ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কারাবাস পেরিয়ে ‘টাইম ১০০’ তালিকায় ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি


বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কারাবাস পেরিয়ে ‘টাইম ১০০’ তালিকায় ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি

নিষেধাজ্ঞা, কারাবাস এবং রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ—সব বাধা অতিক্রম করেও থেমে থাকেননি ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি। প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের শিল্পচর্চা অব্যাহত রেখে তিনি এবার জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ‘টাইম ১০০’ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায়। ২০২৬ সালের তালিকায় ‘আর্টিস্ট’ বিভাগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে টাইম ম্যাগাজিন।

প্রতি বছর বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানিয়ে এই তালিকা প্রকাশ করে টাইম। এবার সেখানে পানাহির অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টাইম-এর ভাষ্যে, তিনি এমন এক নির্মাতা যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ ও দমননীতির বিরুদ্ধে নিজের চলচ্চিত্রকে প্রতিরোধের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।

জাফর পানাহির সিনেমাগুলোতে বারবার উঠে এসেছে ইরানি সমাজের বাস্তবতা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। তার কাজ কেবল চলচ্চিত্র হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিকবার কারাবরণ ও চলচ্চিত্র নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন পানাহি। তবুও তিনি থেমে যাননি। অনেক সময় গোপনে সিনেমা নির্মাণ করে তা আন্তর্জাতিক উৎসবে পাঠিয়েছেন, যা বিশ্ব চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তার এই অবিচল অবস্থান তাকে প্রতিরোধী শিল্পের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তার সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’ ইরানের ভেতরেই গোপনে নির্মিত হয়। ছবিটি রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের মানসিক ক্ষতকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এই সিনেমার জন্য তিনি ২০২৫ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘পাম দ’অর’ অর্জন করেন। একই সঙ্গে ছবিটি অস্কারের জন্য দুটি বিভাগে মনোনয়ন পায়, যা তার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।

তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি তাকে কঠোর রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার মুখোমুখিও হতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, চলাচলে সীমাবদ্ধতা এবং কারাদণ্ডের মতো পরিস্থিতি তার জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি শিল্পচর্চা চালিয়ে গেছেন এবং নতুন নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানাহি তার ক্যামেরাকে কেবল শিল্পের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তার চলচ্চিত্রে ব্যক্তিগত গল্পের আড়ালে উঠে আসে বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

বিশ্লেষকদের মতে, পানাহির এই স্বীকৃতি কেবল একজন নির্মাতার অর্জন নয়, বরং বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পে স্বাধীন মতপ্রকাশের গুরুত্বকেও নতুন করে সামনে এনেছে। সেন্সরশিপ ও দমননীতির মধ্যেও সৃজনশীলতার যে শক্তি টিকে থাকতে পারে, পানাহির জীবন ও কাজ তারই উদাহরণ।

‘টাইম ১০০’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে জাফর পানাহি আবারও প্রমাণ করেছেন, শিল্প কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি প্রতিরোধ, প্রতিবাদ এবং পরিবর্তনের শক্তিশালী ভাষাও হতে পারে।

#আর

বিষয় : টাইম ১০০

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কারাবাস পেরিয়ে ‘টাইম ১০০’ তালিকায় ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নিষেধাজ্ঞা, কারাবাস এবং রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ—সব বাধা অতিক্রম করেও থেমে থাকেননি ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি। প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের শিল্পচর্চা অব্যাহত রেখে তিনি এবার জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ‘টাইম ১০০’ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায়। ২০২৬ সালের তালিকায় ‘আর্টিস্ট’ বিভাগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে টাইম ম্যাগাজিন।

প্রতি বছর বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানিয়ে এই তালিকা প্রকাশ করে টাইম। এবার সেখানে পানাহির অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টাইম-এর ভাষ্যে, তিনি এমন এক নির্মাতা যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ ও দমননীতির বিরুদ্ধে নিজের চলচ্চিত্রকে প্রতিরোধের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।

জাফর পানাহির সিনেমাগুলোতে বারবার উঠে এসেছে ইরানি সমাজের বাস্তবতা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। তার কাজ কেবল চলচ্চিত্র হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিকবার কারাবরণ ও চলচ্চিত্র নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন পানাহি। তবুও তিনি থেমে যাননি। অনেক সময় গোপনে সিনেমা নির্মাণ করে তা আন্তর্জাতিক উৎসবে পাঠিয়েছেন, যা বিশ্ব চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তার এই অবিচল অবস্থান তাকে প্রতিরোধী শিল্পের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তার সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’ ইরানের ভেতরেই গোপনে নির্মিত হয়। ছবিটি রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের মানসিক ক্ষতকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এই সিনেমার জন্য তিনি ২০২৫ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘পাম দ’অর’ অর্জন করেন। একই সঙ্গে ছবিটি অস্কারের জন্য দুটি বিভাগে মনোনয়ন পায়, যা তার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।

তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি তাকে কঠোর রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার মুখোমুখিও হতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, চলাচলে সীমাবদ্ধতা এবং কারাদণ্ডের মতো পরিস্থিতি তার জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি শিল্পচর্চা চালিয়ে গেছেন এবং নতুন নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানাহি তার ক্যামেরাকে কেবল শিল্পের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তার চলচ্চিত্রে ব্যক্তিগত গল্পের আড়ালে উঠে আসে বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

বিশ্লেষকদের মতে, পানাহির এই স্বীকৃতি কেবল একজন নির্মাতার অর্জন নয়, বরং বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পে স্বাধীন মতপ্রকাশের গুরুত্বকেও নতুন করে সামনে এনেছে। সেন্সরশিপ ও দমননীতির মধ্যেও সৃজনশীলতার যে শক্তি টিকে থাকতে পারে, পানাহির জীবন ও কাজ তারই উদাহরণ।

‘টাইম ১০০’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে জাফর পানাহি আবারও প্রমাণ করেছেন, শিল্প কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি প্রতিরোধ, প্রতিবাদ এবং পরিবর্তনের শক্তিশালী ভাষাও হতে পারে।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ