ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঘোড়াঘাটে মোজাম বিনোদন পার্কে ১৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু



ঘোড়াঘাটে মোজাম বিনোদন পার্কে ১৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু
ছবি : ঘোড়াঘাটে মোজাম বিনোদন পার্কে ১৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু

পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘মোজাম বিনোদন পার্কে’ আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই মেলা আগামী ১৫ দিনব্যাপী চলবে, যা ঘিরে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।

পার্কটির স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক মোজামের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলাটি প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের এলাকার মানুষ। বৈশাখের আনন্দকে ঘিরে পার্কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য রাখা হয়েছে নানান আয়োজন। শিশু-কিশোরদের জন্য নাগরদোলা, দোলনা, ড্রাগন রেলসহ বিভিন্ন রাইডে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া পার্কের জলাশয়ে স্পিডবোট ও নৌকাভ্রমণের ব্যবস্থাও দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ মেলার আনন্দ উপভোগ করতে ভিড় করছেন।

শুধু বিনোদন নয়, মেলায় স্থান পেয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন উপকরণ ও খাবারের স্টল। মাটির তৈরি সামগ্রী, হস্তশিল্প, খেলনা, পিঠা-পুলি, চটপটি, ফুচকা, মিষ্টান্নসহ নানা ধরনের দেশীয় খাবারের সমাহার মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। শিশুদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণী ও পরিবারগুলোর উপস্থিতিতে পুরো মেলাটি হয়ে উঠেছে এক আনন্দের মিলনমেলা।

মেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, বর্তমানে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন আগের মতো তেমন দেখা যায় না। তাই আধুনিক বিনোদনের পাশাপাশি এমন বৈশাখী মেলা আয়োজন তাদের কাছে বাড়তি আনন্দ এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ১৫ দিনব্যাপী মেলা চলার ঘোষণায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আয়োজক মাশরাফি হাসান সোহান বলেন, “বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখকে বরণ করে নিতে এবং স্থানীয় মানুষকে নির্মল বিনোদনের সুযোগ করে দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি আধুনিক বিনোদনের সঙ্গে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে একসঙ্গে তুলে ধরতে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৫ দিন প্রতিদিন সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মেলা ও পার্কটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সব মিলিয়ে, আনন্দ, বিনোদন ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে ঘোড়াঘাটের এই বৈশাখী মেলা ইতোমধ্যেই হয়ে উঠেছে এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঘোড়াঘাটে মোজাম বিনোদন পার্কে ১৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘মোজাম বিনোদন পার্কে’ আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই মেলা আগামী ১৫ দিনব্যাপী চলবে, যা ঘিরে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।

পার্কটির স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক মোজামের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলাটি প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের এলাকার মানুষ। বৈশাখের আনন্দকে ঘিরে পার্কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য রাখা হয়েছে নানান আয়োজন। শিশু-কিশোরদের জন্য নাগরদোলা, দোলনা, ড্রাগন রেলসহ বিভিন্ন রাইডে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া পার্কের জলাশয়ে স্পিডবোট ও নৌকাভ্রমণের ব্যবস্থাও দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ মেলার আনন্দ উপভোগ করতে ভিড় করছেন।

শুধু বিনোদন নয়, মেলায় স্থান পেয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন উপকরণ ও খাবারের স্টল। মাটির তৈরি সামগ্রী, হস্তশিল্প, খেলনা, পিঠা-পুলি, চটপটি, ফুচকা, মিষ্টান্নসহ নানা ধরনের দেশীয় খাবারের সমাহার মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। শিশুদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণী ও পরিবারগুলোর উপস্থিতিতে পুরো মেলাটি হয়ে উঠেছে এক আনন্দের মিলনমেলা।

মেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, বর্তমানে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন আগের মতো তেমন দেখা যায় না। তাই আধুনিক বিনোদনের পাশাপাশি এমন বৈশাখী মেলা আয়োজন তাদের কাছে বাড়তি আনন্দ এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ১৫ দিনব্যাপী মেলা চলার ঘোষণায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আয়োজক মাশরাফি হাসান সোহান বলেন, “বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখকে বরণ করে নিতে এবং স্থানীয় মানুষকে নির্মল বিনোদনের সুযোগ করে দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি আধুনিক বিনোদনের সঙ্গে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে একসঙ্গে তুলে ধরতে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৫ দিন প্রতিদিন সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মেলা ও পার্কটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সব মিলিয়ে, আনন্দ, বিনোদন ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে ঘোড়াঘাটের এই বৈশাখী মেলা ইতোমধ্যেই হয়ে উঠেছে এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ