ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আশা ভোঁসলের জীবনাবসান


রুশাইদ আহমেদ
রুশাইদ আহমেদ
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

আশা ভোঁসলের জীবনাবসান

ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত রোববার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আশা ভোঁসলে ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে সবচেয়ে বহুমাত্রিক ও দীর্ঘসময় সক্রিয় শিল্পীদের একজন। প্রায় আট দশকের ক্যারিয়ারে তিনি হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, তামিল, তেলেগু, মালয়ালমসহ একাধিক ভাষায় গান গেয়ে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতির শিল্পীতে পরিণত করেন।

তাঁর কণ্ঠে রোমান্টিক গান যেমন জনপ্রিয় হয়েছে, তেমনি গজল, আধুনিক, লোকঘরানা, ক্ল্যাসিক্যাল-ভিত্তিক সুর, ক্যাবারে, পপ ও ফিউশন ধারার গানেও তিনি ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ। সংগীতবোদ্ধারা মনে করেন, একই শিল্পীর মধ্যে এত বৈচিত্র্য খুব কমই দেখা যায়।

ভারতীয় সিনেমার সোনালি যুগে আশা ভোঁসলের কণ্ঠ অসংখ্য কালজয়ী গানের জন্ম দিয়েছে। তাঁর গাওয়া দিল চিজ ক্যায়া হ্যায়ঁ, ইন আখোঁ মেঁ মাস্তি এবং ইয়ে ক্যায়া জাগাহ হ্যায়ঁ দোস্তোঁ আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। নতুন প্রজন্মের কাছেও তাঁর গান নিয়মিতভাবে ফিরে আসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাঁকে ২০০৮ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করে। এছাড়া তিনি দাদাসাহেব ফলক-এও ভূষিত হন, যা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা।

সংগীত বিশ্লেষকদের মতে, আশা ভোঁসলে শুধু একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সময়কে অতিক্রম করা এক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। সুরকারদের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। বিভিন্ন যুগে বদলে যাওয়া সংগীতধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন, সংগীতশিল্পী, ভক্ত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা শোক প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গাওয়া গান, সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তাঁকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের শেষ মহাতারকাদের একজন হিসেবে উল্লেখ করছেন।

উপমহাদেশের সংগীত ঐতিহ্যে আশা ভোঁসলের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা হাজারো গান আগামী প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে একটি যুগের অবসান হলো, তবে তাঁর সুরেলা উত্তরাধিকার রয়ে গেল কোটি মানুষের হৃদয়ে।

#আরএ

বিষয় : আশা ভোঁসলে

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আশা ভোঁসলের জীবনাবসান

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত রোববার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আশা ভোঁসলে ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে সবচেয়ে বহুমাত্রিক ও দীর্ঘসময় সক্রিয় শিল্পীদের একজন। প্রায় আট দশকের ক্যারিয়ারে তিনি হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, তামিল, তেলেগু, মালয়ালমসহ একাধিক ভাষায় গান গেয়ে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতির শিল্পীতে পরিণত করেন।

তাঁর কণ্ঠে রোমান্টিক গান যেমন জনপ্রিয় হয়েছে, তেমনি গজল, আধুনিক, লোকঘরানা, ক্ল্যাসিক্যাল-ভিত্তিক সুর, ক্যাবারে, পপ ও ফিউশন ধারার গানেও তিনি ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ। সংগীতবোদ্ধারা মনে করেন, একই শিল্পীর মধ্যে এত বৈচিত্র্য খুব কমই দেখা যায়।

ভারতীয় সিনেমার সোনালি যুগে আশা ভোঁসলের কণ্ঠ অসংখ্য কালজয়ী গানের জন্ম দিয়েছে। তাঁর গাওয়া দিল চিজ ক্যায়া হ্যায়ঁ, ইন আখোঁ মেঁ মাস্তি এবং ইয়ে ক্যায়া জাগাহ হ্যায়ঁ দোস্তোঁ আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। নতুন প্রজন্মের কাছেও তাঁর গান নিয়মিতভাবে ফিরে আসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাঁকে ২০০৮ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করে। এছাড়া তিনি দাদাসাহেব ফলক-এও ভূষিত হন, যা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা।

সংগীত বিশ্লেষকদের মতে, আশা ভোঁসলে শুধু একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সময়কে অতিক্রম করা এক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। সুরকারদের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। বিভিন্ন যুগে বদলে যাওয়া সংগীতধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন, সংগীতশিল্পী, ভক্ত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা শোক প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গাওয়া গান, সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তাঁকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের শেষ মহাতারকাদের একজন হিসেবে উল্লেখ করছেন।

উপমহাদেশের সংগীত ঐতিহ্যে আশা ভোঁসলের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা হাজারো গান আগামী প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে একটি যুগের অবসান হলো, তবে তাঁর সুরেলা উত্তরাধিকার রয়ে গেল কোটি মানুষের হৃদয়ে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ