বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত বৈশাখী কনসার্ট ও সংগীতানুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উৎসবের আমেজের মধ্যেই কিছু পরিবেশনার মান, উপস্থাপনা এবং শৈল্পিক শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। এরই প্রেক্ষিতে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানীর একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ওমর সানী দেশের কয়েকটি সংগীতানুষ্ঠানের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “আজকে কয়েক জায়গায় অসুস্থ সংগীত শুনলাম। সংগীত বেশ অসুস্থ অবস্থায় আছে, সবাই দোয়া করবেন।” তার এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই বিষয়টি নেটিজেন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কনসার্টে তরুণ শিল্পীদের পরিবেশনা, ব্যান্ড সংগীত এবং আধুনিক গানের উপস্থাপনা নিয়ে ইতোমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিল। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কিছু অনুষ্ঠানে তাল-লয়হীন পরিবেশনা, অতিরিক্ত শব্দনির্ভরতা এবং অশালীন উপস্থাপনার কারণে সাংস্কৃতিক মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আবার অনেকে বলছেন, নবীনদের পরীক্ষামূলক উপস্থাপনাকে নেতিবাচকভাবে না দেখে উৎসাহ দেওয়া উচিত।
ওমর সানীর মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেছেন, বর্তমানে কিছু কনসার্টে সংগীতের মান ও শৃঙ্খলা কমে যাচ্ছে, যা বাংলা সংগীতের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে শৈল্পিক মান বজায় রাখা জরুরি।
অন্যদিকে আরেক অংশ তার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলছেন, নতুন প্রজন্মের সংগীতচর্চাকে ‘অসুস্থ’ বলে আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। তাদের মতে, সংগীত সব সময় পরিবর্তনশীল, এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রূপান্তর স্বাভাবিক বিষয়। তাই সমালোচনার পাশাপাশি গঠনমূলক দিকনির্দেশনা দেওয়া উচিত।
এদিকে ওমর সানীর পোস্টে সংগীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নিও মন্তব্য করেছেন। তিনি লেখেন, “রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, ব্যান্ড সংগীত, আধুনিক সংগীত, লালন সংগীত এসবের নাম শুনেছি, কিন্তু ‘অসুস্থ সংগীত’ প্রথম শুনলাম! এই অসুস্থ সংগীতের আসর বসায় আইসিইউ পার্টি।” তার এই মন্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান কনসার্টগুলোতে তরুণ শিল্পীদের উপস্থিতি বাড়লেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশনার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি অংশ মনে করছে। তবে একই সঙ্গে অনেকেই বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর মঞ্চ, ডিজিটাল সাউন্ড এবং নতুন ধারার সংগীত উপস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
#আর
বিষয় : বৈশাখী কনসার্ট

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত বৈশাখী কনসার্ট ও সংগীতানুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উৎসবের আমেজের মধ্যেই কিছু পরিবেশনার মান, উপস্থাপনা এবং শৈল্পিক শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। এরই প্রেক্ষিতে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানীর একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ওমর সানী দেশের কয়েকটি সংগীতানুষ্ঠানের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “আজকে কয়েক জায়গায় অসুস্থ সংগীত শুনলাম। সংগীত বেশ অসুস্থ অবস্থায় আছে, সবাই দোয়া করবেন।” তার এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই বিষয়টি নেটিজেন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কনসার্টে তরুণ শিল্পীদের পরিবেশনা, ব্যান্ড সংগীত এবং আধুনিক গানের উপস্থাপনা নিয়ে ইতোমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিল। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কিছু অনুষ্ঠানে তাল-লয়হীন পরিবেশনা, অতিরিক্ত শব্দনির্ভরতা এবং অশালীন উপস্থাপনার কারণে সাংস্কৃতিক মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আবার অনেকে বলছেন, নবীনদের পরীক্ষামূলক উপস্থাপনাকে নেতিবাচকভাবে না দেখে উৎসাহ দেওয়া উচিত।
ওমর সানীর মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেছেন, বর্তমানে কিছু কনসার্টে সংগীতের মান ও শৃঙ্খলা কমে যাচ্ছে, যা বাংলা সংগীতের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে শৈল্পিক মান বজায় রাখা জরুরি।
অন্যদিকে আরেক অংশ তার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলছেন, নতুন প্রজন্মের সংগীতচর্চাকে ‘অসুস্থ’ বলে আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। তাদের মতে, সংগীত সব সময় পরিবর্তনশীল, এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রূপান্তর স্বাভাবিক বিষয়। তাই সমালোচনার পাশাপাশি গঠনমূলক দিকনির্দেশনা দেওয়া উচিত।
এদিকে ওমর সানীর পোস্টে সংগীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নিও মন্তব্য করেছেন। তিনি লেখেন, “রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, ব্যান্ড সংগীত, আধুনিক সংগীত, লালন সংগীত এসবের নাম শুনেছি, কিন্তু ‘অসুস্থ সংগীত’ প্রথম শুনলাম! এই অসুস্থ সংগীতের আসর বসায় আইসিইউ পার্টি।” তার এই মন্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান কনসার্টগুলোতে তরুণ শিল্পীদের উপস্থিতি বাড়লেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশনার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি অংশ মনে করছে। তবে একই সঙ্গে অনেকেই বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর মঞ্চ, ডিজিটাল সাউন্ড এবং নতুন ধারার সংগীত উপস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
#আর

আপনার মতামত লিখুন