ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে শিলিগুড়িতে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘টুকরো টুকরো গ্যাং’ এই করিডোরকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিচ্ছে এবং এর পেছনে রয়েছে তোষণের রাজনীতি। মোদির এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) শিলিগুড়ির কাউয়াখালী এলাকায় নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, শিলিগুড়ি করিডোর শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই করিডোরকে কেন্দ্র করে যেকোনো অস্থিরতা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
মোদি অভিযোগ করেন, গোটা দেশে একটি ‘টুকরো টুকরো গ্যাং’ সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভাজনের রাজনীতি করে। তার দাবি, এই গোষ্ঠী শিলিগুড়ি করিডোরকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তোষণের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এসব গোষ্ঠীকে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছে এবং রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত তাদের সমর্থন দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভোটব্যাংক রাজনীতির কারণে রাজ্য সরকার প্রকৃত উন্নয়ন থেকে সরে গেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটের কথা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, মাদরাসা উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও উত্তরবঙ্গের অবকাঠামো, শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলিগুড়ি করিডোরকে সামনে এনে বিজেপি জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত রাজনীতিকে নির্বাচনি প্রচারণার কেন্দ্রে আনতে চাইছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে সীমান্ত, অভিবাসন, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ইস্যু।
অন্যদিকে মোদির বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি বিজেপিকে ‘বাংলা বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যারা বাংলার মানুষের স্বার্থ বোঝে না, তাদের একটি ভোটও দেওয়া উচিত নয়। তার দাবি, বহিরাগত শক্তি এসে বাংলার সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছে।
মমতা আরও বলেন, যারা এখন ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তারাই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে একই ভোটার তালিকা ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, যদি ভোটার তালিকায় সমস্যা থাকে, তবে আগে পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও জবাবদিহি দাবি করেন তিনি।
শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে বেশি পরিচিত, ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। সরু এই স্থলপথের এক পাশে বাংলাদেশ, অন্য পাশে নেপাল ও ভুটান, আর কিছু দূরে চীন সীমান্ত। ফলে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে অঞ্চলটি ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বাকযুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। চিকেনস নেক ইস্যুতে মোদির বক্তব্য সেই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
#আরএ
বিষয় : চিকেন নেক

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে শিলিগুড়িতে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘টুকরো টুকরো গ্যাং’ এই করিডোরকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিচ্ছে এবং এর পেছনে রয়েছে তোষণের রাজনীতি। মোদির এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) শিলিগুড়ির কাউয়াখালী এলাকায় নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, শিলিগুড়ি করিডোর শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই করিডোরকে কেন্দ্র করে যেকোনো অস্থিরতা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
মোদি অভিযোগ করেন, গোটা দেশে একটি ‘টুকরো টুকরো গ্যাং’ সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভাজনের রাজনীতি করে। তার দাবি, এই গোষ্ঠী শিলিগুড়ি করিডোরকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তোষণের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এসব গোষ্ঠীকে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছে এবং রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত তাদের সমর্থন দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভোটব্যাংক রাজনীতির কারণে রাজ্য সরকার প্রকৃত উন্নয়ন থেকে সরে গেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটের কথা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, মাদরাসা উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও উত্তরবঙ্গের অবকাঠামো, শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলিগুড়ি করিডোরকে সামনে এনে বিজেপি জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত রাজনীতিকে নির্বাচনি প্রচারণার কেন্দ্রে আনতে চাইছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে সীমান্ত, অভিবাসন, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ইস্যু।
অন্যদিকে মোদির বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি বিজেপিকে ‘বাংলা বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যারা বাংলার মানুষের স্বার্থ বোঝে না, তাদের একটি ভোটও দেওয়া উচিত নয়। তার দাবি, বহিরাগত শক্তি এসে বাংলার সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছে।
মমতা আরও বলেন, যারা এখন ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তারাই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে একই ভোটার তালিকা ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, যদি ভোটার তালিকায় সমস্যা থাকে, তবে আগে পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও জবাবদিহি দাবি করেন তিনি।
শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে বেশি পরিচিত, ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। সরু এই স্থলপথের এক পাশে বাংলাদেশ, অন্য পাশে নেপাল ও ভুটান, আর কিছু দূরে চীন সীমান্ত। ফলে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে অঞ্চলটি ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বাকযুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। চিকেনস নেক ইস্যুতে মোদির বক্তব্য সেই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন