ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গণতন্ত্রের পথ মজবুত করতে ইইউর ১৯ সুপারিশ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬

গণতন্ত্রের পথ মজবুত করতে ইইউর ১৯ সুপারিশ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ১৯ দফা সুপারিশ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ভবিষ্যতের নির্বাচনি প্রক্রিয়া আরও গ্রহণযোগ্য করতে বেশ কয়েকটি কাঠামোগত সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং প্রাণহানিহীন ভোট আয়োজন একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তবে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো একইভাবে শান্তিপূর্ণ, সহনশীল এবং সহিংসতামুক্ত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণায় অর্থের অতিরিক্ত প্রভাব গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচনের আগে এবং পরে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জমা দেওয়ার বিধান আরও কঠোর ও কার্যকর করার সুপারিশ করেছে ইইউ।

ইভার্স ইজাবস বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণায় যদি অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহিত হয়, তাহলে ভোটের সমতার প্রশ্নটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাস্তবসম্মত ব্যয়সীমা নির্ধারণ এবং তার কার্যকর প্রয়োগ জরুরি।”

প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা আরও দৃশ্যমান করা, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আস্থার পরিবেশ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক দল মনে করছে, শক্তিশালী নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ।

ইভার্স বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক অবস্থান ভিন্ন হলেও সংসদ এমন একটি জায়গা, যেখানে মতপার্থক্যের মধ্যেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা সম্ভব। গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নির্ভর করে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে সহনশীলতা এবং আলোচনার সংস্কৃতি কতটা শক্তিশালী তার ওপর।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করেছে ইইউ। দলীয় কমিটি ও প্রার্থী মনোনয়নে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

তবে পরিবর্তনকালীন ন্যায়বিচার বা রাজনৈতিক অতীতের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে অবস্থান নেওয়া ইইউর দায়িত্ব নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্র আরও গতিশীল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, জনগণের অংশগ্রহণমূলক ভোট ব্যবস্থা টেকসই হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইইউর সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং জবাবদিহিমূলক দলীয় কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও সুসংহত হতে পারে।

বিষয় : ইইউ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


গণতন্ত্রের পথ মজবুত করতে ইইউর ১৯ সুপারিশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ১৯ দফা সুপারিশ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ভবিষ্যতের নির্বাচনি প্রক্রিয়া আরও গ্রহণযোগ্য করতে বেশ কয়েকটি কাঠামোগত সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং প্রাণহানিহীন ভোট আয়োজন একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তবে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো একইভাবে শান্তিপূর্ণ, সহনশীল এবং সহিংসতামুক্ত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণায় অর্থের অতিরিক্ত প্রভাব গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচনের আগে এবং পরে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জমা দেওয়ার বিধান আরও কঠোর ও কার্যকর করার সুপারিশ করেছে ইইউ।

ইভার্স ইজাবস বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণায় যদি অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহিত হয়, তাহলে ভোটের সমতার প্রশ্নটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাস্তবসম্মত ব্যয়সীমা নির্ধারণ এবং তার কার্যকর প্রয়োগ জরুরি।”

প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা আরও দৃশ্যমান করা, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আস্থার পরিবেশ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক দল মনে করছে, শক্তিশালী নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ।

ইভার্স বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক অবস্থান ভিন্ন হলেও সংসদ এমন একটি জায়গা, যেখানে মতপার্থক্যের মধ্যেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা সম্ভব। গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নির্ভর করে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে সহনশীলতা এবং আলোচনার সংস্কৃতি কতটা শক্তিশালী তার ওপর।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করেছে ইইউ। দলীয় কমিটি ও প্রার্থী মনোনয়নে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

তবে পরিবর্তনকালীন ন্যায়বিচার বা রাজনৈতিক অতীতের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে অবস্থান নেওয়া ইইউর দায়িত্ব নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্র আরও গতিশীল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, জনগণের অংশগ্রহণমূলক ভোট ব্যবস্থা টেকসই হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইইউর সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং জবাবদিহিমূলক দলীয় কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও সুসংহত হতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ