও বলেন, ইংরেজিতে চিন্তা করার পর বাংলায় রূপান্তর করে কথা বলাই তার জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই তার বক্তব্যকে অস্বাভাবিক এবং বিভ্রান্তিকর হিসেবে উল্লেখ করেন। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, বাংলা ভাষার সাংস্কৃতিক পটভূমিতে বড় হয়ে একজন বাঙালি কীভাবে আগে ইংরেজিতে চিন্তা করে তারপর বাংলায় অনুবাদ করেন।
একটি অংশ মন্তব্য করে জানায়, মাতৃভাষা বাংলায় হলেও যদি কেউ বাংলায় স্বচ্ছন্দে কথা বলতে না পারেন, তবে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কেউ কেউ আরও কঠোর ভাষায় বলেন, যেহেতু তার শিক্ষা ইংরেজি মাধ্যমে, তাই তাকে ইংরেজি ভাষার কাজেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, বাংলা চলচ্চিত্র বা সিরিজে কাজ করার প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, আরেকটি অংশ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। তাদের মতে, ভাষা শিক্ষা বা মাধ্যম যাই হোক না কেন, অভিনয়শিল্পীর কাজ চরিত্র ফুটিয়ে তোলা। ভাষাগত দক্ষতার ভিন্নতা থাকলেও সেটি সময় ও অনুশীলনের মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব।
শ্রুতি দাস এর আগে ‘কালিপটকা’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে দর্শকমহলে প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ সিরিজে সত্যবতীর চরিত্রে তার উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে তাকে। চরিত্রের বৈচিত্র্য ও ধারাবাহিক কাজের কারণে তিনি টালিউডে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
#আর
বিষয় : শ্রুতি দাস

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
টালিউড ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ অভিনেত্রী শ্রুতি দাস সম্প্রতি বাংলা ভাষা নিয়ে করা তার একটি মন্তব্যের কারণে নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজে নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকমহলে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী বর্তমানে আলোচনায় রয়েছেন তার অভিনীত নতুন সিরিজ ‘ব্যোমকেশ বক্সী’কে ঘিরে। অরিত্র সেন পরিচালিত এই সিরিজে ব্যোমকেশ চরিত্রে গৌরব চট্টোপাধ্যায় এবং অজিত চরিত্রে অর্ণ অভিনয় করেছেন। সত্যবতীর চরিত্রে দেখা গেছে শ্রুতি দাসকে।
সিরিজটি মুক্তির পর শ্রুতির অভিনীত চরিত্র নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার শিক্ষা জীবন ইংরেজি মাধ্যমে হওয়ায় তিনি দৈনন্দিন কথাবার্তাও আগে ইংরেজিতে ভাবেন, এরপর সেটিকে বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন। এই অভ্যাসকে তিনি নিজের একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
শ্রুতির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা তার মাতৃভাষা হলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলা ভাষায় তার পড়াশোনা হয়নি। ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলায় কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি কিছুটা অসুবিধা অনুভব করেন। তিনি আরও বলেন, ইংরেজিতে চিন্তা করার পর বাংলায় রূপান্তর করে কথা বলাই তার জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই তার বক্তব্যকে অস্বাভাবিক এবং বিভ্রান্তিকর হিসেবে উল্লেখ করেন। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, বাংলা ভাষার সাংস্কৃতিক পটভূমিতে বড় হয়ে একজন বাঙালি কীভাবে আগে ইংরেজিতে চিন্তা করে তারপর বাংলায় অনুবাদ করেন।
একটি অংশ মন্তব্য করে জানায়, মাতৃভাষা বাংলায় হলেও যদি কেউ বাংলায় স্বচ্ছন্দে কথা বলতে না পারেন, তবে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কেউ কেউ আরও কঠোর ভাষায় বলেন, যেহেতু তার শিক্ষা ইংরেজি মাধ্যমে, তাই তাকে ইংরেজি ভাষার কাজেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, বাংলা চলচ্চিত্র বা সিরিজে কাজ করার প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, আরেকটি অংশ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। তাদের মতে, ভাষা শিক্ষা বা মাধ্যম যাই হোক না কেন, অভিনয়শিল্পীর কাজ চরিত্র ফুটিয়ে তোলা। ভাষাগত দক্ষতার ভিন্নতা থাকলেও সেটি সময় ও অনুশীলনের মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব।
শ্রুতি দাস এর আগে ‘কালিপটকা’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে দর্শকমহলে প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ সিরিজে সত্যবতীর চরিত্রে তার উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে তাকে। চরিত্রের বৈচিত্র্য ও ধারাবাহিক কাজের কারণে তিনি টালিউডে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
#আর

আপনার মতামত লিখুন