ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আনা যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব আবারও ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫২-৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতি রিপাবলিকান পার্টির দৃঢ় সমর্থন আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।
প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য ছিল, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনর্ব্যক্ত করতেই ডেমোক্র্যাটরা ‘ওয়ার পাওয়ার্স’ প্রস্তাবটি উত্থাপন করে।
সিনেটের ভোটাভুটিতে অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পক্ষে ভোট দেন। কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল একমাত্র দলীয় সদস্য হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান একমাত্র সদস্য হিসেবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর জিম জাস্টিস ভোটদানে বিরত ছিলেন।
এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর চতুর্থবারের মতো সিনেটে একই ধরনের প্রস্তাব আনা হলো। আগের তিনবারও রিপাবলিকানদের বিরোধিতায় তা পাস হয়নি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে কার্যকর বাধা গড়ে তুলতে এখনো ব্যর্থ হচ্ছে বিরোধীরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনা, ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়। দ্রুত বিস্তৃত হওয়া এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করছেন। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ালে এর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের দাবি, প্রেসিডেন্টের প্রধান দায়িত্ব জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা বলছেন, ইরানের হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সামরিক প্রস্তুতি জরুরি, তাই প্রশাসনের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকা দরকার।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, সংঘাত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত তারা এ ধরনের প্রস্তাব বারবার সিনেটে তুলবেন। এর মাধ্যমে তারা প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চান।
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ ভোটাভুটি শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছে। একদিকে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা, অন্যদিকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব—এই দ্বন্দ্ব আগামী মাসগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে।
#আরএ
বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আনা যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব আবারও ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫২-৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতি রিপাবলিকান পার্টির দৃঢ় সমর্থন আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।
প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য ছিল, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনর্ব্যক্ত করতেই ডেমোক্র্যাটরা ‘ওয়ার পাওয়ার্স’ প্রস্তাবটি উত্থাপন করে।
সিনেটের ভোটাভুটিতে অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পক্ষে ভোট দেন। কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল একমাত্র দলীয় সদস্য হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান একমাত্র সদস্য হিসেবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর জিম জাস্টিস ভোটদানে বিরত ছিলেন।
এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর চতুর্থবারের মতো সিনেটে একই ধরনের প্রস্তাব আনা হলো। আগের তিনবারও রিপাবলিকানদের বিরোধিতায় তা পাস হয়নি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে কার্যকর বাধা গড়ে তুলতে এখনো ব্যর্থ হচ্ছে বিরোধীরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনা, ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়। দ্রুত বিস্তৃত হওয়া এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করছেন। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ালে এর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের দাবি, প্রেসিডেন্টের প্রধান দায়িত্ব জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা বলছেন, ইরানের হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সামরিক প্রস্তুতি জরুরি, তাই প্রশাসনের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকা দরকার।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, সংঘাত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত তারা এ ধরনের প্রস্তাব বারবার সিনেটে তুলবেন। এর মাধ্যমে তারা প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চান।
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ ভোটাভুটি শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছে। একদিকে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা, অন্যদিকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব—এই দ্বন্দ্ব আগামী মাসগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন