ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। একের পর এক বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ছাড়িয়ে গেছে ৩ হাজার কোটি রুপির বিশাল মাইলফলক, যা এখন পর্যন্ত কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্র সিরিজ অর্জন করতে পারেনি। এই অর্জনের মাধ্যমে ‘ধুরন্ধর’ পেছনে ফেলেছে ‘বাহুবলী’, ‘পুষ্পা’ এবং ‘কেজিএফ’-এর মতো ব্লকবাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে।
ট্রেড অ্যানালিস্টদের তথ্য অনুযায়ী, ‘ধুরন্ধর’ এবং এর সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩০১৯ কোটি রুপি। এর মধ্যে প্রথম সিনেমাটি একাই আয় করেছে ১৩০৭ কোটি রুপি, আর দ্বিতীয় কিস্তি আয় করেছে ১৭১২ কোটি রুপি। ধারাবাহিক এই সাফল্যে ভারতীয় বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ মূলত হিন্দি ভাষায় নির্মিত হলেও এটি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে। উপসাগরীয় কিছু দেশ ও পাকিস্তানে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটি বক্স অফিসে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। শুধু ভারতে সিনেমাটির নেট আয় দাঁড়ায় ৮৪০ কোটি রুপি, যা পরবর্তীতে ১০০০ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করা প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
পরবর্তী কিস্তি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তি পায় ১৯ মার্চ। দক্ষিণ ভারতীয় ভাষাসহ হিন্দিতে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাটি তুলনামূলক বড় বাজারে একযোগে প্রদর্শিত হয় এবং কোনো বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে দীর্ঘ সময় ধরে চলে। ট্রেড ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১৭১২ কোটি রুপি আয় করে ফ্র্যাঞ্চাইজির মোট আয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এর আগে ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ আয় করা ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে শীর্ষে ছিল এস. এস. রাজামৌলির ‘বাহুবলী’ সিরিজ। ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ এবং ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ মিলিয়ে মোট আয় ছিল ২৪৩৮ কোটি রুপি। অন্যদিকে, ‘পুষ্পা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির দুইটি কিস্তি মিলিয়ে আয় দাঁড়ায় ২২২১ কোটি রুপি। ‘কেজিএফ’ সিরিজের দুইটি সিনেমার মোট আয় ছিল ১৪৫৩ কোটি রুপি।
‘ধুরন্ধর’ সিরিজের এই সাফল্য ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমার নতুন প্রবণতাকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বড় বাজেট, আন্তর্জাতিক মার্কেটিং এবং প্যান-ইন্ডিয়া রিলিজ কৌশলই এই ধরনের রেকর্ড ভাঙা আয়ের প্রধান কারণ।
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমায় রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল, আর. মাধবন, রাকেশ বেদী, দানিশ প্যান্ডর এবং গৌরব গেরা। অ্যাকশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টনির্ভর এই ফ্র্যাঞ্চাইজি বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং আরও আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক সাফল্য ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি-নির্ভর সিনেমার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় সিনেমার অবস্থানও আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
#আরএ
বিষয় : ধুরন্ধর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। একের পর এক বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ছাড়িয়ে গেছে ৩ হাজার কোটি রুপির বিশাল মাইলফলক, যা এখন পর্যন্ত কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্র সিরিজ অর্জন করতে পারেনি। এই অর্জনের মাধ্যমে ‘ধুরন্ধর’ পেছনে ফেলেছে ‘বাহুবলী’, ‘পুষ্পা’ এবং ‘কেজিএফ’-এর মতো ব্লকবাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে।
ট্রেড অ্যানালিস্টদের তথ্য অনুযায়ী, ‘ধুরন্ধর’ এবং এর সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩০১৯ কোটি রুপি। এর মধ্যে প্রথম সিনেমাটি একাই আয় করেছে ১৩০৭ কোটি রুপি, আর দ্বিতীয় কিস্তি আয় করেছে ১৭১২ কোটি রুপি। ধারাবাহিক এই সাফল্যে ভারতীয় বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ মূলত হিন্দি ভাষায় নির্মিত হলেও এটি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে। উপসাগরীয় কিছু দেশ ও পাকিস্তানে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটি বক্স অফিসে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। শুধু ভারতে সিনেমাটির নেট আয় দাঁড়ায় ৮৪০ কোটি রুপি, যা পরবর্তীতে ১০০০ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করা প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
পরবর্তী কিস্তি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তি পায় ১৯ মার্চ। দক্ষিণ ভারতীয় ভাষাসহ হিন্দিতে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাটি তুলনামূলক বড় বাজারে একযোগে প্রদর্শিত হয় এবং কোনো বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে দীর্ঘ সময় ধরে চলে। ট্রেড ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১৭১২ কোটি রুপি আয় করে ফ্র্যাঞ্চাইজির মোট আয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এর আগে ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ আয় করা ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে শীর্ষে ছিল এস. এস. রাজামৌলির ‘বাহুবলী’ সিরিজ। ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ এবং ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ মিলিয়ে মোট আয় ছিল ২৪৩৮ কোটি রুপি। অন্যদিকে, ‘পুষ্পা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির দুইটি কিস্তি মিলিয়ে আয় দাঁড়ায় ২২২১ কোটি রুপি। ‘কেজিএফ’ সিরিজের দুইটি সিনেমার মোট আয় ছিল ১৪৫৩ কোটি রুপি।
‘ধুরন্ধর’ সিরিজের এই সাফল্য ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমার নতুন প্রবণতাকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বড় বাজেট, আন্তর্জাতিক মার্কেটিং এবং প্যান-ইন্ডিয়া রিলিজ কৌশলই এই ধরনের রেকর্ড ভাঙা আয়ের প্রধান কারণ।
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমায় রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল, আর. মাধবন, রাকেশ বেদী, দানিশ প্যান্ডর এবং গৌরব গেরা। অ্যাকশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টনির্ভর এই ফ্র্যাঞ্চাইজি বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং আরও আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক সাফল্য ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি-নির্ভর সিনেমার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় সিনেমার অবস্থানও আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন