শীত ও ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দিলে অনেকেই তা সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশন ভেবে অবহেলা করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই উপসর্গগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক সংক্রামক রোগ—মিজলস বা হাম।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হামের ভাইরাস খুব দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। একটি আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শেই অন্য শিশু খুব অল্প সময়ের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা নেয়নি, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
প্রাথমিকভাবে হালকা জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও নাক দিয়ে পানি পড়া দেখা দেয়। পরে মুখের ভেতরে সাদা দাগ এবং উচ্চ জ্বরসহ সারা শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই হাম, মিজলস, জাপানিজ মিজলস, রুবেলা ও বসন্তকে একই রোগ মনে করেন, যা একটি বড় বিভ্রান্তি। বাস্তবে এগুলো আলাদা আলাদা রোগ এবং প্রতিটির কারণ ও জটিলতা ভিন্ন।
চিকিৎসকদের মতে, রুবেলা বা জার্মান মিজলস তুলনামূলকভাবে হালকা হলেও গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি গর্ভের শিশুর জন্মগত ত্রুটি, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, হাম ও রুবেলার প্রতিরোধে সাধারণত একই ধরনের টিকা ব্যবহার করা হয়—এমএমআর ভ্যাকসিন।
আরেকটি বিভ্রান্তিকর রোগ হলো মাম্পস, যা অনেকেই মিজলসের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু এটি আলাদা ভাইরাসজনিত রোগ, যেখানে সাধারণত লালা গ্রন্থি ফুলে যায় এবং জ্বর দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রোগের সংক্রমণের মূল কারণ হলো ভাইরাস ছড়ানো শ্বাসপ্রশ্বাস, হাঁচি-কাশি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ। একই ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা বা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার করাও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
হামের ক্ষেত্রে জটিলতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিশুদের মধ্যে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতা দ্রুত চিকিৎসা না নিলে প্রাণঘাতী হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, হামের উপসর্গগুলো ধাপে ধাপে প্রকাশ পায়—প্রথমে জ্বর ও কাশি, এরপর মুখে সাদা দাগ এবং পরে সারা শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমএমআর ভ্যাকসিন নিলে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, হাত ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা জরুরি।
চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ ও জনঘনত্বের কারণে এসব সংক্রামক রোগের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। তাই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
#আরএ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
শীত ও ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দিলে অনেকেই তা সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশন ভেবে অবহেলা করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই উপসর্গগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক সংক্রামক রোগ—মিজলস বা হাম।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হামের ভাইরাস খুব দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। একটি আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শেই অন্য শিশু খুব অল্প সময়ের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা নেয়নি, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
প্রাথমিকভাবে হালকা জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও নাক দিয়ে পানি পড়া দেখা দেয়। পরে মুখের ভেতরে সাদা দাগ এবং উচ্চ জ্বরসহ সারা শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই হাম, মিজলস, জাপানিজ মিজলস, রুবেলা ও বসন্তকে একই রোগ মনে করেন, যা একটি বড় বিভ্রান্তি। বাস্তবে এগুলো আলাদা আলাদা রোগ এবং প্রতিটির কারণ ও জটিলতা ভিন্ন।
চিকিৎসকদের মতে, রুবেলা বা জার্মান মিজলস তুলনামূলকভাবে হালকা হলেও গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি গর্ভের শিশুর জন্মগত ত্রুটি, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, হাম ও রুবেলার প্রতিরোধে সাধারণত একই ধরনের টিকা ব্যবহার করা হয়—এমএমআর ভ্যাকসিন।
আরেকটি বিভ্রান্তিকর রোগ হলো মাম্পস, যা অনেকেই মিজলসের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু এটি আলাদা ভাইরাসজনিত রোগ, যেখানে সাধারণত লালা গ্রন্থি ফুলে যায় এবং জ্বর দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রোগের সংক্রমণের মূল কারণ হলো ভাইরাস ছড়ানো শ্বাসপ্রশ্বাস, হাঁচি-কাশি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ। একই ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা বা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার করাও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
হামের ক্ষেত্রে জটিলতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিশুদের মধ্যে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতা দ্রুত চিকিৎসা না নিলে প্রাণঘাতী হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, হামের উপসর্গগুলো ধাপে ধাপে প্রকাশ পায়—প্রথমে জ্বর ও কাশি, এরপর মুখে সাদা দাগ এবং পরে সারা শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমএমআর ভ্যাকসিন নিলে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, হাত ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা জরুরি।
চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ ও জনঘনত্বের কারণে এসব সংক্রামক রোগের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। তাই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন