রাজশাহী প্রতিনিধিঃ দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে রাজশাহীর মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশন। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধান, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারের নজরদারিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজশাহী মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানাধীন তকিপুর এলাকায় অবস্থিত এই ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই তেল নিতে আসা শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বাইক, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই এই ফিলিং স্টেশনটি নিয়ম মেনে তেল বিতরণের জন্য পরিচিত। স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে অবস্থিত ‘৯০ দশ’ নামক একটি হোটেলের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আয়নাল হক বলেন, “সকাল ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত এখানে তেল দেওয়া হয়। আমরা কখনোই এই পাম্প থেকে অনিয়ম বা অবৈধভাবে তেল বিতরণ হতে দেখিনি।”
তেল নিতে আসা একাধিক বাইকার, ট্রাক চালক ও গাড়ির মালিক-চালকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, সারাদেশে যখন জ্বালানি সংকট চলছে, তখন এই পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, তেল নিতে আসা প্রতিটি যানবাহনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স টোকেন এবং হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে- যা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
জেলা প্রশাসকের নিয়োগকৃত ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা মোঃ ফরহাদ হোসেন জানান, “আমাদের সঙ্গে আরও দুইজন কর্মকর্তা রয়েছেন। আমরা সকাল সাড়ে ৮টায় এসে স্টক যাচাই করি। সবকিছু ঠিক থাকলে সকাল ৯টা থেকে তেল বিতরণ শুরু করা হয় এবং মজুদ থাকা পর্যন্ত তা চলতে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, তেল বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং হেলমেট যাচাইয়ের পাশাপাশি জোড়-বিজোড় নম্বর অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে, যাতে সবাই সমান সুযোগ পায়।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রাকিব ইসলাম বলেন, “দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। তবে যতটুকু পাচ্ছি, তা সমানভাবে বণ্টনের চেষ্টা করছি। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি সুবিধা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই- মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশন কোনো ধরনের দুর্নীতি করে না এবং তা প্রশ্রয়ও দেয় না।”
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুমা মুস্তারি বলেন, “আমাদের থানা এলাকায় এটিই একমাত্র তেল বিতরণ কেন্দ্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশের উপস্থিতিতে তেল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ মাঠে থাকবে।”
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগে তেল বিতরণে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে, যা সংকটকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়েছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে রাজশাহীর মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশন। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধান, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারের নজরদারিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজশাহী মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানাধীন তকিপুর এলাকায় অবস্থিত এই ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই তেল নিতে আসা শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বাইক, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই এই ফিলিং স্টেশনটি নিয়ম মেনে তেল বিতরণের জন্য পরিচিত। স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে অবস্থিত ‘৯০ দশ’ নামক একটি হোটেলের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আয়নাল হক বলেন, “সকাল ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত এখানে তেল দেওয়া হয়। আমরা কখনোই এই পাম্প থেকে অনিয়ম বা অবৈধভাবে তেল বিতরণ হতে দেখিনি।”
তেল নিতে আসা একাধিক বাইকার, ট্রাক চালক ও গাড়ির মালিক-চালকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, সারাদেশে যখন জ্বালানি সংকট চলছে, তখন এই পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, তেল নিতে আসা প্রতিটি যানবাহনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স টোকেন এবং হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে- যা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
জেলা প্রশাসকের নিয়োগকৃত ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা মোঃ ফরহাদ হোসেন জানান, “আমাদের সঙ্গে আরও দুইজন কর্মকর্তা রয়েছেন। আমরা সকাল সাড়ে ৮টায় এসে স্টক যাচাই করি। সবকিছু ঠিক থাকলে সকাল ৯টা থেকে তেল বিতরণ শুরু করা হয় এবং মজুদ থাকা পর্যন্ত তা চলতে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, তেল বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং হেলমেট যাচাইয়ের পাশাপাশি জোড়-বিজোড় নম্বর অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে, যাতে সবাই সমান সুযোগ পায়।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রাকিব ইসলাম বলেন, “দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। তবে যতটুকু পাচ্ছি, তা সমানভাবে বণ্টনের চেষ্টা করছি। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি সুবিধা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই- মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশন কোনো ধরনের দুর্নীতি করে না এবং তা প্রশ্রয়ও দেয় না।”
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুমা মুস্তারি বলেন, “আমাদের থানা এলাকায় এটিই একমাত্র তেল বিতরণ কেন্দ্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশের উপস্থিতিতে তেল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ মাঠে থাকবে।”
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগে তেল বিতরণে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে, যা সংকটকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন