ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ আটকে রাখবে না ইরান


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ আটকে রাখবে না ইরান
আজ গণমাধ্যমে কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে ইরান। 

দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশি কোনো জাহাজ সেখানে আটকে রাখা হবে না। এমনকি বর্তমানে কোনো জাহাজ আটকে থাকলে সেটিও ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে। এতে দেশের জ্বালানি আমদানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি কোনো জাহাজ যদি বর্তমানে সেখানে আটকে থাকে, তাহলে তা ছেড়ে দেওয়া হবে বলে ইরান আশ্বস্ত করেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশও জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও জ্বালানি পণ্য আমদানিতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব রয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও যেন দেশে জ্বালানি সংকট না হয়, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশকে স্বস্তির জায়গায় রাখার চেষ্টা চলছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচল, আমদানি-রপ্তানি এবং জ্বালানি সরবরাহ—সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ আয়োজন করায় পাকিস্তানকে সাধুবাদ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনই সবচেয়ে কার্যকর পথ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তাহলে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, বিশ্বের বহু দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ভিন্ন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের ফেরাতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও মিশনগুলোকে এ বিষয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ সময় তিনি জানান, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননে বাংলাদেশি মিশনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামের একটি বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করে। পরে জাহাজটি ইরানি কর্তৃপক্ষ আটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়।

সর্বশেষ আশ্বাসের ফলে বাণিজ্য মহল, জাহাজ মালিক ও আমদানিকারকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন এড়ানো সম্ভব হবে।

#আরএ

বিষয় : হরমুজ প্রণালী

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ আটকে রাখবে না ইরান

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে ইরান। 

দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশি কোনো জাহাজ সেখানে আটকে রাখা হবে না। এমনকি বর্তমানে কোনো জাহাজ আটকে থাকলে সেটিও ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে। এতে দেশের জ্বালানি আমদানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি কোনো জাহাজ যদি বর্তমানে সেখানে আটকে থাকে, তাহলে তা ছেড়ে দেওয়া হবে বলে ইরান আশ্বস্ত করেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশও জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও জ্বালানি পণ্য আমদানিতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব রয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও যেন দেশে জ্বালানি সংকট না হয়, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশকে স্বস্তির জায়গায় রাখার চেষ্টা চলছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচল, আমদানি-রপ্তানি এবং জ্বালানি সরবরাহ—সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ আয়োজন করায় পাকিস্তানকে সাধুবাদ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনই সবচেয়ে কার্যকর পথ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তাহলে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, বিশ্বের বহু দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ভিন্ন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের ফেরাতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও মিশনগুলোকে এ বিষয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ সময় তিনি জানান, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননে বাংলাদেশি মিশনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামের একটি বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করে। পরে জাহাজটি ইরানি কর্তৃপক্ষ আটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়।

সর্বশেষ আশ্বাসের ফলে বাণিজ্য মহল, জাহাজ মালিক ও আমদানিকারকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন এড়ানো সম্ভব হবে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ