ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার ইউরোপেও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন এবং শিল্প খাতে বড় ধরনের চাপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্বন ডাই-অক্সাইডের সম্ভাব্য ঘাটতির কারণে দেশটিতে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, পানীয় উৎপাদন এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হতে পারে।
খবরে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আসন্ন গ্রীষ্মে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানি সরবরাহ, শিল্প উৎপাদন এবং কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা বাড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে খাদ্যপণ্যের বাজারে।
ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি ‘এক্সারসাইজ টার্নস্টোন’ নামে একটি জরুরি মহড়ায় অংশ নেন। সেখানে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সংকটচিত্র বিশ্লেষণ করা হয়। আলোচনায় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাধান না হলে এবং হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে চালু না হলে যুক্তরাজ্যের খাদ্য ও শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃষকদের জন্যও সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
কার্বন ডাই-অক্সাইড ঘাটতি সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, মুরগি ও শূকরের মাংস জবাই ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় এই গ্যাস ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে কোমল পানীয়সহ কার্বনেটেড পানীয় উৎপাদনেও এটি অপরিহার্য। সালাদ, প্যাকেটজাত মাংস, কেক ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের সংরক্ষণকাল বাড়াতেও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সরবরাহ ভেঙে পড়লে শুধু খাদ্য নয়, স্বাস্থ্য খাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ, রক্ত, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং ভ্যাকসিন ঠান্ডা রাখতে ব্যবহৃত ড্রাই আইস তৈরিতেও কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রয়োজন হয়। ফলে হাসপাতাল ও চিকিৎসা সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়তে পারে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড সরবরাহ বর্তমানের মাত্র ১৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তখন জরুরি প্রয়োজনে কিছু শিল্পকারখানাকে উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি আইন এনে কারখানাগুলোকে সহযোগিতায় বাধ্য করার বিষয়ও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইউরোপজুড়ে উচ্চ গ্যাসমূল্যের কারণে অ্যামোনিয়া ও সার উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অ্যামোনিয়া উৎপাদনের উপজাত হিসেবেই কার্বন ডাই-অক্সাইড পাওয়া যায়। ফলে জ্বালানি সংকটের সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন সংকটও একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে, জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেতে পারে। একই সঙ্গে দেশটিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি বছরে প্রতিটি পরিবারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৮০ পাউন্ড পর্যন্ত ব্যয় বাড়তে পারে।
তবে যুক্তরাজ্যের সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, বর্তমানে তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, সরকার শুরু থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বদলালে জনগণকে সরাসরি জানানো হবে।
#আরএ
বিষয় : ইরান যুক্তরাজ্য খাদ্য সংকট

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার ইউরোপেও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন এবং শিল্প খাতে বড় ধরনের চাপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্বন ডাই-অক্সাইডের সম্ভাব্য ঘাটতির কারণে দেশটিতে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, পানীয় উৎপাদন এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হতে পারে।
খবরে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আসন্ন গ্রীষ্মে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানি সরবরাহ, শিল্প উৎপাদন এবং কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা বাড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে খাদ্যপণ্যের বাজারে।
ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি ‘এক্সারসাইজ টার্নস্টোন’ নামে একটি জরুরি মহড়ায় অংশ নেন। সেখানে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সংকটচিত্র বিশ্লেষণ করা হয়। আলোচনায় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাধান না হলে এবং হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে চালু না হলে যুক্তরাজ্যের খাদ্য ও শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃষকদের জন্যও সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
কার্বন ডাই-অক্সাইড ঘাটতি সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, মুরগি ও শূকরের মাংস জবাই ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় এই গ্যাস ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে কোমল পানীয়সহ কার্বনেটেড পানীয় উৎপাদনেও এটি অপরিহার্য। সালাদ, প্যাকেটজাত মাংস, কেক ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের সংরক্ষণকাল বাড়াতেও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সরবরাহ ভেঙে পড়লে শুধু খাদ্য নয়, স্বাস্থ্য খাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ, রক্ত, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং ভ্যাকসিন ঠান্ডা রাখতে ব্যবহৃত ড্রাই আইস তৈরিতেও কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রয়োজন হয়। ফলে হাসপাতাল ও চিকিৎসা সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়তে পারে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড সরবরাহ বর্তমানের মাত্র ১৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তখন জরুরি প্রয়োজনে কিছু শিল্পকারখানাকে উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি আইন এনে কারখানাগুলোকে সহযোগিতায় বাধ্য করার বিষয়ও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইউরোপজুড়ে উচ্চ গ্যাসমূল্যের কারণে অ্যামোনিয়া ও সার উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অ্যামোনিয়া উৎপাদনের উপজাত হিসেবেই কার্বন ডাই-অক্সাইড পাওয়া যায়। ফলে জ্বালানি সংকটের সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন সংকটও একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে, জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেতে পারে। একই সঙ্গে দেশটিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি বছরে প্রতিটি পরিবারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৮০ পাউন্ড পর্যন্ত ব্যয় বাড়তে পারে।
তবে যুক্তরাজ্যের সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, বর্তমানে তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, সরকার শুরু থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বদলালে জনগণকে সরাসরি জানানো হবে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন