জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর সাবেক পরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর কফিল উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। পরে আদালত পাঁচ দিনের পরিবর্তে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে দেলোয়ার হত্যা মামলায় প্রথম দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
পরবর্তীতে অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ এপ্রিল তিন দিন, ৮ এপ্রিল আরও তিন দিন, ১২ এপ্রিল দুই দিন এবং ১৪ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সর্বশেষ এই আদেশে নতুন করে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেল তদন্ত সংস্থা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সহিংস হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকশ সশস্ত্র ব্যক্তির একটি দল সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি ছোড়ে।
ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। পরে তাকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই তার মৃত্যু হয়। এরপর এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাটি জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামলার পরিকল্পনা, অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা, অস্ত্রের উৎস এবং নির্দেশদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।
আদালতপাড়ার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলায় ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আরও ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হতে পারে।
আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইন অনুযায়ী, অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।
#আর
বিষয় : জুলাই আন্দোলন দেলোয়ার হত্যাকাণ্ড

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর সাবেক পরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর কফিল উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। পরে আদালত পাঁচ দিনের পরিবর্তে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে দেলোয়ার হত্যা মামলায় প্রথম দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
পরবর্তীতে অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ এপ্রিল তিন দিন, ৮ এপ্রিল আরও তিন দিন, ১২ এপ্রিল দুই দিন এবং ১৪ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সর্বশেষ এই আদেশে নতুন করে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেল তদন্ত সংস্থা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সহিংস হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকশ সশস্ত্র ব্যক্তির একটি দল সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি ছোড়ে।
ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। পরে তাকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই তার মৃত্যু হয়। এরপর এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাটি জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামলার পরিকল্পনা, অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা, অস্ত্রের উৎস এবং নির্দেশদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।
আদালতপাড়ার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলায় ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আরও ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হতে পারে।
আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইন অনুযায়ী, অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।
#আর

আপনার মতামত লিখুন