ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী



চুয়াডাঙ্গায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী
ছবি : প্রতিনিধি

কৃষির উন্নয়নে 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে কাজ করবে সরকার-  শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ 'ডি-১৫ এন (বেলগাছি ইছেরদাড়ী) খাল' পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের সূচনা করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

এর আগে সকাল ১১:৩০ মিনিটে পানিসম্পদ মন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। পাউবোর ১৪ জন ঠিকাদারের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হবে। খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১.৫ মিটার (প্রায় ৫ ফুট) নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৫ হাজার ২০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন। বেলগাছি, নাগদহ, আঁইলহাস ও জেহালা ইউনিয়নের কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি আলমডাঙ্গা পৌরসভার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, "অতীতে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, কিছু খাল দখল করে লিজ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে এবং কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে হলে খাল খননের কোনো বিকল্প নেই।"

তিনি আরও বলেন, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, তা পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এগিয়ে নেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রান্তিক কৃষকের স্বার্থে এই কার্যক্রম পুনরায় বেগবান করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রথম কেবিনেট মিটিংয়েই কৃষকদের ১০ হাজার টাকার নিচের সব কৃষিঋণ মওকুফ করে দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, "সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। খালের দুই তীরে গাছ লাগানো হবে।" খননকাজে যন্ত্রের পাশাপাশি নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে লুটপাট করেছে, বাংলাদেশ আর সেই ধারায় ফিরবে না। খাল খননে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না,

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, "খাল খনন হলে কৃষকের উপকারের পাশাপাশি এ অঞ্চলের পানির স্তর ঠিক থাকবে এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে।"

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ গত সরকারের লুটপাটের সমালোচনা করে বলেন, "বিগত আমলে চুয়াডাঙ্গার নবগঙ্গা খাল দখল করে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নির্মাণ করা হয়েছে, যা সরকারি খাল দখলের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। এবার আর শুধু অর্থের অপচয় হবে না, প্রকৃত কাজ হবে।"

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি চুয়াডাঙ্গার শিল্প ও কৃষির উন্নয়নে মন্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন যার মধ্যে দ্রুত দর্শনা স্থলবন্দর চালু করা।কৃষকদের স্বার্থে চুয়াডাঙ্গায় হিমাগার স্থাপন। চিকিৎসা সেবায় রাজশাহীগামী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রেল যোগাযোগ উন্নত করা। মাটি পরীক্ষার জন্য একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগার (ল্যাব) নির্মাণ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাউবো পশ্চিমাঞ্চল (ফরিদপুর)-এর প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা-সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

সভাপতির বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে আলমডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসার পানিসম্পদ মন্ত্রীর হাতে আলমডাঙ্গা বধ্যভূমির স্মৃতিবিজড়িত একটি ফটোফ্রেম সম্মাননা স্মারক হিসেবে তুলে দেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


চুয়াডাঙ্গায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কৃষির উন্নয়নে 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে কাজ করবে সরকার-  শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ 'ডি-১৫ এন (বেলগাছি ইছেরদাড়ী) খাল' পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের সূচনা করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

এর আগে সকাল ১১:৩০ মিনিটে পানিসম্পদ মন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। পাউবোর ১৪ জন ঠিকাদারের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হবে। খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১.৫ মিটার (প্রায় ৫ ফুট) নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৫ হাজার ২০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন। বেলগাছি, নাগদহ, আঁইলহাস ও জেহালা ইউনিয়নের কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি আলমডাঙ্গা পৌরসভার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, "অতীতে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, কিছু খাল দখল করে লিজ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে এবং কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে হলে খাল খননের কোনো বিকল্প নেই।"

তিনি আরও বলেন, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, তা পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এগিয়ে নেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রান্তিক কৃষকের স্বার্থে এই কার্যক্রম পুনরায় বেগবান করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রথম কেবিনেট মিটিংয়েই কৃষকদের ১০ হাজার টাকার নিচের সব কৃষিঋণ মওকুফ করে দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, "সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। খালের দুই তীরে গাছ লাগানো হবে।" খননকাজে যন্ত্রের পাশাপাশি নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে লুটপাট করেছে, বাংলাদেশ আর সেই ধারায় ফিরবে না। খাল খননে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না,

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, "খাল খনন হলে কৃষকের উপকারের পাশাপাশি এ অঞ্চলের পানির স্তর ঠিক থাকবে এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে।"

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ গত সরকারের লুটপাটের সমালোচনা করে বলেন, "বিগত আমলে চুয়াডাঙ্গার নবগঙ্গা খাল দখল করে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নির্মাণ করা হয়েছে, যা সরকারি খাল দখলের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। এবার আর শুধু অর্থের অপচয় হবে না, প্রকৃত কাজ হবে।"

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি চুয়াডাঙ্গার শিল্প ও কৃষির উন্নয়নে মন্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন যার মধ্যে দ্রুত দর্শনা স্থলবন্দর চালু করা।কৃষকদের স্বার্থে চুয়াডাঙ্গায় হিমাগার স্থাপন। চিকিৎসা সেবায় রাজশাহীগামী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রেল যোগাযোগ উন্নত করা। মাটি পরীক্ষার জন্য একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগার (ল্যাব) নির্মাণ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাউবো পশ্চিমাঞ্চল (ফরিদপুর)-এর প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা-সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

সভাপতির বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে আলমডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসার পানিসম্পদ মন্ত্রীর হাতে আলমডাঙ্গা বধ্যভূমির স্মৃতিবিজড়িত একটি ফটোফ্রেম সম্মাননা স্মারক হিসেবে তুলে দেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ