কুমিল্লায় শরীরের বিভিন্ন ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন ৫৬৬ জুলাইযোদ্ধা
ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন তারা। পুলিশের গুলি ও হামলায় কেউ হারিয়েছেন চোখ, কেউ হাত বা পা, আবার কেউ এখনো শরীরে গুলির ক্ষত নিয়েই বেঁচে আছেন। কিন্তু আন্দোলনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লার অনেক জুলাইযোদ্ধার অভিযোগ, তারা এখনো পাননি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুনর্বাসন কিংবা প্রত্যাশিত মূল্যায়ন।জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে কুমিল্লায় আহত ৫৬৬ জন এবং নিহত ৪০ জনের নাম গেজেটভুক্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাস্তবে আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। অনেকে এখনো স্বীকৃতির বাইরে রয়েছেন।জানা গেছে, কুমিল্লা মহানগর, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী, ময়নামতি, পদুয়ার বাজার, চৌদ্দগ্রাম, নিমসার, চান্দিনা, দাউদকান্দি, গৌরীপুর-হাসানপুর, দেবিদ্বার, কোম্পানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের সময় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও হামলায় সহস্রাধিক মানুষ আহত হন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।সদর দক্ষিণ উপজেলার গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা সাগর মিয়া বলেন, ১৮ জুলাই কোটবাড়ী এলাকায় পুলিশ তার মাথায় গুলি করে। এতে একটি চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। টানা ১৭ দিন আইসিইউতে থাকার পর প্রাণে বাঁচলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। চিকিৎসার অভাবে অপর চোখটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।আহত জুলাইযোদ্ধা আনোয়ারুল আজিম বলেন, ৪ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশের গুলিতে তার দুই পা গুরুতর আহত হয়। লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় এবং গোড়ালির হাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রায় ১৯ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পরও উন্নত চিকিৎসার অভাবে এখন তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পুনরায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।সদর দক্ষিণের আরেক আহত যোদ্ধা ইসমাইল হোসেন জানান, চিকিৎসার খরচ জোগাতে তার স্ত্রী কিস্তিতে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন অর্থসংকটে চিকিৎসা প্রায় বন্ধ। শরীরের গুলির ক্ষত পুরোপুরি শুকায়নি, অন্যদিকে ঋণের চাপ সামলাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, আন্দোলনের দুই বছরের মধ্যেই অনেক জুলাইযোদ্ধা যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত না হলে তা ইতিহাসের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।জুলাইযোদ্ধা ও কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাজপথে ছিলেন তিনি। হামলায় তার দুটি আঙুল ভেঙে যায় এবং শরীরে এখনো অসংখ্য স্প্লিন্টারের দাগ রয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বীকৃতির জন্য নয়, রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতার নির্দেশে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিজ রোজি আক্তার বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে যে নির্দেশনা আসবে, জেলা প্রশাসন তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছে।