ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাজশাহীতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান


আলামিন হক বিজয়
আলামিন হক বিজয়
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
ছবি : প্রতিনিধি

রাজশাহীতে পূর্বের ন্যায় নবাগত জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সকল উপজেলা প্রশাসনকে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে আইন মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলার বোয়ালিয়া (সদর) উপজেলা ব্যতিত ৯টি উপজেলা কৃষি নির্ভর। এই কৃষি নির্ভর উপজেলা গুলোতে কিছু অসাধু মৎস্য চাষি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে, আইনকে তোয়াক্কা না করেই কৃষি জমির মূল্যবান টপসয়েল কেটে অবৈধ পুকুর খনন শুরু করছে। বেরসিক প্রশাসন একের পর এক অভিযানের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা করে জেল, জরিমানা সহ দিচ্ছেন নিয়মিত মামলা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলায় গত ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি ২ দিনে ২৮টি এক্সকেভেটর (ভেকু) নিষ্ক্রিয় করেন লাইলা নূর তানজু, সহকারী কমিশনার(ভূমি), দুর্গাপুর এছাড়াও কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় সহ দিয়েছেন জেলা ও করেছেন নিয়মিত মামলা। বর্তমানে দুর্গাপুর সহ কিছু উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন একেবারে বন্ধ। যা প্রশংসার দাবিদার।

সূত্র বলছে,তবে সম্প্রতি বাগমারা উপজেলায় কিছু এলাকায় অবৈধ পুকুর খননের তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারা উপজেলার মোঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।

৯ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের মচমইল গ্রামের মচমইল মোজার প্রায় ৬০০ বিঘা,গনিপুর ইউনিয়নের কুটালীপাড়া ৪৫ বিঘা এবং কুমাড়নিতলা ২৫ বিঘা জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন চলছিল পুকুর খননকারীদের না পেয়ে ৩ টি এক্সকেভেটর (ভেকু) নিষ্ক্রিয় করেন সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও গনিপুর ইউনিয়ন এর যশোপাড়ায় সরকারি খাস পুকুরে অনুমতি বিহীন বালু উত্তোলন করার অভিযোগে স্পটে বালু উত্তোলনকারী একটি ড্রেজার নিষ্ক্রিয় করেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, অবৈধ পুকুর খননকারী গণ প্রভাবশালী ও বিভিন্ন দলের রাজনীতি নেত্রী বৃন্দ। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাই না। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে তাদের নাম প্রকাশে ভয় পান। তবে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনে অনেকটাই সক্ষম হয়েছেন সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাগমারা।

কথা হয় মোঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাগমারা। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধভাবে/ অনুমতিবিহীন পুকুরের মাটি খনন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে দুষ্কৃতকারী কাউকে না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

এই সময় কৃষি জমির মূল্যবান টপসয়েল কাটার মোট ৩টি এক্সকেভেটর (ভেকু) ও ১ টি ড্রেজার মেশিন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে । তিনি আরো বলেন, অভিযান পরিচালনা সময়ে বালুমহাল ইজারা প্রদান ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন"বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০( ২০১০ সনের ৬২ নং আইন )" এই আইন মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রাজশাহীতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজশাহীতে পূর্বের ন্যায় নবাগত জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সকল উপজেলা প্রশাসনকে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে আইন মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলার বোয়ালিয়া (সদর) উপজেলা ব্যতিত ৯টি উপজেলা কৃষি নির্ভর। এই কৃষি নির্ভর উপজেলা গুলোতে কিছু অসাধু মৎস্য চাষি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে, আইনকে তোয়াক্কা না করেই কৃষি জমির মূল্যবান টপসয়েল কেটে অবৈধ পুকুর খনন শুরু করছে। বেরসিক প্রশাসন একের পর এক অভিযানের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা করে জেল, জরিমানা সহ দিচ্ছেন নিয়মিত মামলা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলায় গত ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি ২ দিনে ২৮টি এক্সকেভেটর (ভেকু) নিষ্ক্রিয় করেন লাইলা নূর তানজু, সহকারী কমিশনার(ভূমি), দুর্গাপুর এছাড়াও কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় সহ দিয়েছেন জেলা ও করেছেন নিয়মিত মামলা। বর্তমানে দুর্গাপুর সহ কিছু উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন একেবারে বন্ধ। যা প্রশংসার দাবিদার।

সূত্র বলছে,তবে সম্প্রতি বাগমারা উপজেলায় কিছু এলাকায় অবৈধ পুকুর খননের তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারা উপজেলার মোঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।

৯ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের মচমইল গ্রামের মচমইল মোজার প্রায় ৬০০ বিঘা,গনিপুর ইউনিয়নের কুটালীপাড়া ৪৫ বিঘা এবং কুমাড়নিতলা ২৫ বিঘা জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন চলছিল পুকুর খননকারীদের না পেয়ে ৩ টি এক্সকেভেটর (ভেকু) নিষ্ক্রিয় করেন সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও গনিপুর ইউনিয়ন এর যশোপাড়ায় সরকারি খাস পুকুরে অনুমতি বিহীন বালু উত্তোলন করার অভিযোগে স্পটে বালু উত্তোলনকারী একটি ড্রেজার নিষ্ক্রিয় করেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, অবৈধ পুকুর খননকারী গণ প্রভাবশালী ও বিভিন্ন দলের রাজনীতি নেত্রী বৃন্দ। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাই না। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে তাদের নাম প্রকাশে ভয় পান। তবে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনে অনেকটাই সক্ষম হয়েছেন সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাগমারা।

কথা হয় মোঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাগমারা। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধভাবে/ অনুমতিবিহীন পুকুরের মাটি খনন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে দুষ্কৃতকারী কাউকে না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

এই সময় কৃষি জমির মূল্যবান টপসয়েল কাটার মোট ৩টি এক্সকেভেটর (ভেকু) ও ১ টি ড্রেজার মেশিন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে । তিনি আরো বলেন, অভিযান পরিচালনা সময়ে বালুমহাল ইজারা প্রদান ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন"বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০( ২০১০ সনের ৬২ নং আইন )" এই আইন মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ